Logo
শিরোনাম

ওভারিয়ান সিস্ট থেকে মুক্তি পেতে নারীরা যা করবেন

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪২জন দেখেছেন
Image

বর্তমানে নারীদের মধ্যে পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম) বা পিসিওডির (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ) সমস্যা বেড়েছে। এটি মূলত হরমোনের সমস্যা। এই রোগের কারণে নারীর ওভারিতে সিস্ট হয়।

যদিও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে সিস্ট থেকে মুক্তি মেলে। তবে নিয়মকানুন না মানলে কিংবা সঠিক চিকিৎসা না নিলে এই সমস্যা নারীর বন্ধ্যাত্বও ডেকে আনতে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত নারীর ডিম্বাশয় বেশি পরিমাণে অ্যান্ড্রোজেন তৈরি করে। যদিও এই হরমোন নারীর শরীরে খুব কম থাকে, কারণ এটি মূলত পুরুষের হরমোন।

ডিম্বাণু তৈরি হওয়ার জন্য যে হরমোনের প্রয়োজন সেটি যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি না হলে, ডিম্বাণু তৈরি করতে পারে না শরীর। ফলে ডিম্বাশয়ের বাইরে ছোট ছোট সিস্ট দিয়ে একটা আস্তরণ তৈরি হয়।

এর ফলে নারীর শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। যেমন অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ওজন বেড়ে যাওয়া, মন-মেজাজ খারাপ থাকা, শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না, গর্ভধারণে সমস্যা ইত্যাদি।

সাধারণত কমবয়সীদের মধ্যেই এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে সন্তান হওয়ার পর কিংবা ৩০ বছর বয়সী নারীর মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওডি মূলত লাইফস্টাইল ডিজিজ।

কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পিসিওএস থেকে রেহাই পেতে কার্ডিও ব্যায়াম সবচেয়ে উপযোগী।

প্রতিদিন সকালে ২০ মিনিট জোরে হাঁটা বা জগিং করা, সাইক্লিং, সাঁতার ও ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম এই রোগ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। এর পাশাপাশি যোগব্যায়ামও বেশ উপকারী।

এক্ষেত্রে সূর্যনমস্কার করতে পারেন। এটি সম্পন্ন করতে মোট ১২টি আসন করতে হয়। যা খুবই উপকারী শরীরের জন্য। এছাড়া ভুজঙ্গাসন, বক্রাসন, পবনমুক্তাসন, জানুশিরাসন, নৌকাসন, নভ্যাসন নিয়মিত করলে মিলবে উপকার।

প্রতিটি আসনই ১-৩ মিনিট সময় ধরে ধরে করুন। প্রথমেই হয়তো বেশি সময় করা সম্ভব নয়। ৩০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে হবে। একেকটি ব্যায়াম ৩-৪ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ইস্টার্ন মেডিসিনের ঐতিহ্যবাহী আকুপাংচার পেলভিক অস্বাস্তসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যথা ও উদ্বেগ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। আকুপ্রেসার ম্যাসেজ, শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রশিক্ষণ, ধ্যান, ভেষজ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষুদ্র সূঁচ ফোটানোর থেরাপিও পিসিওডির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট, গুরুগ্রাম ও কালোসা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. দীপ্তি আস্থানা জানান, শরীরচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবার একেবারেই বাদ দিন খাদ্যতালিকা থেকে। আর মিষ্টি খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে। তবে ধীরে ধীরে এই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন আপনি।

এমন রোগীরা অবশ্যই বেশি করে শাকসবজি ও ফল খাবেন। এর পাশাপাশি আদা, হলুদ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ক্যামোমাইল চায়ে প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব আছে, এটিও অন্তর্ভূক্ত করুন খাদ্যতালিকায়।

অন্যদিকে ফ্ল্যাক্সসিড হরমোন ফাংশন সংশোধন করে ডিম্বাশয়ের সিস্ট দূর করতে সাহায্য করে। এতে প্রদাহবিরোধী উপাদান ছাড়াও ভিটামিন বি৬ আছে, যা হরমোন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

পিসিওসের চিকিৎসায় ম্যাগনেসিয়াম খুবই কার্যকরী। এই উপাদান ডিম্বাশয়ের সিস্টের সমস্যার সমাধান করে। তাই খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার অবশ্যই রাখুন।

সূত্র: ডা. দীপ্তি আস্থানারি ওয়েবসাইট


আরও খবর

কাঁচা কাঁঠালের কাবাব

শুক্রবার ২০ মে ২০22




যুদ্ধের মধ্যেই ঈদ জামাতে ইউক্রেনের মুসলিমরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৮জন দেখেছেন
Image

