Logo
শিরোনাম

প্রতীচ্যের চোখে রবীন্দ্রনাথ: শেষ পর্ব

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৮জন দেখেছেন
Image

১৯১২ সালের ডিসেম্বরের প্রথমদিকে শিকাগোর পোয়েট্রি ম্যাগাজিনে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ছাপা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় তাঁকে বাংলার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে। আশ্চর্যের ব্যাপার পোয়েট্রির সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘এটা আত্মকেন্দ্রিক আমেরিকা অবশেষে বুঝতে পেরেছে যেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ কয়েকদিন পর কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ সম্পাদককে কয়েকটা কপি পাঠানোর অনুরোধ জানান। পত্রিকার সম্পাদক হ্যারিয়েট মনরউ কবিকে শিকাগোতে নিমন্ত্রণ গ্রহণের আবেদন জানায়। প্রথমদিকে শিকাগোতে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর একটু জড়তা ছিল। কিন্তু মিসেস মনরউর উষ্ণ আহ্বান উপেক্ষা করতে না পেরে জানুয়ারি মাসে শিকাগোতে পৌঁছান। সাথে পুত্র রথীন্দ্রনাথ ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী। সেখানে তারা জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত অবস্থান করেন। মিসেস মনরউর আতিথ্য তাদের বিমোহিত করে। কবির সাথে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল আজীবন। ২৪ জানুয়ারি তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Ideals of Ancient Civilization in India’ শিরোনামে একটি ভাষণ দেন, যেটা পরে তাঁর সাধনা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।

শিকাগো থেকে তিনি আরেক আমন্ত্রণে রোসেস্টারে ‘কংগ্রেস অব রিলিজিয়াস লিবারালস’ সম্মেলনে বক্তৃতার উদ্দেশ্যে যান। ফেব্রুয়ারি মাসে কবি প্রথমে যান নিউইয়র্ক, তারপর বোস্টনে। ১৯১৩ সালের ১৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডে ফিরে আসার আগে তিনি আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন। ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি মিসেস মুডিকে চিঠি লেখেন তাঁর সাথে দেখা করার জন্য। তিনি জুনের মাঝামাঝি সময় সেখানে অবস্থান করেন। ১৯১৩ সালের সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ রবীন্দ্রনাথ ভারতে ফিরে আসেন।

এটা ঠিক প্রাচ্যেও রবীন্দ্রনাথের সমালোচকের অভাব ছিল না। অতি নিকটজনেরাও তাঁকে বিদ্ধ করেছে। ১৯৩৭ সালে ইংরেজ সাহিত্যিক হেনরি গ্রাহাম গ্রিন বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাকে ইয়েটস ছাড়া আর কেউ বেশি গুরুত্ব দেয়।’ এ সম্পর্কে অমর্ত্য সেনের একটি পর্যবেক্ষণ উল্লেখ না করলেই নয়। অমর্ত্য সেন লিখছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বিশাল ব্যাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে তার যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছে, তার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হচ্ছে তার সংকীর্ণতা। তাঁকে ‘প্রাচ্যের এক মহান রহস্যবাদীর (মিস্টিক)’ কল্পিত ভাবমূর্তিতে দেখা হয়। কেউ কেউ তাঁর সমাদর করেন, কেউ বা তাঁকে অপছন্দ করেন এবং আরও অনেকে আছেন যাঁদের কাছে তিনি একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর। এই রবীন্দ্রনাথ বহুলাংশে পাশ্চাত্যের নিজেরই সৃষ্টি প্রাচ্য থেকে, বিশেষত ভারত থেকে বার্তা অনুসন্ধানের সেই ঐতিহ্যের অন্তর্গত যা হেগেলের ভাষায়, ইউরোপীয়দের কল্পনাতে হাজার হাজার বছর ধরে ধাবমান।’

