Logo
শিরোনাম

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট পরিদর্শনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৫জন দেখেছেন
Image

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস পরিদর্শন করেছেন। কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। বুধবার (১২ মে) তিনি পরিদর্শন করেন।

কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার কথা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী সবাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক ও স্বচ্ছ ধারণা দিতে কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের চলমান প্রচেষ্টার তিনি প্রশংসা করেন।

সরকারের প্রবাসী বান্ধবনীতি ও পদক্ষেপসমূহের বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

কনসাল জেনারেল ড. ইসলাম মন্ত্রীকে কনস্যুলেটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। পরে মন্ত্রী কনস্যুলেটের বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। কনস্যুলেটে আগত সেবাপ্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কনস্যুলেটের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কনস্যুলেটে কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে আহ্বান জনান। কনসাল জেনারেল ড. ইসলাম কনস্যুলেট সফরের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


আরও খবর



ইংল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেন ভাবনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫৫জন দেখেছেন
Image

ছোট পর্দর জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের রেক্সহ্যাম গ্লিন্ডার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন এ অভিনেত্রী।

বুধবার (১১ মে) সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। লন্ডনে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে সনদ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সেই ছবি প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে।

এরপর থেকেই বন্ধু-শুভাকাঙক্ষী আর ভক্তদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভাবনা। ভাবনাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা।

এই সার্টিফিকেট অর্জন করতে যে ভাবনাকে অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে জানা যায় ভাবনার পোস্ট থেকে। ভাবনা লিখেছেন, ‘কেউ বিশ্বাস করুক আর না-করুক নিজেকে বিশ্বাস করা সবচাইতে জরুরি। কেউ পাশে থাকুক না থাকুক নিজের পাশে নিজের থাকাটা জরুরি। খুবই জরুরি। আমার জীবনে আমি অনেকবার মা-বাবাকে খুশি করতে পেরেছি।

তবুও পরিবারের অন্যরা সবসময় আমার মা-বাবাকে আমার পড়াশোনা নিয়ে একটু খোঁচা দিয়ে কথা বলতে ছাড়তো না। কারণ মেয়ে নাচ করে, অভিনয় করে, পড়াশোনা তো আমাকে দিয়ে হবেই না। আমার মা-বাবা আমাকে জীবনে কোনোদিন ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্যে বলেনি। সব কিছুতেই আমার মা-বাবা আমার পাশে ছিল। যতবার আমি হেরে যাই আম্মু আব্বু আমাকে সাহস দেয়।’

ভাবনা আরও যোগ করেন, ‘আমার লেখাপড়ার জার্নিটা একদম সোজা ছিল না, অনেক কাজ মিস হয়েছে, অনেক কঠিন হয়েছে স্পেশালি এই করোনার সময়। তবুও আমি লেগে ছিলাম শুটিংয়ের সময়ও অনলাইনের ক্লাস মিস করিনি। আমার মা-বাবা, আমার বোন যাদের কারণে আমার মনে হয়েছে পড়তে হবে। তবে আমি তাদেরকে বেশি করে ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা আমাকে জাজ করে, যারা আমাকে ছোট করে কথা বলতে ভোলে না, যারা আমাকে টেনে ফেলে দিতে চায়, যাদের আমাকে দেখলে অনেক হাসি পায়, আমি সত্যি আপনাদের বেশি ভালোবাসি, আপনাদের কারণেই আমি চলতে থাকি নিজের মতো করে, আমি শুধু এতটুকু বলব আমার লেখাপড়া কেবল শুরু। আরও অনেক কাজ করতে চাই। একটি দিনও আমি বসে থাকতে চাই না। আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করবেন।’

২০১৭ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করার জন্য ইউনিভার্সিতে ভর্তি হন ভাবনা। সেখানে দুই বছর পড়ার সুযোগ পান। এরপর করোনার কারণে বাকি দুই বছর দেশে থেকেই অনলাইনেই ক্লাস করেন। নিজের কাজ-অভিনয় সব কিছু ম্যানেজ করা পড়াশোনা চালানো তার জন্য অনেক কঠিনই ছিল। তবে ফল হাতে পাওয়ার পর সব কষ্ট ভুলে গেছেন। আজ তিনি আনন্দিত।

বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ) থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন ভাবনা।


আরও খবর



এক্সিকিউটিভ নিচ্ছে ইবনে সিনা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২১জন দেখেছেন
Image

দ্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে ‘এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৬ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: দ্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড
বিভাগের নাম: পিডি

পদের নাম: এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম ফার্ম
অভিজ্ঞতা: ০১-০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়স: ২৫-৩২ বছর
কর্মস্থল: গাজীপুর

আবেদনের ঠিকানা: হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট, দ্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, তানিন
সেন্টার, ৩ আসাদগেট, মিরপুর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।

আবেদনের শেষ সময়: ২৬ মে ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



জাতীয় ঈদগাহে হামলার কোনো আশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৯জন দেখেছেন
Image

জাতীয় ঈদগাহে হামলার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। রোববার (১ মে) বেলা ১১টায় জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রয়োজনে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হবে। মুসল্লিদের জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু না আনার অনুরোধ করা হলো। আপনারা জামাতে অংশ নিতে একটু আগে চলে আসবেন।

ঢাকা শহরের যেসব বড় জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সেখানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপির সব থানাকে মুসল্লিদের নিরাপত্তার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা শহর এখন ফাঁকা, এখন ছিনতাই-ডাকাতি বেড়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা গত কয়েক দিন ধরে ছিনতাইকারীরের তালিকা করেছি। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ শতাধিক ছিনতাইকারীকে গেফতার করেছি। তবে নাগরিকদেরও সচেতন থাকতে হবে। কেউ আক্রান্ত হলে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদের ছুটিতে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লকারে রাখার পরামর্শ দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সারাবিশ্বেই লকার ব্যবস্থা রয়েছে। যারা গ্রামে যাবেন, মালামাল লকারে রাখেন। নিজের নিরাপত্তা আগে নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।


আরও খবর



‘ভাইরাল’ সমস্যায় দেশ, সমাধান কোন পথে?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

‘ভাইরাল’ বিষয়টি দেশে মহামারির আকার ধারণ করেছে। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে যে কোনো ইস্যু পেলেই মহাসমারোহে ঝাঁপিয়ে পড়ছি আমরা। এটা বেশি দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিছু পেলেই ভাইরাল করে। পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনামুখর হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থা বা ব্যক্তি স্বাভাবিক সময়ে নির্বিকার হলেও ভাইরাল হওয়ার সে বিষয়ে মনোযোগী হয়।

সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারের টিপকাণ্ড, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনি পালের ক্ষেত্রে স্কুল ড্রেসকে হিজাব বানিয়ে ভাইরাল করা হয়েছে। এছাড়া কিছুদিন আগে ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে সংখ্যালঘুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারও আগে নুসরাত হত্যাকাণ্ড, তনু হত্যাকাণ্ড ও একরামুল হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রামুর ঘটনাও সবার জানা। এগুলোর কিছু ছিল ইতিবাচক, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনমনে স্বস্তি এনেছে। আর কিছু ছিল নেতিবাচক, যা সমাজে সৃষ্টি করেছে অস্থিরতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভাইরাল প্রবণতা সমস্যা কি না, হলে এর সমাধান কোন পথে? এর থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কী?

