Logo
শিরোনাম

নেত্রকোনায় ভয়াবহ হচ্ছে বন্যা, আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ১৬ হাজার মানুষ

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরমধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জেলার সঙ্গে উপজেলার দুটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ছয় উপজেলায় সাড়ে ১৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা দুটির শহর থেকে শুরু করে সবগুলো গ্রামেই বন্যার পানি ঢুকেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ। এছাড়া খালিয়াজুরি, সদর, আটপাড়া ও বারহাট্টা উপজেলা মিলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, জেলার ছয়টি উপজেলায় ১৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১৬ হাজার ৪৮০ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলাসহ মেডিকেল টিম নিয়োজিত হয়েছে। জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবীসহ প্রশাসনের লোকজন মানুষসহ গোবাদি পশু নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় এরইমধ্যে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে ক্রমশ পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ডুবে যাচ্ছে। জেলার সঙ্গে কলমাকান্দার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি, পোগলা, সদর, নাজিরপুর ও বড়খাপন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে সব গ্রামগুলোতেই পানি আর পানি। কলমাকান্দা শহরের সব এলাকায় পানি থৈই থৈই করছে। শুকনো ধান, চালসহ ঘরের আসবাপত্র সব কিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিচ্ছেন।

প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কলমাকান্দ-ঠাকুরাকোনা নবনির্মিত সড়কের স্থানে স্থানে মানুষ তাবু টানিয়ে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। ওই সড়কটির হিরাকান্দা, আশারানী, পাবই, বাহাদুরকান্দাসহ বেশ কিছু স্থান নিচু থাকায় বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সড়কের কোথাও কোথাও কোমর পানি। এতে করে জেলার সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সহ চানপুর, নদীপাড়, পশ্চিমবাজার, মধ্যবাজার, পূর্ববাজার, কলেজ রোডসহ প্রায় সব এলাকায় এখন হাঁটুপানি থেকে বুকপানি। বন্যার পানিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে।

কলমাকান্দার কৈলাটি ইউনিয়নের ঘনিচা গ্রামের ময়না মোড়ল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর থেকে পানি বেড়ে এখন তার ঘরে কোমরপানি। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দুপুরে অন্যের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও পানি থাকায় সড়কের পাশে একটি বাজারে দোকান ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াদুল্লাহ বলেন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টাসহ ছয়টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কংস, মোমেশ্বরী, ধনু, উব্দাখালিসহ কয়েকটি নদ নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে। গতকাল শুক্রবার শুধু দুর্গাপুরেই ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, কলমাকান্দায় বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। উপজেলায় ৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আড়াই হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে।


আরও খবর



টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আইন সচিবের শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার।

২৮ জুলাই তিনি আইন ও বিচার বিভাগের সচিব পদে যোগদান করেন। এর আগে একই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) সড়ক পথে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আইন সচিবের সঙ্গে ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের উপ-সচিব ড. শেখ গোলাম মাহবুব, শেখ হুমায়ুন কবীর, ড. একেএম এমদাদুল হক, এস. মোহাম্মদ আলী ও আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ, উপ-সলিসিটর কাজী শহিদুল ইসলাম ও নুসরাত জাহান।

এছাড়া সচিবের একান্ত সচিব এসএম মাসুদ পারভেজসহ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের রুহের মগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।


আরও খবর



হিটেই বাদ দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2 | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

জন্ম এবং বেড়ে ওঠা দেশেই কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান। পরিচিত আলো-বাতাসেও নিজের পারফম্যান্সে বেশি উন্নতি করতে পারলেন না। ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামে চলমান ২২তম কমনওয়েলথ গেমসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিট থেকেই বাদ পড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে ইমরানুর সাতজনের মধ্যে হয়েছেন তৃতীয়। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৪৬ সেকেন্ড। সব মিলিয়ে হিটে অংশ নেওয়া ৭০ জন স্প্রিন্টারের মধ্যে ইমরানুর হয়েছেন ৩৩তম।

গত ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের হিটের প্রিলিমিনারি রাউন্ড থেকে প্রথম রাউন্ডে পৌঁছান তিনি। প্রিলিমিনারি রাউন্ডের বাছাইয়ে ইমরানুর সময় নিয়েছিলেন ১০.৪৭ সেকেন্ড।

জানুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০.৫০ সেকেন্ড দৌড়ে ইমরানুর গড়েছিলেন নতুন জাতীয় রেকর্ড। সেবার ভেঙেছিলেন ২২ বছরের পুরোনো জাতীয় রেকর্ড। মার্চে বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকসে ৬০ মিটারে ৬.৬৪ সেকেন্ড দৌড়ে সেমিফাইনালে ওঠেন ইমরানুর।

বার্মিংহ্যামে অন্তত সেমিফাইনালে উঠবেন, এমন একটা স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। কিন্তু ইমরানুরের সেমিফাইনালে ওঠা হলো না। বিদায় নিলেন হিট থেকেই। তারপরের মিশন ইসলাসী সলিডারিটি গেমস। ৯-১৮ আগস্ট তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে এই গেমস।


আরও খবর



এক্সপ্রেসওয়েতে বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচলেন গোপালগঞ্জের ডিসি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ জুলাই 20২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক্সপ্রেসওয়েতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শহিদা সুলতানার গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে একটি বাস। শুক্রবার (২২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর দোগাছি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা গাড়িতে থাকলেও তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) জহিরুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহিদা সুলতানা। রাত ৯টার দিকে দোগাছি এলাকায় পৌঁছালে একই লেনের চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তার গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষীও গাড়িতে ছিলেন। তবে কেউ আহত হননি। আমরা ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দ করেছি। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার কিছু সময় পরই জেলা প্রশাসক ঢাকার উদ্দেশ্য চলে গেছেন।

jagonews24

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, হঠাৎ আমার গাড়িটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বাসটি। হালকা আঘাত পেয়েছি, তবে কোথাও কাটেনি। বলা যায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। এখনো কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে। ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে এসেছি, তবে এখনো পৌঁছাইনি।


আরও খবর



চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

মৎস্য খাতে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়াও বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের ১১ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার অন্য দুই দেশ ভিয়েতনাম এবং মিশর।

মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ আহরণে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার, ২০২২’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চাষের মাছ উৎপাদনে তিনটি দেশ বিশ্বের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এবং আফ্রিকায় মিশর এই সাফল্য দেখিয়েছে।

বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ। মাথাপিছু প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে মানুষ এখন ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে। দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এখন মৎস্য খাতের অবদান। বিগত ১২ বছরে মৎস্য খাতে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক ১ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের অবদান ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

ইলিশ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল

বিশ্বে ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের অধিক, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ লাভ করেছে। ফলে পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ আহরণকারী বাংলাদেশ এখন থেকে বিশ্বে উপস্থাপিত হবে ইলিশের দেশ হিসেবে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা কর্মসূচি নিয়েছে। জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের চার মাস ভিজিএফ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মা-ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন ও মজুত বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

jagonews24সরকারের নানা উদ্যোগে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে

সরকারের এ ব্যাপক কর্মযজ্ঞের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হয়েছে। এটি ২০১০-১১ অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদনের (৩ দশমিক ৪০ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ৬৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফেরাতে উদ্যোগ

দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এ পর্যন্ত ৩৬ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন কৌশল ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেছে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক। এই জিন ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সম্প্রতি দেশের ১০ জেলার ৪৯ উপজেলায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণ, শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং মুক্তা চাষ সম্প্রসারণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

jagonews24

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রায় ২০ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের ‘বিএফআরআই-সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্ত ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৪৯৪টি অভয়াশ্রম রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের রপ্তানি নিশ্চিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে চাষি পর্যায়ে রোগমুক্ত এবং মানসম্পন্ন পোনা সরবরাহে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা ও খুলনায় তিনটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মৎস্যচাষ পর্যায়ে ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাকোয়াকালচার মেডিসিনাল প্রোডাক্টস নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