রবীন্দ্রনাথের বেশভূষা ও চলনের গতি দেখে অনেকেই তাঁকে একজন প্রাচ্যের রহস্যবাদী পুরুষ মনে করেতেন। হাল আমলে পশ্চিম দেশে অনেক ভারতীয় যোগী পুরুষ যেভাবে নিজেদের বিস্তার করেছেন অনেকে রবীন্দ্রনাথকে সেই কাঠিতে মাপতে চেয়েছেন। ১৯৬৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া জাপানের প্রথম সাহিত্যিক ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা রবীন্দ্রনাথকে বর্ণনা দিচ্ছেন এভাবে, ‘তাঁর কপালের দু’পাশ দিয়ে সাদা চুলের গোছা আলতোভাবে নেমে এসেছে, কপালের ঠিক নিচে দু’পাশে যে চুলের গুচ্ছ সেও দু’গাছি দাড়ির মতো নেমে এসে গালের দাড়ির সঙ্গে মিশে এক হয়ে গেছে। ফলে, সেই বালক বয়েসে, তাঁকে দেখে আমার মনে হয়েছে তিনি যেন কোন প্রাচ্য দেশীয় জাদুকর।’ তবে উল্টো যে কতো সত্যি সেটা বোঝা যাবে একটি গল্পে। কার্ল জুকমেয়ার নামে একজন জার্মান নাট্যকর ছিলেন। তার বন্ধু ছিলেন জার্মান সেনাবাহিনীর একজন ডাক্তার। সেই ডাক্তার জুকমেয়ারের কাছে একদিন গল্প করছেন, তিনি যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করছিলেন; তখন একজন ভারতীয় সেনা যে কি না তখন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য, মারাত্মকভাবে আহত হন এবং জার্মান সেনা কর্তৃক আটক হন। খুব বড় একটি ক্ষত হয়ে যায় তার পায়ে। এমন অবস্থায় তার পা কেটে ফেলার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু জার্মান ডাক্তার ইংরেজি জানেন না, ফলে আহত সেনার সাথে ভাষিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না কিছুতেই। আহত সেনা বললেন আমি ভারতীয়। ঠিক তখনই ডাক্তার উচ্চস্বরে চেচিয়ে শুধু এ কথাটিই বললেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!’ তখন ভারতীয় ওই সেনা খুব স্বস্তির সাথে শ্বাস নিলেন, মুখে তার একটি প্রশান্তির ছায়া দেখা গেল।

রবীন্দ্রনাথ নিয়ে পাশ্চাত্যে স্বস্তি-অস্বস্তির কারণ বহুবিধ। অ্যাডাম ক্রিস এক প্রবন্ধে লিখছেন, পাশ্চাত্য মনে যে অস্থিরতা আছে, অসুস্থতা কাজ করে তার একটি যুতসই ওষুধ সম্ভবত রবিঠাকুরের কবিতার ভেতর তারা খুঁজে পেয়েছিলেন। ১৯১০ এর দশক থেকে আজ অবধি এই ধারা পাশ্চাত্যের মানুষ অনুভব করেন। এ কারণেই সেন্ট ফ্রান্সিস বা উইলিয়াম ব্লেকের সাথে তুলনা করে ইয়েটস লিখেছিলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করছি, অর্থ আর রাজনীতিতে আমাদের মাথা যেখানে বুঁদ হয়ে আছে; সেখানে রবিঠাকুর ভারতীয় সভ্যতার ধারাবাহিকতায় সেই আত্ম-অনুসন্ধানে নেমেছেন। নিজেকে সমর্পণ করেছেন বিশ্বাত্মার সাথে।’

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিশ্বজনেরা
১৯৩১ সালে রবীন্দ্রনাথের ৭০তম জন্মদিনে বৃহৎ আয়োজনে সারা বিশ্ববাসীর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা হয়। খুব সঙ্গত কারণেই সেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আমরা উল্লেখ করতে পারি। ‘দ্য গোল্ডেন বুক অব টেগোর’ নামে ওই গ্রন্থ থেকে কিছু আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের উদ্ধৃতির ওপর কথা বলা যেতে পারে। কোস্টেস প্যালামাস (১৮৫৯-১৯৪৩) ছিলেন গ্রিসের জাতীয় কবি। তিনি গ্রিসের সাহিত্য জগতে এক অনন্য নাম। রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন এবং তাঁর প্রতি মুগ্ধতাও গড়ে উঠেছিল। তিনি লিখেছেন, ‘একজন বিশ্বখ্যাত কবি রবীন্দ্রনাথ আমাদের অপূর্ব শব্দ চয়নের মধ্য দিয়ে জানিয়ে দেন প্রাকৃতিক সীমানার মধ্যে নির্জনতা ও তার চির-সক্রিয় তপস্বীতা কবির কত বড় জিনিস। কবির গান পাখির গানের মতো। গোলাপি ভোরে যখন প্রাণ জেগে ওঠে; তখন সে কী করে?’ উচ্ছসিত কোস্টেস প্যালামাস আরও উচ্চারণ করেন, ‘আটিকার। আকাশে আমার উপর ঢেলে দেওয়া আলোর ছাউনির নিচে আমি অত্যন্ত বিনীতভাবে তাকে আমার শ্রদ্ধা জানাই; আমার আত্মা, তার শ্রদ্ধেয় হাতের উপর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার একটি চুম্বন ছাপ দেওয়ার জন্য।’