দেশে যুদ্ধ চলছে, যেকোনো সময় শত্রুর বোমা এসে পড়তে পারে মাথার ওপর, বেঘোরে হারাতে হতে পারে প্রাণ- এমন আশঙ্কা বুকে নিয়েই ঈদের নামাজে সমবেত হয়েছিলেন ইউক্রেনের মুসলিমরা। সোমবার (২ মে) মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মতো পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে ইউক্রেনেও। দেশটির একপ্রান্তে যখন তুমুল লড়াই চলছে, তখন অন্যপ্রান্ত কিয়েভে শান্তির বার্তা নিয়ে ঈদের নামাজে সমবেত হয়েছিলেন শত শত মুসলিম।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে জানা যায়, সোমবার ঈদের নামাজ আদায় করতে কিয়েভের ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার মসজিদে সমবেত হয়েছিলেন বহু মুসলিম।

এদিন ইউক্রেনীয় মুসলিমদের কাউন্সিলের সভাপতি সেরান আরিফভ বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে অনেক মুসলিম বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের কিছু লোক অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ কেউ ইউক্রেনের ভেতরই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজেছেন।

এসময় যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ইউক্রেন ও এর জনগণের পাশে দাঁড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করার আহ্বান জানান আরিফভ।

jagonews24

ইউক্রেনের ইজমাইল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব হিউম্যানিটিজের অধ্যাপক সাইফুল্লাহ রশিদভ সারা বিশ্বের মুসলিমদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সুস্থ জীবন কামনা করেছেন।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইউক্রেনীয় নাগরিক আলি আসাদি জানান, তারা আশা করছেন, যুদ্ধ তাড়াতাড়ি শেষ হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে অন্তত ২ হাজার ৮৯৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩ হাজার ২৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন ছেড়ে আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন ৫৪ লাখের বেশি মানুষ, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকের সংখ্যা অন্তত ৭৭ লাখ।


আরও খবর



হবিগঞ্জে কৃষকের ঈদ আনন্দ এবার ধানের মাঠে ম্লান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

রাত পোহালেই ঈদুল ফিতর। তবুও কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে নেই আনন্দ। নতুন জামা কাপড়েও নেই তাদের কোনো আগ্রহ। হবিগঞ্জে এবার কৃষকের ঈদ আনন্দ ধানের মাঠে বিলীন হয়ে গেছে। আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, নারী, পুরুষ সবাই ব্যস্ত বোরো ধান গোলায় তুলতে। ঝড়-বৃষ্টি আসতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া, সিদ্ধ আর শুকানোর কাজে কোমর বেঁধে নেমেছেন। বড়দের সঙ্গে সঙ্গ দিচ্ছেন শিশু, কিশোর, কিশোরীরাও।

jagonews24

কৃষক মো. আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের আবার ঈদ! যদি ঠিকমতো ধান তুলতে পারি তাহলেই শুকরিয়া। ঈদ করার মতো পরিবেশ এখন নেই। ধানের মাঠেই ঈদ করতে হবে। যদি ঈদ করতে যাই আর ঝড়-বৃষ্টি আসে তহলেতো আমাদের সবই শেষ হয়ে গেলো।

সদর উপজেলার ভোমাপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, গরিবের কিছুই নেই। বড় লোকেরাই সব খেয়ে বড় হয়। আগে থেকেই আমাদের বিক্রি করে তারা খাচ্ছে। এখনও বিক্রি করেই চলছে।

jagonews24

একই গ্রামের কৃষক মো. ফারুক মিয়া বলেন, এ বছর ধান কিছু রোগ শোকে নষ্ট হয়েছে। তবুও যা হয়েছে ফলন ভালোই হয়েছে। তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। এগুলো ঘরে তুলতে পারলেই হয়।

কৃষক আব্দুল বলেন, আমাদের আবার কিশের ঈদ। আমাদের ঈদ ধানের মাঠেই। ধান ঘরে তুলতে পারলেই ঈদ হলো। আমাদের ঈদ করার মতো কিছুই নেই। ঈদের দিকে তাকিয়ে আমাদের হবে না। তবে শ্রমিকের অভাবের কারণে ধান কাটতে পারছি না।

jagonews24

কৃষাণী মোছা. জুলেখা বেগম বলেন, ধান ভালো হয়েছে। এ ধান যদি ঘরে এনে তুলে রাখতে পারি তাহলেতো খেয়ে চলতে পারবো। ঈদ আমাদের কাছে বড় নয়। আরোজা খাতুন বলেন, আমাদেরতো ঈদ করার সময় নেই। আমরা এখন ধান তুলাই বড়।