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাল সব সময় সমস্যা নয়। কিছু বিষয় ভাইরাল হলে ইতিবাচক ফল আসে। কিছু বিষয় ভাইরাল হলে অস্থিরতা তৈরি হয়। নেতিবাচক বিষয় ভাইরাল হলে সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষকে সত্যটা বিচার-বিশ্লেষণ করতে জানতে হবে। প্রভেদ জানতে হবে গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের। ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগ বুঝতে হবে। পাশাপাশি উদ্দেশ্যমূলক প্রচারকারীদের বিষয়ে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল জাগো নিউজকে বলেন, ভাইরাল হয় সাধারণত নেতিবাচক জিনিস। একজন যদি মনে করে অমুক ব্যক্তি খারাপ, তাকে গালি দেওয়া দরকার, অপমান করা দরকার, সে তো সামনে গিয়ে গালি দিতে পারে না। যুক্তি বা তথ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমেও লিখতে পারে না। তখন সে ব্যক্তিগত মিডিয়ায় প্রচার করে। এটা সে তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে করে। যার বা যাদের বিরুদ্ধে লিখলো, তারা হয়তো জানলোও না। তবে সে একটা তৃপ্তি পেলো যে, আমি তাকে সকালবেলা একটা গালি দিতে পারছি, অপমান করতে পারছি।

এ সমস্যার সমাধানের দুটো পথ আছে বলে মনে করেন এই সাংবাদিক নেতা। তিনি বলেন, একটি কঠোর পথ। সেটা হলো- যারা এমন অপপ্রচার করে, যুক্তি, তথ্য ও পরিসংখ্যান ছাড়া কোনো বিষয় প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পথে এগোতে হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মূল দর্শনই ছিল এটি। তথ্য, যুক্তি ও পরিসংখ্যান ছাড়া উগ্রপন্থি, ব্যক্তি বিদ্বেষমূলক, ধর্ম বিদ্বেষমূলক কিছু যদি প্রচার করা হয়, যেটা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, সেটাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার জন্য শক্ত লাইনে যেতে হবে। মিডিয়াটি বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। ফেসবুককে ধমক দেওয়া যেতে পারে। যেটা ভারতে হয়েছে। ভারত টুইটারকে বলেছে, আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার হয়েছে- বন্ধ না করলে ভারতে টুইটারই বন্ধ করে দেবো। টুইটার দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ভালো করুক বা মন্দ করুক, ভারতের কাশ্মীরে দীর্ঘসময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। এগুলো হার্ডলাইন।

‘আরেকটি হলো সফটলাইন। ক্যাম্পেইন করা, মানুষকে সচেতন করা যে, আপনি সত্যটা বিশ্বাস করেন। এই সত্যটা হলো- যেটা তথ্য, যুক্তি ও পরিসংখ্যান দিয়ে উপস্থাপন করা হয়, যা দেখছেন তাই সত্য নয়। এজন্য মানুষের মধ্যে মিডিয়া সাক্ষরতাও তৈরি করতে হবে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়েছে কয়েক বছর হলো। এটার তো কিছু নিয়ম-নীতি আছে। সেগুলোও প্রতিপালনে সচেতন হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেকগুলো টিম কাজ করছে। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে ভাবছি, কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘গুজব’ এখন আমাদের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব গুজব রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অস্থিরতা তৈরি করে। এটা দুই ধরনের- একটা হলো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে গুজব ছড়ানো, যেটা বাংলাদেশের অনেক আইনে অপরাধ। আরেকটা হলো- অজ্ঞতাবশত যাচাই-বাছাই না করে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। যেমন- ‘নায়ক ফারুক মারা গেছেন’ তথ্য দেওয়া হলো। আসলে খবর নিয়ে দেখা গেলো, মারা যায়নি। এটাও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। এজন্য গণসচেতনতা দরকার। মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার। বুঝে না বুঝে, জেনে না জেনে এভাবে তথ্য ছড়ানোও যে এক ধরনের আইনের লঙ্ঘন, এটার জন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

jagonews24টিপকাণ্ডে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য/ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জাগো নিউজকে বলেন, ভাইরালের দুটো দিক আছে। একটা নেতিবাচক আরেকটা ইতিবাচক। সবগুলোকে আমি খারাপ চোখে দেখি না। যেমন- তনু হত্যাকাণ্ড এটা ভাইরাল না হলে মানুষের সামনে আসতো না। একই ধরনের ঘটনা কিন্তু আমরা দেখেছি কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুলের ব্যাপারে।একরামুলের অডিও রেকর্ডভাইরাল হওয়ায় মানুষ জানতে পেরেছে, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরীহ মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অপকর্মের ফাস্টহ্যান্ড এভিডেন্স হিসেবে এই অডিও কাজ করেছে। এছাড়া বিশ্বজিতের ঘটনা ও নুসরাত হত্যাকাণ্ড ভীষণভাবে ভাইরাল হয়েছে। এগুলোকে আমি ইতিবাচক বলবো। আর কিছু ভাইরাল আছে নেতিবাচক। যেগুলো সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটু বেশি সচেতন থাকতে হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা ইন্টারনেটে অভ্যস্ত হয়েছি বেশিদিন হয়নি। নেটের ব্যবহার বিষয়ে আমাদের মধ্যে খুব একটা সচেতনতাও তৈরি হয়নি। আমরা একটা ট্রায়াল প্রসেসে আছি। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সংস্থাগুলোকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। কিছুদিন আগে দুর্গাপূজার সময় যে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলো। বহু মানুষ আহত হয়েছে, বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। এটা তো এই ফেসবুককাণ্ড থেকেই। সে সময়ে আমরা দেখেছি, পুলিশ বহু ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। অথচ পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এটা এতদূর ছড়াতে পেরেছে। সুতরাং আমরা যেহেতু এখন ট্রানজিশনাল অবস্থায় আছি, এই নেট দুনিয়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হচ্ছি- এই সময়টাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সংস্থাগুলোকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তারিক বিন রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব সময় আমাদের নজরদারির মধ্যে থাকে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব না। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার। যেমন- মিডিয়ার সহযোগিতা লাগবে আগে। মানুষ যখন সচেতন হবে, তখন আর স্বার্থান্বেষী মহল এই সুযোগ পাবে না।

তিনি বলেন, যখন আমরা একটু অসচেতন হই বা হুজুগের পেছনে ছুটি, তখনই মিথ্যা সংবাদ দিয়ে বা ভুয়া কিছু দিয়ে ভাইরাল করা যায়। মানুষ যখন মিডিয়ার মাধ্যমে এগুলো আরও বুঝতে পারবে ভালোভাবে, তখন এগুলো ভালোভাবেই কন্ট্রোল করা যাবে। মূলধারার গণমাধ্যমের মাধ্যমে যে কোনো বিষয় যাচাই করা সম্ভব।

মিডিয়া সাক্ষরতা কী?
ভাইরাল সমস্যার সমাধানে সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রথম সমাধান হলো- গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পার্থক্য বোঝা। ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে সবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এই সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্যা হলো- তার কোনো এডিটর নেই, যা খুশি তাই প্রচার করতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি খুব শক্তিশালী। এটাতে কিছু দিলে দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু পৃথিবীর বহু দেশেই সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যক্তিগত মিডিয়া আছে। তবে এটা সংবাদমাধ্যম নয়। যদিও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এর মিল আছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এডিটর আছে, গেটকিপার আছে। কোনটা করা যাবে, কোনটা যাবে না, এটা ঠিক করার জন্য দায়িত্বশীল লোক আছে। যেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই। ফলে সংবাদমাধ্যমের ভুল ধরা যায়, ব্যবস্থাও নেওয়া যায়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গেটকিপার নেই। যার যা খুশি তাই দিচ্ছে। ভালো-মন্দ দুটোই। তারা ভালোটার জন্য প্রশংসা পায়, মন্দটার জন্যও পায়। এটা হলো প্রথম বিপদ।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিপদ হলো- সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা সবই বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাসের জায়গাটাও বিপজ্জনক। এখানে একটা বড় জটিলতা আছে। গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়, সেটা সত্য হতে হবে। আমরা বলি সত্যের বিকল্প নেই। এই সত্যও কিন্তু চার ধরনের। এক. গণমাধ্যমে বা সংবাদমাধ্যমে যা ছাপা হয় তাই বিশ্বাস করে। মনে করে ছাপার অক্ষরে যা আসে তাই সত্য। দুই. এই মাধ্যমে যাই ছাপা হোক, তার কিন্তু নিজেরও একটা মত আছে। এটা বোধহয় এরকম নয়, এই রকম। অর্থাৎ সত্য মানুষ নিজের মতো করে ধারণা করে। তিন. মানুষ নিজে নিজে ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। অর্থাৎ যা ছাপা হয়েছে সেটা ঠিক নয়। ছাপা যা হয়েছে তার থেকে নিজের মতো করে একটা ব্যাখা দাঁড় করায়। এই তিনটা সত্যের মধ্যে কোনো যুক্তি নেই, মানুষের বিশ্বাস সত্যে। চার. ব্যাক বাই ফ্যাক্টস অর্থাৎ যুক্তি, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে যে সত্য। একটা সংবাদমাধ্যম যদি যুক্তি, তথ্য, প্রমাণ পরিসংখ্যান দিয়ে সংবাদ প্রচার করে, সেটা সত্য। সেটা ভাইরাল হোক আপত্তি নেই। এটা কার পক্ষে গেলো বা বিপক্ষে গেলো তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু দুঃজনকভাবে যা ভাইরাল হয়, তার মধ্যে কোনো যুক্তি, তথ্য, পরিসংখ্যান উপাত্ত থাকে না। কিন্তু এটাও প্রচারিত হয়। কোনো কোনো মানুষ বিশ্বাসও করে।

