Logo
শিরোনাম

পালানোর রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার: জয়নুল আবেদীন

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪০জন দেখেছেন
Image

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের কলাকুশলীরা একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট- এ রোডম্যাপ নির্বাচনী নয়, এটা হচ্ছে কীভাবে, কোন পথে বাংলাদেশ থেকে অনির্বাচিত সরকার বিদায় নেবে এবং পালানোর চেষ্টা করবে সেই রোডম্যাপ।’

সরকারের প্রতি উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অহেতুক চেষ্টা করবেন না। আপনাদের মিথ্যা আশ্বাসে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।’

শনিবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘যত চেষ্টা করার করেন, বিএনপিকে ভাঙা যাবে না, কোনো লাভ হবে না। বিএনপি মচকাবে তবু ভাঙবে না, লাভ হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে- এই মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন ঠেকানো যাবে না।’

বিএনপি আন্দোলন করতে জানে না- আওয়ামী লীগ নেতাদের এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের কী দেখেছেন? স্বৈরাচার এরশাদ নয় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, সেই এরশাদ আন্দোলনে ভেসে গেছেন। কোনো স্বৈরাচারী টিকতে পারে নাই। এই অনির্বাচিত সরকারও আন্দোলন থামাতে পারবে না। তাদের (সরকারের) অল্প কয়েকদিন সময় আছে, তাদের বিদায় নিতে হবে।’

সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের মানুষের সব সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ করেন জয়নুল আবেদীন।

বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে মেরে ফেলতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া এই সরকারের পতন না দেখে মৃত্যুবরণ করবেন না। তিনি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। অন্যায়ভাবে মানুষকে বেশিদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। যে যত কথাই বলুক, এই সরকার আর টিকতে পারবে না। যদি বাঁচতে চান তাহলে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে মানে মানে বিদায় হোন।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে বলে শুনতে পাচ্ছি, তবে আমি বিশ্বাস করি না। তারপরও বলবো যদি কেউ হালুয়া-রুটির লোভে দলের সঙ্গে বেইমানি করে, সেই বেইমানদের জায়গা দলে এবং বাংলাদেশে হবে না।’

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কফিল উদ্দিন প্রমুখ।


আরও খবর



ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা এখনো পাইনি: ফখরুল

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এর ফলে ওই এলাকায় পানিতে আর্সেনিকসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ এখনও পায় নাই। এসব নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশে পানির সংকট যেমন তীব্র হচ্ছে, একইসঙ্গে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে রোববার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ থেকে ৪২ বছর আগে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারাদেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিলে অংশ নেয়।

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ নিয়ে অব্যাহতভাবে আজ পর্যন্ত তা চালু রেখেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নির্লজ্জভাবে তা মেনে নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশংকায় প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের নিকট প্রতিবাদ করেন। এভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচিত হতে থাকে।

‘আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে ভারত একতরফা নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ এখনও পায় নাই। এসব নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশে পানির সংকট যেমন তীব্র হচ্ছে, একইসঙ্গে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সারা বাংলাদেশ একসময়ে নিষ্ফলা ঊষর ভূমি হয়ে উঠবে বলে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিলে ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে জনগণ অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল।


আরও খবর



‘মহাশক্তিধর বিরোধী দল’!

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

তেল নিয়ে তেলেসমাতি নয়, এ হচ্ছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও মন্তব্য হচ্ছে-দুর্বল বিরোধী দলের শূন্যস্থান পূরণ করছে তেলের ব্যবসায়ীরা। যুগান্তকরী উন্নয়ন আর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম একটি সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ব্যবসায়ীরা সরকারের সহযোগী, তারা মুখে যতই বলুন-তাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, তারা মিশনে নেমেছেন সরকারের বিরুদ্ধে। এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরেফিরে আসছে।

বাংলাদেশে প্রায় দুই যুগ স্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইস্যুভিত্তিক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে পারেনি। মূলত সরকারের সাফল্যের কারণে। ঠিক ওই মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা বিরোধী দলের সেই ব্যর্থতা ঢাকতে মাঠে নেমেছেন। এমন অভিযোগ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

একবার পেঁয়াজ নিয়ে রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে তো আরেকবার চিনি নিয়ে, এভাবে সারাবছরই সরকারকে তটস্থ করে রেখেছেন তারা। সর্বশেষ গত ঈদের আগে হঠাৎ করে বাজার থেকে সোয়াবিন তেল উধাও করে দেওয়া হয়। এই কাজটি তারা এমন সময় করলো যখন বাঙালি আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মানুষ কেনাকাটা করতে বাজারে গিয়ে দেখে বাজার থেকে তেল উধাও।