মোছা. নাজমা বেগম বলেন, আমাদের আবার ঈদ কি? গরিবেরতো ঈদ নেই। আমরা এখন ধান তুলব না ঈদ করবো। কৃষক মো. সেলিম মিয়া বলেন, ঈদ বড় নয়। ধান হলো আমাদের জীবন। ধান যদি আমরা ঠিকমতো তুলতে পারি তবে পরিবার নিয়ে চলতে পারবো। শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের কৃষক মো. আক্তার মিয়া বলেন, ঈদ কি করবো। আমরাতো গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে আমাদের ধান গোলায় তুলতে হচ্ছে। ঈদ করার মতো অবস্থা আমাদের নেই। এখন ধান তুলাই হচ্ছে আমাদের ঈদ।

jagonews24

জালালাবাদ গ্রামের জামাল মিয়া বলেন, ফসল কিছু ভালোই হয়েছে। দিনও ভালো পেয়েছিলাম। কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে ভাই, সন্তানদের নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছি। ঝড়ের আগে যদি ধান তুলতে পারি তাহলেই হলো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) নয়ন মনি সূত্রধর জানান, জেলায় হাওরাঞ্চলে এরই মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। নন হাওরে হয়েছে ৩০ শতাংশ। রমজান ও ঈদের কারণে কিছুটা ঢিল হয়েছে।

jagonews24

তিনি বলেন, জেলায় বানের পানিতে খুব বেশি জমির ধান নষ্ট হয়নি। শুধু লাখাই উপজেলার হাওরেই কিছু নষ্ট হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৯০ হেক্টর। এরপরও ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয় ৪৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর। নন হাওরে আবাদ হয় ৭৫ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমি। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬ লাখ মেট্রিক টন।


আরও খবর



‘ঘটনা আদালত বা সাংবাদিকদের জানানো যাবে না’ মুচলেকায় শর্ত পুলিশের

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া ভেঙে দেওয়ার পরও অঙ্গীকারের বেড়াজারে কোথাও অভিযোগ করতে পারছেন না এক প্রবাসী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো থানা, আদালতে কিংবা সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করা যাবে না মর্মে মুচলেকা নিয়েছে পুলিশ। ঈদের আগের দিন এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বেলাল আখাউড়া উপজেলা সদরের রাধানগর এলাকার মৃত আবু ছায়েদের ছেলে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী। বর্তমানে ছুটিতে দেশে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলালের সঙ্গে জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী মৃত রাখাল চন্দ্র বণিকের ছেলে শিপন চন্দ্র বণিকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ বিরোধের জেরে গত ২ মে ভোরে শিপন বণিক ও তার সহযোগীরা বেলালের বাড়ির পাকা সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া ভেঙে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানানো হলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিপন বণিকসহ পাঁচজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।

আটকদের শনাক্ত করার কথা বলে বেলালকে থানায় ডাকা হয়। পরে বেলাসহ তিনজন থানায় গেলে তাদেরও আটক করে আদালতে চালান করে দেওয়ার ভয় দেখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার। পরে জায়গা নিয়ে চলমান বিরোধ স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করা, সালিশের আগ পর্যন্ত আর কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় থানা, আদালত, মিডিয়া বা কোনো সংস্থার কাছে অভিযোগ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে উভয় পক্ষকে ছেড়ে দেন পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার।

Police-(3).jpg

মুচলেকার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিপন জোর করে আমার বাড়ির জায়গা দখলে নিতে চান। ওইদিন (২ মে) ভোরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবলসহ আমার বাড়িতে এসে হামলা করেন। আমার বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে বাড়ির উঠানে ঘর তৈরির চেষ্টা করেন। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে উল্টো আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে আটকে রাখে।’

তিনি বলেন, ‘শিপনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এরপর বলা হয় দুইপক্ষকে আদালতে চালান করবে। পরে আমাদের দুই পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিকেল ৩টার দিকে ছেড়ে দেয়।’

এ বিষয়ে শিপন চন্দ্র বণিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো পক্ষই সালিশের সিদ্ধান্তের বাইরে থানায়, আদালত, মিডিয়া বা অন্য কোনো সংস্থায় অভিযোগ করতে পারবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। ওই সময় ওসি তদন্ত ছাড়া অন্য কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না। বিষয়টি একদিনের মধ্যে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু পৌরসভার মেয়র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব থাকায় তিনি ফেরার পর আমাদের বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হবে। ওই সালিশে আমি আমার বিরুদ্ধে আনা জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবো।’