‘এজন্য আমরা সব সময় বলি, একটা সমাজে গণমাধ্যমের সাক্ষরতা বড় বিষয়। কোনো কিছু ছাপা বা প্রকাশিত হলেই মানুষ তা বিশ্বাস করবে না, তারা তথ্য-উপাত্ত-যুক্তি দিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার-বিবেচনা করার চেষ্টা করবে।’

বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র জাগো নিউজকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেহেতু সবার জন্য উন্মুক্ত, যে ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হবে, তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আমাদের জানাবে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। অর্থাৎ, যে ক্ষুব্ধ হবে তাকে হয় থানায় যেতে হবে বা আদালতে যেতে হবে অথবা বিটিআরসিতে অভিযোগ করতে হবে। তখন আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

দেশের বিষয় বা সামাজিক সংকট তৈরি করে এমন কিছু হলে? জবাবে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রের বিষয় হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিটিআরসি দেখবে। আমাদের মনিটরিং সেল আছে, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মনিটরিং সেল আছে, তারা এগুলো দেখভাল করে।

এ বিষয়ে কথা হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পারবে। এটি আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। আমরা হুকুম তামিল করি মাত্র।


আরও খবর



আইপিএল ছাড়ছেন উইলিয়ামসন

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৯জন দেখেছেন
Image

মঙ্গলবার রাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক জয়ে দল প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এমন সময়ে দলকে ছেড়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

নিউজিল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটারের স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের অপেক্ষায়। এই সময়টায় স্ত্রীর পাশে থাকতেই আইপিএল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উইলিয়ামসন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক পোস্টের মাধ্যমে শুভকামনা জানিয়েছে উইলিয়ামসনকে। তারা লিখেছে, ‘রাইজার ক্যাম্পের সবাই কেন উইলিয়ামসন এবং তার স্ত্রীর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে। তাদের অবারিত আনন্দ দিয়ে যেন নিরাপদে নতুন অতিথির আগমন হয়।’

উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতে হায়দরাবাদের নেতৃত্বভার বর্তাতে পারে ভুবনেশ্বর কুমারের ওপর। এর আগেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাবনায় আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাদা বলের অধিনায়ক নিকোলাস পুরানের নামও।

উইলিয়ামসন এবারের আইপিএলে খুব একটা ভালো ফর্মে ছিলেন না। কমপক্ষে ১০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে তার স্ট্রাইকরেট ছিল সবচেয়ে কম (৯৩.৫০)।

কিউই অধিনায়ক দল ছাড়ার পর সানরাইজার্সের হয়ে অভিষেক হতে পারে তারই স্বদেশি গ্লেন ফিলিপসের। কিউই এই অলরাউন্ডার টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অফস্পিন বোলিংও করতে পারেন।


আরও খবর