জেন অ্যাডামস (১৮৬০-১৯৩৫) ছিলেন আমেরিকান লেখক, সমাজ সংস্কারক নারী। জন্মেছিলেন ইলিনয়ের সেডারভিলে। তিনি শিকাগো থেকে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ১৯৩১ সালে লিখেছিলেন অপূর্ব কয়েকটি কথা। ‘সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান অবদান। যা আমাদের বিভ্রান্তিকর যুগে করা যেতে পারে, তা হলো সমস্ত মানব অভিজ্ঞতার অপরিহার্য একতা এবং বৈধতার প্রকাশ। যাতে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং মানসিক বোঝাপড়া আমাদের বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছে যেতে পারে।’

হোরেস গুন্ড্রে আলেকজান্ডার (১৮৮৯-১৯৮৯) ছিলেন ব্রিটিশ শান্তিবাদী লেখক ও কোয়েকার। তিনি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এক অনির্বচনীয় অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। লিখেছেন, ‘উডব্রুকের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় দিন ছিল, যখন প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের দেখতে আসেন। উডব্রুক বিশ্বাস করেন যে, এর পদ্ধতি এবং আদর্শ—আজকের বিশ্বের চিন্তা ও জীবনের মহান আন্দোলনের মুক্ত অধ্যয়ন, মানুষের ঐশ্বরিক ভ্রাতৃত্বের বিশ্বাসের মধ্যে নিহিত, এই দৃঢ় বিশ্বাসে যে আমরা সবাই ঈশ্বরের পুত্র, একটি সাধারণ জীবন ভাগ করে নিয়েছি—এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং এই মুক্ত অধ্যয়নের পদ্ধতি আমাদের কাছে শান্তিনিকেতনের শিক্ষাপদ্ধতি এবং আদর্শের বিষয়ে যা দেখেছি এবং শুনেছি তার অনুরূপ বলে মনে হয়।’

এডুইন বেভেন (১৮৭০-১৯৪৩) ছিলেন ব্রিটিশ দার্শনিক ও ঐতিহাসিক। তিনি রবিঠাকুর সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। নরওয়েজিয়ান নাট্যকর ও ঔপন্যাসিক হুলেন জোহান বোজের। তিনি লেখেন, ‘তিনিই ভারত ইউরোপে একটি নতুন ঐশ্বরিক প্রতীক নিয়ে আসছেন, ক্রুশ নয়, পদ্ম। তার প্রজ্ঞা কোনো বয়স জানে না, এটি ভারতের নদীগুলোর মতো পুরোনো এবং শৈশব থেকেও ছোট, কারণ এটিতে জন্মগত কিছু ঝলকানি রয়েছে, যা আগামীকাল পর্যন্ত প্রকাশিত হবে না। তাঁর কবিতা কোনো বিদ্যালয়ের নয়—বাংলার ফুল রোদ-বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে।’

আমেরিকান দার্শনিক উইল ডুরান্ট রবীন্দ্রনাথকে ‘গুরুদেব’ সম্বোধন করে লেখেন, ‘গুরুদেব, শ্রদ্ধেয় মাস্টার, আমি আপনাকে এই নামে ডাকতে পারি আপনার শিষ্যদের কাছে এত প্রিয়, যারা এর মাধ্যমে তাদের চেতনা প্রকাশ করে যে আপনি কেবল একজন কবি এবং একজন শিক্ষক নন, কিন্তু স্বয়ং ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর, আমাদের কাছে আসার জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এত ভয়ংকর সমুদ্র পেরিয়ে, পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে বাধাগুলো ভেঙে দিতে সাহায্য করার জন্য, যাতে ভারত যখন আমাদের কাছে যেই আবিষ্কারগুলো নিয়ে আসে, সেগুলো যদি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় তবে সমস্ত দারিদ্র্যকে ধ্বংস করবে, আমরা তার কাছ থেকে তার সহনশীলতার কিছু শিখতে পারি। প্রজ্ঞা এবং তার আধ্যাত্মিক শান্তি।’