পাড়ার ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে পাশের কাঁচাবাজার কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানদারদের সাফ জবাব- সাপ্লাই নেই। গণমাধ্যমগুলো দোকানের তেলশূন্য অবস্থার সংবাদ প্রচার করতে থাকে। দায় পড়ে সরকারের ওপর। মানুষ চরমভাবে বিরক্ত হয় সরকারের ওপর। বলা হয়, সরকারের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

অথচ তেল উধাও হওয়ার প্রাক্কালে সরকারকে দিয়েই ঘোষণা দেওয়া হয়, ঈদের পর বাজারে তেলের দাম আবারও বাড়বে। এর কয়েক মাস আগে তেলের দাম বেড়ে প্রতি বোতল ১ লিটারের দাম হয় ১৬৮ টাকা। ঈদের পর থেকে তা আরও বেড়ে হবে ১৯৮ টাকা প্রতি লিটার, সেই ঘোষণা আসে ঈদের আগে, যখন কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

ঈদের রান্না কায়ক্লেশে শেষ করে বাজারে গিয়ে মানুষ দেখে দোকানে তেল আছে। অথচ ঈদের ছুটিতে আমদানি কিংবা সরবরাহ কিছুই করা হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন আমদানি করা ২ কোটি লিটারের বেশি তেল তখনও বন্দরে খালাস হয়নি। সুতরাং এই তেল কোথা থেকে এলো? শুধু তাই নয় প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হতে থাকে ১৯৮ টাকা দরে, যা নতুন তেল বাজারে আসার পর কার্যকর হওয়ার কথা। সোজা কথা হচ্ছে- তেল ব্যবসায়ীরা মানুষকে ঈদে বিড়ম্বনায় ফেলে সব তেল সরিয়ে ফেলেছিলেন আর ঈদের পর নতুন তেল আসার আগেই পুরোনোগুলো অধিকমূল্যে বিক্রি করে মুনাফা করতে থাকে।

ঈদের বিরূপ পরিস্থিতির কারণে সরকারের অভিযান শুরু হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হচ্ছে সরকারি অভিযান চালাতে গিয়ে দিনে ৪ লাখ লিটার তেল জব্দ করার সংবাদও আমরা পড়ি কিংবা দেখতে থাকি। প্রমাণ হলো, অধিক মুনাফালোভী তেল ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুত করে অবৈধ আয়ের ব্যবস্থা শতভাগ সাফল্যের সঙ্গে করে ফেলেছেন।

ব্যবসায়ীদের এই কর্ম তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের স্পষ্ট প্রমাণ। সেই ভাষ্যও আমরা শুনতে পাই সরকারের মুখপাত্র থেকেই। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকাশ্যে। ৯ মে তিনি সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ভোজ্যতেল নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের দেওয়া কথা রাখেনি। তাদের বিশ্বাস করা আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়।’

ব্যবসায়ীরা তাকে কথা দিয়েছিলেন রমজানে তেলের দাম বাড়াবেন না। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেননি। শুধু তাই নয়, ঈদ সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করেছেন। যার পরিণতিতে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিতে হয়েছে। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তাকেই জবাবদিহি করতে হচ্ছে এই ব্যাপারে। মানুষ তার পেশাগত বিষয় নিয়েও সমালোচনা করতে শুরু করেছে। অনেকেই অভিযোগ করতে থাকেন, মন্ত্রী মহোদয় নিজে ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বাণিজ্যমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরপরই, তাদের বক্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ মন্তব্যে-ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, এফবিসিসিআই তাদের সভায় উপস্থিত ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা সরকারি বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘দোকানে যদি মাল মজুত না থাকে তাহলে ব্যবসা করবো কীভাবে?

রমজানের আগে বাজারে ঘাটতি দূর করতে ব্যবসায়ীরা দোকানে মাল মজুত করেছেন। অথচ এজন্য ব্যবসায়ীদের নাজেহাল করা হচ্ছে। দোকানে অভিযান চালিয়ে কিছু তেল পাওয়া গেলেই ব্যবসায়ীদের অপদস্থ করা হচ্ছে।’ তাদের বক্তব্যের আগে পরের ঘটনা বাদ দিয়ে যদি যুক্তি খোঁজা হয় তাহলে মনে হবে, তারা ঠিকই বলছেন। অথচ দেশের মানুষ ঈদের আগে দেখেছে দোকানগুলোতে তেল নেই। খুচরা দোকানদারদের একই জবাব ছিল, ডিলারদের কাছ থেকে তারা সরবরাহ পাচ্ছেন না তাই তাদের তেল নেই।

অর্থাৎ ঈদের সময় প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করা থেকে ডিলাররা বিরত ছিল এবং সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করার জন্য মজুত করে রেখেছিল। তাই এই ব্যবসায়ী নেতার বক্তব্য অনুযায়ী বৈধ ব্যবসার উদ্দেশে এই তেল মজুত করা হয়নি। কিন্তু ঈদের পরপরই বাজারই শুধু নয়, গুদামে গুদামে পাওয়া যাচ্ছে তেল। এই নিবন্ধ লেখার সময় টিভিতে সংবাদ প্রচার হচ্ছিলো শুধু খুলনায়ই সয়াবিন ও পাম তেল মিলে আড়াই লাখ লিটারের বেশি পাওয়া গেছে গুদামে। একইভাবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানে এমন হাজার হাজার লিটার তেল জব্দ করে আগের দরে বিক্রি করছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, অবৈধভাবে মজুত ও অধিক মূল্যে বিক্রি রোধ করার উদ্যোগকে কি অপদস্থ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়? মনে করার কারণ নেই শুধু তেল নিয়েই এমনটা ঘটছে। প্রায়ই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে দেশে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। যার দায় পড়ছে সরকারের ওপর। অথচ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রায় সবক্ষেত্রেই তেলের মতো তেলেসমাতি কারবার কাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের এই কর্মকাণ্ড কি নিছক অতিমুনাফার লোভ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি জড়িত। সরকারের সব অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য পেছন থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছে কি না তাও ভেবে দেখার বিষয়। এতে করে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জনমতে ধস আনা হতে পারে। যে কাজটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টায় সফল হয়নি, সেই কাজটি ব্যবসায়ীদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারলে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে তাদের।

তেলের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যে। কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যে। বলা হচ্ছে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি। কিন্তু বাজারের মজুত পণ্যগুলো আনা হয়েছে আগেই। বর্ধিত ব্যয় বাজারে থাকা পণ্যগুলোতে কার্যকর হয়নি।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাই অনেকেই বলছেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে যে প্রচারণা চালাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা সেই কাজটিই বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকারান্তরে কার্যকর সরকার বিরোধী দল হিসেবে ব্যবসায়ীদের আবির্ভাব হয়েছে মন্তব্য করছেন অনেকেই।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- অতি মুনাফার উদ্দেশ্যেই হোক আর রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যেই হোক বিষয়টি সরকারের জন্য সুখকর নয়। সুতরাং এই অপকর্মের হোতাদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। আর এই কাজটি করতে হবে সরকারকেই। আশা করি শিগগির এর একটা বিহিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।


আরও খবর



৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: নর্থ সাউথের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিচার দাবি

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা দ্রুত সুরাহা ও তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।

সোমবার (৯ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।

এসময় লিখিত বক্তব্যে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস বলেন, প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিনসহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের কারণেই নর্থ সাউথ পরিণত হয়েছে দুর্নীতি-অনিয়ম ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে। তাই এদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করার বিষয়টি প্রশংসনীয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, অভিযুক্ত প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাই তাদের কেউ যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। অভিযুক্তদের বিচারের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করতে হবে।

দুদকের মামলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিগ্রস্ত ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন আহমেদ ও কাসেম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা ইতিবাচক। তবে ট্রাস্টি সদস্য আজিজ আল কায়সার টিটুর নাম বাদ পড়া কাম্য নয়। আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। নয়তো কঠোর আন্দোলনে যাবো আমরা।

তিনি বলেন, লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, সিন্ডিকেট আর জঙ্গিবাদে পর্যুদস্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন। এত বেশি অনিয়মের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



কদমতলীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ডিশের লাইন নিতে গিয়ে নিহত ১

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩০জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর কদমতলীতে বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে ডিশের লাইন দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. হেলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ডিশ কর্মচারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের সহকর্মী মো. শাহীন জানান, কদমতলী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে ডিশের সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন থানায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।


আরও খবর



সিলেট বিকেএসপি শুধুই ফুটবলের

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

রোববার দুপুরে সিলেট বিকেএসপির নবনির্মিত একাডেমিক ভবন ও সিনথেটিক ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সিলেট এর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সকল স্থাপনা প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে।

বিকেএসপির মহাপরিচালক এএকেএম মাজহারুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে প্রায় ৫ বছর সিলেট বিকেএসপি ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তারা এখানে একাডেমি তৈরি করেছিল বিধায় আমরা দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ করতে পারিনি । ২০১৭ সালে তারা যখন সিলেট বিকেএসপিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে তখন আমরা এটিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিকেএসপি’র নবনির্মিত একাডেমিক ভবন ও সিনথেটিক ফুটবল মাঠের উদ্বোধন করা হলো।'

অচিরেই সিলেট বিকেএসপিকে আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘আমরা এখানে সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম তৈরি করব। আমরা সিলেটকে ফুটবলের জন্য ডেডিকেট করেছি। আপাতত সিলেট বিকেএসপি শুধু ফুটবলের উপযোগী করা হচ্ছে। ফুটবল অনুশীলনের জন্য এখানে যা দরকার করে দেবো।'


আরও খবর