রপ্তানিতে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের অবদান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং এসব পণ্যের রপ্তানি উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী কাঁকড়া, কুঁচিয়া ও সিউইডের চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান।

jagonews24২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম লাইভ জিন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত গলদা, বাগদা, হরিণাসহ বিভিন্ন জাতের চিংড়ি; স্বাদুপানির মাছ যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, কৈ প্রভৃতি এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ভেটকি, দাতিনা, রূপচাঁদা, কাটল ফিশ, কাঁকড়া ইত্যাদি রপ্তানি হয়। এছাড়াও শুঁটকি মাছ, মাছের আঁশ এবং চিংড়ির খোলসও রপ্তানি হয়। বর্তমানে চাষসহ প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি করা এসব মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্টস। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত আইকিউএফ, কুকড, ফিশ ফিলেট ইত্যাদি ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৪২ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা বিগত বছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।

১৯৭৪ সালে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে সমুদ্র ও এর সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমায় আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুত নিরূপণ, এ খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এবং গভীর সমুদ্রে মাছের টেকসই আহরণের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এই লক্ষ্যে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপকূলীয় জলাশয়ে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও সিউইড চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে কাজ করছে।

‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সর্বোত্তম আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ৩৮টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করা হয়েছে। আরভি ‘মীন সন্ধানী’ নামক মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজের মাধ্যমে চালানো অনুসন্ধানে ৪৫৭ প্রজাতির মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় প্রাণী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মৎস্য আহরণের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় প্রতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের নৌযান দিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগরে বিলুপ্তপ্রায় মাছের মজুত বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে সামুদ্র্রিক মাছের উৎপাদন ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নিত হয়েছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট উৎপাদনের (৫ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

jagonews24সাগরের মাছ আহরণ ও রপ্তানিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রোজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের মৎস্য খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ, মৎস্য গবেষণার উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশের কোনো অঞ্চল থেকে কোনো বিশেষ প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেলে জিন ব্যাংক থেকে সেসব অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মাছ আবার চাষ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্তি ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।

পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে আমরা মৎস্য খাতকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং মানসম্মত ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও সরবরাহে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে- যোগ করেন মন্ত্রী।


আরও খবর



ক্রিকেটখেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়লো আরও তিনটি

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

আরও তিনটি নতুন দেশকে ক্রিকেটখেলুড়ে দেশ হিসেবে সদস্যপদ দিলো আইসিসি। মঙ্গলবার রাতে বার্মিংহামে চলমান আইসিসির বার্ষিক সভায় এসেছে এ সিদ্ধান্ত। যার ফলে এখন স্বীকৃত ক্রিকেটখেলুড়ে দেশের সংখ্যা বেড়ে হলো ১০৮টি।

আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ পাওয়া দেশ তিনটি হলো- এশিয়া থেকে কম্বোডিয়া ও উজবেকিস্তান এবং আফ্রিকা থেকে আইভরি কোস্ট। যার সুবাদে এখন এশিয়ার ২৫টি ও আফ্রিকার ২১টি দেশ আইসিসির সদস্য হলো।

ক্রিকেটখেলুড়ে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বড় মানদণ্ড হলো নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন। যেখানে অন্ততপক্ষে ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে, পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ও নারী দলও থাকতে হবে।

নতুন তিন দেশই আইসিসির এ শর্তপূরণ করেছে। উজবেকিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশনের অধীনে ১৫টি নারী দল ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জন্যও রয়েছে ভিন্ন পরিকল্পনা।

আইভরি কোস্টের এরই মধ্যে রয়েছে তৃণমূলে শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো। জাতীয়ভাবে আটটি দল হিসেবে ন্যাশনাল লিগ আয়োজন করে তারা। এছাড়া নারী ক্রিকেট নিয়েও বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের কারণে কম্বোডিয়ার ক্রিকেট পরিকল্পনা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বছর শেষ হওয়ার আগেই নারী ক্রিকেটের দৃশ্যমান উন্নতির পরিকল্পনা জানিয়েছে তারা। এছাড়া আট দলের অংশগ্রহণে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও আয়োজন করা হবে।

আইসিসির সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল ইউক্রেনও। তবে দেশটির অবস্থা ক্রিকেট পরিচালনার জন্য পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন ঝুলিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আইসিসি। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে তারা।


আরও খবর