জার্মান সাহিত্যিক এমিল গডশ্লিস বলেন, ‘কবি এবং দার্শনিক যিনি তাঁর জীবনের কাজের মাধ্যমে গভীর এবং মহৎ ভারতীয় দর্শন এবং কবিতাকে বিশ্বের বৃহৎ বৃত্তের কাছে উন্মুক্ত করেছেন, নিম্নস্বাক্ষরকারী, জার্মান এবং ভারতীয় বুদ্ধিজীবী জীবনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঘনিষ্ঠ সংযোগ সম্পর্কে সচেতন, অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে অভিনন্দন জানাই। আপনার ৭০তম জন্মদিনে। ভগবদ্গীতার মহৎ বাণী অনুসারে আগামী বহু বছর ধরে তাঁর সহকর্মী জগতের সেবায় তাঁর উপকারী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মানিত জয়ন্তীকে মঞ্জুর করা হোক। হৃদয়ের কেন্দ্রে নিঃসঙ্গ বসবাস, যেখান থেকে তিনি প্রেমে মহাবিশ্বের দিকে তাকান।’

আন্দ্রে বুটেনেসচন ছিলেন নরওয়ের সাহিত্যিক। তিনি লেখেন, ‘সুইডেনে একটি কুয়াশাচ্ছন্ন বসন্তের প্রাক্কালে আমার কাছে মনে হয়েছিল যেন কুয়াশার মধ্য দিয়ে হঠাৎ কোটি আলোর একটি স্ট্রিং এবং আমি ভাবছিলাম এর অর্থ কী হতে পারে। একই প্রাক্কালে আমি প্রথমবার আপনার নাম উচ্চারণ করতে শুনলাম।’

ইতালির সুবিখ্যাত দার্শনিক বেনিডিটো ক্রোচে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লিখতে গিতে ‘গদ্য ও কবিতা’ শিরোনামে অতি ছোট একটি নিবন্ধ পাঠান। গদ্য এবং কবিতা: প্রথমটিতে অধ্যয়নের মধ্যে শব্দের চিকিৎসা করা হয় এমনভাবে যে শব্দটির একটি নিছক শব্দ হিসাবে কোনো মূল্য নেই এবং প্রায় চিন্তায় নিজেকে হারিয়ে ফেলে এবং জলের প্রবাহের মতো স্বচ্ছ এবং স্বচ্ছ হয়ে ওঠে যা জল হিসাবেও লক্ষ্য করা যায় না। দ্বিতীয়টিতে শব্দটি প্রথম স্থান ধরে নেয়, কল্পনা এবং গানের মতো আমাদের রং এবং শব্দ দিয়ে পূর্ণ করে। এখানেই চিন্তা এবং অভিনবত্ব, যুক্তিবিদ্যা এবং নান্দনিকতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।’

ই বি হ্যাভেল ছিলেন অক্সফোর্ডের নামকরা শিল্পবোদ্ধা ও সাহিত্যিক। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন, তাঁর ধারণাও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সমান। হ্যাভেল রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লেখেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর বিশিষ্ট আত্মীয় গগনেন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথের বন্ধুত্ব উপভোগ করার জন্য এটি আমার বড় সৌভাগ্য হয়েছে, প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগে কলকাতায় আমার আগমনের তারিখ থেকে, যখন কবির পিতা মহারথী দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন বিখ্যাত। পরিবারের সম্মানিত প্রধান। তাই এ বছর কবিকে তাঁর সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা ও প্রশংসার অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেওয়া আমার কাছে এক অদ্ভুত তৃপ্তি।’

বিশ্বজনের কাছে রবীন্দ্রনাথ প্রায় একশ বছর ধরে আলোচিত হয়ে আসছেন। বহুমাত্রিক এই কবির দর্শন অনেকেই গ্রহণ করেছেন, অনেকেই হয়তো বর্জন করেছেন। এই গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে এমন এক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন যা এককথায় অনন্য। সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের অন্যতম আইনস্টাইন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অকুণ্ঠ চিত্তে। কারণ রবীন্দ্রনাথও যে ছিলেন একজন বিজ্ঞানের কবি। কারণ বিজ্ঞান যে নিগুঢ় সত্য উন্মোচন করে চলেছে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক সত্যের মধ্য দিয়ে, পেয়েছেন তারই আভাস।


আরও খবর



ম্যারাডোনার সমপর্যায়ের খেলোয়াড় মেসি: পিএসজি কোচ

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৩জন দেখেছেন
Image

মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা ভালো সময় কাটছে না আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির। চলতি মৌসুমের শুরুতে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে ফ্রেঞ্চ ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিয়ে এখনও ঠিক মানিয়ে নিতে পারেননি সাতবারের ব্যালন ডি অর জয়ী।

যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চারিদিকের নানান সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মেসি। এমতাবস্থায় পিএসজির কোচ স্বদেশি মাউরিসিও পচেত্তিনোকে পাশে পেয়েছেন তিনি। মেসিকে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনার সমপর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন পচেত্তিনো।

বর্তমানে মেসিকে নিয়ে চলমান সমালোচনা ও কটুক্তির প্রতিক্রিয়ায় পিএসজি কোচ বলেছেন, ‘মেসিকে এভাবে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। আপনি মেসিকে নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমি কোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের কথা বলছি না। ম্যারাডোনার সমপর্যায়ের খেলোয়াড় মেসি।’

মেসির প্রতি পূরণ সমর্থন জানিয়ে পচেত্তিনো আরও বলেন, ‘মেসির সামর্থ্য নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। নিজের করণীয় ঠিকঠাকভাবে করার জন্য যথেষ্ট প্রতিভা তার আছে এবং সে এটি করবে। আগামী মৌসুমটি তার জন্য পুরোপুরি ভিন্ন হবে। এই বছরটি তার জন্য শেখার বছর ছিল।’

ফ্রি এজেন্ট হিসেবে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩১ ম্যাচ খেলে মাত্র নয়টি গোল করতে পেরেছেন মেসি, সতীর্থদের বানিয়ে দিয়েছেন ১৩টি গোল। অথচ গত মৌসুমেই ৪৭ ম্যাচে ৩৮ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ১৪টি এসিস্ট।


আরও খবর



রেলমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান টিআইবির

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া তিন যাত্রীকে জরিমানা করায় রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনা ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে রেলমন্ত্রীকে সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (৭ মে) গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও মন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

এতে উল্লেখ করা হয়, ন্যায়-নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট টিটিইকে তড়িৎ বরখাস্তের সিদ্ধান্তে দেশবাসীর কাছে এ বার্তাটিই পরিষ্কার হয়েছে যে, ক্ষমতাবানরাই শুধু নয় বরং তার/তাদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে থাকা আত্মীয়-পরিজনদের জন্যও আইন প্রযোজ্য নয়। অনিয়মের কাছে মাথানত করেই রুটিরুজি টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায় বলে মন্তব্য করছে টিআইবি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে রেলমন্ত্রীকে সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রধরে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি নির্লজ্জ ও নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এখানে মূলত দুইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

প্রথমত, রেলমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে, রেলের প্রচলিত আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট টিকিট পরিদর্শক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করায় তাকে কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে বরখাস্ত হবার ঘটনা- দেশবাসীর কাছে এ বার্তাটিই পৌঁছেছে যে, ক্ষমতার দাপট ও অনিয়মই হচ্ছে বাস্তবতা। এছাড়া, এ নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত এখনো গুটিকয়েক যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের জন্য একটি শক্তিশালী নেতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।’

যদিও এ ঘটনায় রেলমন্ত্রী নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন এবং তার আত্মীয় পরিচয়দানকারীদের চেনেন না বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ টিটিই বরখাস্তের জন্য যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং যার সঙ্গে রেলমন্ত্রীও একমত হয়েছেন। এমন বাস্ততবতায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, বিনা টিকিটের সেসব যাত্রী টিটিইকে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় কেন দিয়েছিলেন? তাদের সত্যিকার পরিচয় রেল কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছিলেন কি-না? অধিকন্তু যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ বিষয়ে টিটিইয়ের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রেলমন্ত্রীর পরিচয় কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল? এসব বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

টিআইবি মনে করে যেহেতু রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের জড়িয়ে এ জাতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; অধিকন্তু বিনা টিকিটে ভ্রমণকারীরা রেলমন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করেছেন, তাই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে সাময়িক সময়ের জন্য তার পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি যে-কোনো ধরনের ভয়ভীতি ও চাপের ঊর্ধ্বে থেকে সংশ্লিষ্টরা যাতে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে অভিযুক্তদের ও দায়িত্ব পালনকারী টিকিট পরিদর্শকের বরখাস্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে নির্বিঘ্নে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।


আরও খবর



বাংলাদেশের নাট্যোৎসবে পশ্চিমবঙ্গের কবি দেবব্রত সিংহ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৯জন দেখেছেন
Image

নাট্যোৎসবে অংশ নিতে জামালপুরে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক ও লোক কবি খ্যাত দেবব্রত সিংহ। এ নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ ১৩ মে জামালপুরে পৌঁছাবেন তিনি।

জানা যায়, দেবব্রত সিংহ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। বাঁকুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় লেখা তার ‘তেজ’ কবিতার মাধ্যমে দুই বাংলার কবিতাপ্রেমীর কাছে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় হলেও এ দেশে কখনোই আসা হয়নি তার। এবার তার অন্যবদ্য সৃষ্টি ‘তেজ’ কবিতার নাট্যরূপ মঞ্চায়নের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন তিনি।

১৪ মে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে থিয়েটার অঙ্গন আয়োজিত নাট্যোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন কবি।

জামালপুরের অন্যতম নাট্যদল থিয়েটার অঙ্গন তাদের দশম প্রযোজনা হিসেবে ‘তেজ’ নাটকটি মঞ্চে আনছে। ১৪ মে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে থিয়েটার অঙ্গন আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের প্রথম দিন মঞ্চস্থ হবে নাটকটি।

উৎসবের ২য় দিন মঞ্চস্থ হবে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী লোক আঙ্গিক ‘সঙযাত্রা’। ৩য় দিন ‘ধুয়া গান’ এবং উৎসবের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে সিরাজগঞ্জের নাট্যদল নাট্যাধারের প্রযোজনা ‘ছাগতত্ত্ব’।

আগামী ১৯ ও ২০ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ষ্টুডিও থিয়েটার হলে ‘তেজ’ নাটকের দুটি প্রদর্শনী হবে। যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি দেবব্রত সিংহ।


আরও খবর



দোয়া কবুলের ১৫ আদব ও নিয়ম

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৪জন দেখেছেন
Image

দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের দোয়া কবুল হয়। আবার অনেকের দোয়া দেরিতে কবুল হয়। এমন অনেকেই আছে যাদের দোয়া কবুল হয় না। কিন্তু কেন কারো দোয়া দ্রুত কবুল হয় আবার কারো দোয়া কবুল হয় না? দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম বা আদব আছে কি? থাকলে সেগুলো কী?

হ্যাঁ, দোয়া কবুলের জন্য বেশ কিছু আদব রয়েছে। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা সম্বলিত আদবগুলো তুলে ধরা হলো। সেগুলো হচ্ছে-

১. দোয়া শুরুতে মাঝে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা

যেমন- আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলা।

২. নবিজীর ওপর দরূদ ও সালাম পড়া

নবিজী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ কোনো গুনাহ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদের দোয়া না করে এবং তড়িঘড়ি না করে, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, 'তড়িঘড়ি দোয়া করার অর্থ কী?

তিনি বললেন, এর অর্থ হলো- এরূপ ধারণা করা যে,আমি এত দীর্ঘক্ষণ থেকে দোয়া করছি, অথচ এখন পর্যন্ত কবুল হলো না। এরপর নিরাশ হয়ে দোয়া ত্যাগ করা।' (মুসলিম, তিরমিজি)

৩. দোয়া কবুলের সময় দোয়া করা

দোয়া কবুলের সময় হলো- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, সেজদায়, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, নামাজের পর, জুমার দিন আসরের পরবর্তী সময়, আরাফাতের দিন এবং ইফতারের সময় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদার ব্যাপারে বলেছেন, ওই সময় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি হয়। তাই বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।' (মুসলিম)

৪. সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দোয়া করা

দোয়াকে অনির্দিষ্ট করা উচিত নয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা এরূপ বলো না যে, আল্লাহ যদি তুমি চাও; আমাকে মাফ করো। বরং চাওয়াকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।' (মুসলিম)

৫. কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা

কোন সময় দাঁড়িয়ে সামষ্টিকভাবে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার কথাও বর্ণিত আছে। বিশেষ করে জুমার দিন আজানের সময় বা আজান পরবর্তী সময়ে নামাজের আগে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার ব্যাপারে তাগিদ রয়েছে।

৬. দোয়া কবুলের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা

অজুর সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সেই দোয়া কবুল করেন।

৭. দোয়ার মধ্যে ইসমে আজম পড়া

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি একদিন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন একজন লোক নামাজ পড়ছিল। সে বললো-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِاَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيْعُ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ يَاذَا الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّوْمُ اَسْأَلُكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল হান্নানুল মান্নানু বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইয়াজাল ঝালালি ওয়াল ইকরামি ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু আসআলুকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। সব প্রশংসা তোমার জন্য। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি স্নেহ ও দয়া দানকারী। আসমান ও জমিনের স্রষ্ঠা তুমি। হে সম্মান ও শ্রদ্ধার মালিক! হে চিরঞ্জীব ও চির অবস্থানকারী তোমার কাছে আশ্রয় চাই।'

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'সে ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছে। ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।' (তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া কবুল করেন মর্মে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে প্রমাণিত।

৮. বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা

দোয়া কবুলের জন্য বিনীতভাবে বারবার আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দোয়ায় বারবার অনুনয়-বিনয়কারীকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন।'

কেননা এর মাধ্যমে বান্দা নিজের অক্ষমতা, অভাব, ভয়-ভীতি ও চাওয়া-পাওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

৯. দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তোলা

দোয়ার করার সময় উভয় উপরে তোলা উত্তম। হাদিসে পাকে এসেছে-

 হজরত সাহাল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ আঙুল কাঁধ বরাবর তুলে দোয়া করতেন।' (বায়হাকি)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তুলে তারপর হাত মুখে মুছতেন।' (বায়হাকি)

১০. নিচু আওয়াজে দোয়া করা

হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একবার আমরা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সফর থেকে মদিনায় ফিরে এলাম। তিনি মদিনার কাছাকাছি হয়ে তাকবির বললেন। লোকেরাও উচ্চ আওয়াজে তাকবির বললো। তখন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে লোকেরা! তোমরা যাকে ডাকছ তিনি বধির ও অনুপস্থিত নন। বরং তিনি তোমাদের ও তোমাদের সাওয়ারির ঘাড়ের মাঝখানে আছেন।'

১১. ছন্দে ছন্দে দোয়া না করা

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দোয়ায় ছন্দের মিল থেকে দূরে থাকো। তোমাদের জন্য এতটুকু বলাই যথেষ্ট। দোয়ায় কাকুতি-মিনতি ও বিনয়ের ভাব থাকা দরকার। ছন্দ বা কবিতার সেই বিনয়ের পথে বাধা সৃষ্টিকারী।'

১২. আশা ও ভয়ের সঙ্গে দোয়া করা

দোয়া কবুলের জন্য আশা রাখা। আগ্রহরে সঙ্গে দোয়া করা। দোয়া কবুলের জন্য আল্লাহকে ভয় করা। আশা-আগ্রহ ও ভয়ের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন।

১৩. দোয়ায় উত্তম শব্দ তিনবার উচ্চারণ করা

দোয়া কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করার সময় উত্তম শব্দগুলো তিনবার উচ্চারণ করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলে (উত্তম শব্দগুলো) তিনবার বলতেন এবং কোনো কিছু চাইলে তিনবার চাইতেন।'

১৪. জিকির দ্বারা দোয়া শুরু করা

আল্লাহর জিকির বা স্মরণ দ্বারা দোয়া শুরু করা। শুরুতেই কোনো কিছু না চাওয়া। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত সালমা বিন আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাকে কখনও এই কালেমা না বলে দোয়া শুরু করতে শুনিনি।

যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো প্রার্থনা করতে চায়, তার উচিত, প্রথমে দরূদ পড়া এবং দরূদ দ্বারা দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ তাআলা উভয় দরূদ কবুল করেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে চাও তখন আমার প্রতি দরূদ পড়। আল্লাহর শান এরূপ নয় যে, কেউ তাঁর কাছে দুইটি জিনিস চাইলে একটি পূর্ণ করবেন এবং অপরটি পূর্ণ করবেন না।ক'

১৫. তাওবা করা

দোয়া করার আগে আল্লাহর কাছে তাওবা করা। অন্যায় থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আওযায়ী বলেন, লোকজন বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বের হলো। তাদের মধ্যে বেলাল বিন সাদ দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ পড়ার পর বললেন, উপস্থিত লোকেরা তোমরা নিজের পাপের কথা স্বীকার কর কিনা? সকলেই বললো,নিশ্চয়ই স্বীকার করি। তারপর বললো, হে আমার প্রভু! আমরা শুনেছি, তোমার কোরআন বলছে-

'নেক লোকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।'

আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করেছি। তোমার ক্ষমা আমাদের মতো লোকদের জন্যই। আমাদের ক্ষমা করো; রহম করো এবং আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করো। তারপর হজরত বেলাল বিন সাদ হাত তুললেন, লোকেরাও হাত তুললো। দেখতে দেখতে বৃষ্টি বর্ষিত হলো।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দোয়া কবুলের জন্য 'দোয়ার আদব' রক্ষা করা। উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলা। তবেই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করবেন। 

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়ার আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। দোয়া কবুলে দোয়ার আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



শ্রীলঙ্কার দেউলিয়ার পেছনে দায়ী যারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৯জন দেখেছেন
Image

শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে। নির্বাচনকে সামনে রেখে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। এটাকে তখনকার সরকার নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই ধরে নিয়েছিল।

সে সময়ে অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করা ও অন্যান্য শুল্ক বাতিল করার বিপজ্জনক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিলেন।

তখন তিনি বলেন, রাজাপাকসের এ প্রস্তাব যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে সারাদেশে মারাত্মক সংকট তৈরি হবে। দেশে ভেনেজুয়েলা ও গ্রিসের মতো সংকট হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি।

তার ওই পূর্বাভাস সত্য হতে মাত্র ৩০ মাস সময় লেগেছে। এরই মধ্যে যুদ্ধ, নানা রকম রোগ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে চরম বেকায়দায় পড়েছেন শ্রীলঙ্কার পপুলিস্ট নেতা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ের পরে রাজাপাকসে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এসময় তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে শুল্ক আইন পাস করেন এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পুনর্বহাল করেন। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। জাতীয়তাবাদী মনোভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তবে খুব দ্রুতই তার কৌশলগুলো ব্যর্থ হতে থাকে। সম্প্রতি জ্বালানি তেল, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ আমদানি করার মতো অর্থও শেষ হয়ে যায় দেশটিতে। তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ ক্যাম্প স্থাপন করেছে দ্বীপ রাষ্ট্রের জনগণ।

অর্থনৈতিক সংকটে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রাজাপাকসের পরিবার। হিমশিম খাচ্ছেন মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মেটাতে। ঋণের জন্য শরণাপন্ন হচ্ছেন আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দাতাদের কাছে। এরই মধ্যে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। যা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম ঘটনা। দেশের শেয়ারবাজারও শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে।

গত ২০ বছরের মধ্যে ১২ বছরই শ্রীলঙ্কার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। এসময় তারা স্বৈরতন্ত্রের তকমা পেয়েছেন। এর আগে তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তার অন্য দুই ভাই দেশটির বন্দর ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এভাবে পাকসে পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, রাজাপাকসে ক্ষমতা গ্রহণের আগেও শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকটে ছিল। তারপরও নতুন সরকার বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের জন্য চীনের কাছ থেকে ঋণ নেয়। সব মিলিয়ে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির বৈদেশিক ঋণ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

দেশটির অর্থনীতিতে প্রথম ধাক্কা আসে করোনা মহামারির পর। এসময় বিশ্বব্যাপী জারি হয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। বন্ধ হয়ে যায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত। এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে। কারণ দেশটির আয়ের সিংহভাগই আসে পর্যটনখাত থেকে। একই সঙ্গে কমে যায় রেমিট্যান্সের প্রবাহ। ফলে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমে যায়।

রাজাপাকসে সরকার ২০২১ সালে রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করে। তারপর দেশটির চাল উৎপাদন কমে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এসবের পাশাপাশি ছিল বিশাল অংকের বৈদেশিক ঋণের বোঝা।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটির বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী নেতারা ঝুঁকি সত্ত্বেও সরকারকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি দেশটির সরকার। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকায় এপ্রিলে দাতা সংস্থাটির শরণাপন্ন হয় রাজাপাকসে প্রশাসন।


আরও খবর