Police

কারও কাছে অভিযোগ না করার মুচলেকা নেওয়ার বিষয়ে আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা এসে পুলিশের কাছে ২৪ ঘণ্টার সময় চান যে তারা স্থানীয়ভাবে এটি মীমাংসা করবেন। সাংবাদিক বা অন্য কারও কাছে অভিযোগ করা যাবে না এমন কথা আমরা কেন বলতে যাবো? থানায়তো সাংবাদিকরাও এসেছিলেন। এছাড়া জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।’

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, দুই পক্ষই মারামারি করেছিল। তারা যেন আবার মারামারি বা বিশৃঙ্খলা না করেন, সেজন্য মুচলেকা নেওয়া হয়।

কোথাও কোনো অভিযোগ করা যাবে না—পুলিশ এ মর্মে মুচলেকা নিতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুচলেকায় কী লেখা আছে সেটি আমি না দেখে বলতে পারবো না। তবে যদি কারও কাছে কোনো অভিযোগ না করার কথা লেখা থাকে, তাহলে সেটি অবান্তর। উনি চাইলে জাতিসংঘে গিয়ে অভিযোগ করুক, সমস্যা কী?’


আরও খবর



দ্বিতীয় ধাপে আজ বসছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৮জন দেখেছেন
Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার (২০ মে)। এদিন আবেদনকারীরা নিজ নিজ জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ জন।

দ্বিতীয় ধাপে শুক্রবার দেশের ২৯ জেলায় প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সাতটি জেলার সবকটি উপজেলায় এবং ২২টি জেলার আংশিক উপজেলার প্রার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তবে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়েছে সিলেট জেলার পরীক্ষা। এ জেলার পরীক্ষা হবে ৩ জুন।

এবার তিন ধাপে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে ৩ জুন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি বা ঘড়িজাতীয় বস্তু, ইলেকট্রনিক হাতঘড়ি বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কমিউনিকেটিভ ডিভাইস বা এ জাতীয় বস্তু সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

যদি কোনো পরীক্ষার্থী উল্লিখিত দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তবে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪৫ হাজার পদের জন্য আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন।

দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা:

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহী, খুলনা, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায়ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলো হলো- নওগাঁ জেলার সদর, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রানীনগর, পোরশা, সাপাহার উপজেলা; নাটের জেলার বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাশপুর, লালপুর; সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, সদর ও তাড়াশ উপজেলা; কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, সদর ও মিরপুর; ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু, সদর, কালিগঞ্জ; যশোর জেলার অভয়নগর, চৌগাছা, সদর, বাঘেরপাড়া উপজেলা; সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ উপজেলা; বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট, মোংলা, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা উপজেলা; জামালপুর জেলার সদর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ; ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা, সদর, নান্দাইল, ফুলপুর, তারাকান্দা, ত্রিশাল উপজেলা; নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী, মদন, মোহনগঞ্জ, সদর, পূর্বধলা উপজেলা; কিশোরগঞ্জ জেলার সদর কুলিয়াচর, মিঠামইন, নিকলী, পাকুন্দিয়া ও তাড়াইল।

একইদিন পরীক্ষা হবে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি, মধুপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর, সফিপুর, বাসাইল উপজেলা; রাজবাড়ি জেলার কালুখালি, গোয়ালন্দ উপজেলা; কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, লালমাই, সদর দক্ষিণ, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাগলকোট, তিতাস উপজেলা; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানিগঞ্জ, হাতিয়া উপজেলা; পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, নেছারাবাদ, সদর; পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, সদর, রাঙ্গাবালি, দুমকি উপজেলা; সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা, সদর, তাহিরপুর উপজেলা; হবিগঞ্জ জেলার সদর, লাখাই, মাধবপুর, নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা; কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রাজারহাট, রাজিবপুর, রৌমারী, উলিপুর উপজেলা; গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়ও।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ১২ মে। এতে ২২ জেলার ৪০ হাজার ৮৬২ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


আরও খবর



মাদক মামলায় ‘ভদ্রবেশি’ সিঁধেল চোর কারাগারে

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫০জন দেখেছেন
Image

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে মো. নাজিম উদ্দিন (২৪) নামে ‘ভদ্রবেশি’ এক সিঁধেল চোরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া একটি চুরির মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ মে) রাতে সোনাইমুড়ীর বজরা মেডিকেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নোয়াখালী র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক মামলার পলাতক আসামি ও ভদ্রবেশি সিঁধেল চোর মো. নাজিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সোনাইমুড়ী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, গ্রেফতার নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিঁধ কেটে চুরির মামলাও চলমান আছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর