Logo
শিরোনাম

পুরস্কার পেলেন মি. ম্যাংগো ফটো কনটেস্ট বিজয়ীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩১ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১২৭জন দেখেছেন
Image

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল আয়োজিত মি. ম্যাংগো ফটো কনটেস্ট সিজন-২ এর বিজয়ী আট ফটোগ্রাফারের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরা ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মি. ম্যাংগোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অম্লান রনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে আট হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। তার মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত আটজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রাণ-আরএফএল আয়োজিত অন্যান্য সব প্রতিজোগিতার মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নেন বলেও জানান তিনি।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম বিজয়ী পান ল্যাপটপ, দ্বিতীয় পুরস্কার ডিএসএলআর ক্যামেরা ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি স্মার্টফোন। এছারাও অন্য পাঁচ বিজয়ীকে বিশেষ আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি। এসময় তিনি বিজয়ী ফটোগ্রাফারদের ফটোগ্রাফি বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ ম্যাংগোর হেড অব মার্কেটিং শাহাদাত হোসেন ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অম্লান বিশ্বাস।


আরও খবর



সুবীর নন্দীর চলে যাওয়ার তিন বছর

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৫জন দেখেছেন
Image

দেখতে দেখেতেই কেটে গেলো তিন বছর। এই দিনেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। ঢাকা ও সিঙ্গাপুরে টানা ১৮ দিন হাসপাতালের বিছানায় নিথর হয়ে পড়েছিলেন নন্দিত এ গায়ক। এরপর ২০১৯ সালের এই দিনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রিয় এই শিল্পীকে আজকের এই দিনটিতে মনে করেছেন তার প্রিয়জনেরা। ফেসবুকে সুবীর নন্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকেই।

১৯৫৩ সালের ৩০ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় এক সমভ্রান্ত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুবীর নন্দী। সংগীত অঙ্গনে চার দশকের ক্যারিয়ারে সুবীর নন্দী আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পুরস্কারপ্রাপ্ত সেসব চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— মহানায়ক (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) ও মহুয়া সুন্দরী (২০১৫)।

সুবীর নন্দী গানের পাশাপাশি ব্যাংকে চাকরি করেছেন। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রেও উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। সিনেমায় তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন ১৯৭৬ সালে সূর্যগ্রহণ চলচ্চিত্রে। ৮১-তে প্রকাশ পায় তার প্রথম অ্যালবাম সুবীর নন্দীর গান। সংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার সুবীর নন্দীকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর কন্ঠ দেওয়া ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’- এরকম আরও অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে।


আরও খবর



রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদের জামাত

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৫জন দেখেছেন
Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। রোববার (১ মে) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সোমবার, আর চাঁদ দেখা না গেলে মঙ্গলবার দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। করোনা মহামারির কারণে গত দু’বছর বিধিনিষেধের মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত পড়া যায়নি, মসজিদে পড়তে হয়েছে। তবে এবছর মসজিদের পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানেও হবে ঈদের জামাত। সে লক্ষ্যে রাজধানীতে ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

করোনার কারণে দু’বছর বন্ধ থাকার পর এবার রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে বলে এরই মধ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত

প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ঈদের নামাজের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. ইসহাক।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মুকাররমের সাবেক মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. আতাউর রহমান।

৯টার তৃতীয় জামাতের ইমাম হবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির মাওলানা আবু সালেহ পাটোয়ারী। খাদেম হাফেজ মো. নাছির উল্লাহ এই জামাতের মুকাব্বির থাকবেন।

ঈদের চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. শহিদ উল্লাহ।

এছাড়া পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকারমের পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির হবেন খাদেম মো. রুহুল আমিন।

পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ।

সংসদে ভবনে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিরা এ জামাতে অংশ নেবেন। এ জামাত সবার জন্য উন্মুক্ত। আগ্রহী মুসল্লিদের জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুয়েটে ঈদ জামাত সোয়া ৭টায়

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সোয়া ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে কোনো কারণে জামাত আয়োজন করা সম্ভব না হলে বুয়েটের নির্ধারিত তিনটি মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজন করা হবে।

jagonews24

বায়তুল মোকাররমে হবে ঈদের ৫ জামাত/ফাইল ছবি

ঢাবি মাঠে আহলে হাদিসের প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়

জমঈয়তে আহলে হাদিসের ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে ইমামতি করবেন বংশাল বড় জামে মসজিদের খাতিব শাইখ মুহাম্মাদ মোস্তফা সালাফি।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৫টি জামাত

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে বড়মসজিদ বা মারকাজুল ফিকহিল ইসলামীতে, সকাল সোয়া ৭টায় উম্মে কুলসুম জামে মসজিদ (সি ব্লক), সকাল সাড়ে ৭টায় এফ ব্লক জামে মসজিদে, সকাল ৮টায় বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ (জি ব্লক), সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ফকিহুল মিল্লাত জামে মসজিদে (এন ব্লক) জামাত হবে।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের ৩টি জামাত

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের নামাজের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ভোর ৬টা, সকাল ৭টা ৩০ ও ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সেখানে।

রাজধানীতে আরও যত ঈদ জামাত

রাজধানীর ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে ঈদের নামাজের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।

রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম এলাকার মীর বাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৩০ ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগে দেওয়ানবাগ শরিফের উদ্যোগে সকাল ৮টায় ও সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট, আইনজীবীদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
Image

ফেসবুকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য পরিবেশন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

মঙ্গলবার (১০ মে) সকাল ১০টায় সমিতির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

jagonews24

সমাবেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. জুলকদর রহমান, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান মুন্সী, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট কদরে আলম খান, অ্যাডভোকেট চৌধুরী খাসরুল আলম, অ্যাডভোকেট এম এম নাসির আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট রনজিত কুমার বাড়ৈ গামা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে গোপালগঞ্জ শহরতলী চরমানিকদাহ গ্রামের বাসিন্দা আলিমুজ্জামান আলিম তার ফেসবুকে সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য পরিবেশন করে পোস্ট দেন। এ ঘটনায় ঘোষেরচর গ্রামের তানভীরুল ইসলাম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।


আরও খবর



চট্টগ্রামের দুই ঈদ জামাত নিয়ে সিএমপির ৫ নির্দেশনা

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে। অন্যদিকে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত হবে।

এ উপলক্ষে মহানগরীর ঈদ জামাত সমূহের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।

পাশাপাশি ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ঈদ জামাতে জায়নামাজ ও ছাতা ব্যতীত অন্য কিছু বহন না করতে মুসল্লীদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি টিম, সাদা পোশাকে পুলিশসহ সোয়াট টিম মোতায়েন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও ঈদগাহ সমূহ সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক ও নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।

ঈদ জামাত উপলক্ষে সিএমপির প্রধান কন্ট্রোল রুম ছাড়াও জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বিকভাবে দেখভাল করবে পুলিশ ও চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। ঈদগাহসমূহে আর্চওয়ে গেট ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে।

এ ব্যাপারে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আগামী মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর ঈদ জামাতগুলোতে মুসল্লীসহ নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিএমপির পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদ জামাতের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সিএমপির পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য তিনি মুসল্লীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আরও খবর



শাওয়াল মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

সবেমাত্র আমরা পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো বিশেষ ইবাদতে রত থেকে কাটিয়েছি আর এখন শাওয়াল মাস অতিবাহিত করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

ইসলাম এমন এক শান্তিপ্রিয় ধর্ম, যার মাঝে কোনো ধরনের কঠোরতার শিক্ষা পাওয়া যায় না। মুসলমান হিসেবে আমরা সৌভাগ্যবান যে, আমরা সেই মহান রসুলের উম্মত যিনি রহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে আল্লাহপাক বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণ করেছেন। তিনি (সা.) সেই সম্পূর্ণ এবং পরিপূর্ণ শরীয়ত নিয়ে এসেছেন এবং সেই শিক্ষা নিয়ে এসেছেন যা বান্দাকে খোদার সাথে মিলিত করে।

তিনি তার অনুসারীদের সুমহান আধ্যাত্মিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত দেখতে চেয়েছেন। মানুষের কীভাবে পাপমুক্ত থাকতে পারবে এবং কীভাবে খোদার নৈকট্য অর্জন করতে পারবে এ সব বিষয়ের প্রতি তিনি (সা.) বিভিন্নভাবে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

আল্লাহতায়ালার রহমতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো বিশেষ ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। রমজান শুরুর পূর্বে ভেবেছিলাম এতো বড় দিন আর এই গরমে কিভাবে রোজাগুলো রাখবো? হয়তো বেশ কষ্ট হবে অথচ যে দিন থেকে রোজা শুরু হলো আল্লাহপাক প্রকৃতির মাঝে যেন জান্নাতি বাতাস বইয়ে দিলেন আর প্রতিটি মুসলমান অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে রোজার দিনগুলো ইবাদতের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন।

আমরা যারা রমজানের সবগুলো রোজা কেবল আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির খাতিরে রেখেছি তারা অবশ্যই বড় সৌভাগ্যবান। এখন রমজানের বিভিন্ন সৎকর্মগুলো বছর ব্যাপী জীবিত রাখতে। আমরা যদি বছরের প্রতিটি দিন আল্লাহপাকের আদেশ নিশেধ মেনে চলে জীবন অতিবাহিত করি তাহলে অবশ্যই আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন।

আমরা কেউ জানি না, আগামী রমজান লাভ করার সৌভাগ্য আমাদের হবে কি না। রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া, অন্তরের পরহেজগারী, হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা এবং খোদাতায়ালার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি যাবতীয় গুণাহসমূহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে আর আল্লাহ ও রসুলের শিক্ষা মতাবেক জীবন পরিচালিত করতে।

কিন্তু রমজানের রোজার দিনগুলো শেষ হতে না হতেই আমরা দেখতে পাই আমাদের স্বভাব-চরিত্র পূর্বের ন্যায় হয়ে যায়। রোজার দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা জামাত আদায় করার প্রতি যেমন আকর্ষণ ছিল রমজান শেষ হতে না হতেই নামাজের প্রতি কেমন যেন উদাসীন হয়ে যাচ্ছি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করার প্রতি দেখা দিচ্ছে আলস্য, কথা বলার ক্ষেত্রেও আবার মিথ্যা বলা শুরু করে দিয়েছি, নানান খারাপ কাজে আবার যোগ দিয়েছি।

এক কথায় বলা যায় যেই নাকি রমজান শেষ হলো সব ধরনের অপকর্ম আবার শুরু হয়ে যায়। আমরা যদি মনে করি রমজানের রোজাতো রাখলামই এখন আর ধর্ম-কর্ম ঠিকভাবে পালন করে কি করবো আবার আগামী বছর রোজা রেখে খোদার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিব।

এমন চিন্তা-ভাবনা যদি কারো মনে জাগ্রত হয় তাহলে সে মারাত্মক ভুল করবে। রোজার দিনগুলো হচ্ছে প্রশিক্ষণের দিন, এই প্রশিক্ষণ মতাবেক বছরের এগারো মাস অতিবাহিত করলেই না আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভ সম্ভব হবে। আর না হয় এক মাস রোজা রাখার পর আবার যদি খারাপ কাজে জড়িয়ে যাই তাহলে এই রোজা আমাদের জীবনের কোন পরিবর্তন বয়ে আনবে না।

আমাদের রোজা তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় হবে যখন আমরা রমজানের পর বাকি এগারো মাস রমজান মাসের দিনগুলোর মতই নিজের জীবন অতিবাহিত করব। রমজানে যে বিষয়গুলো প্রশিক্ষণ নিয়েছি তা বাকি দিনগুলোতে কাজে লাগাতে হবে তাহলেই আমাদের রোজা খোদার দরবারে গ্রহণীয়তার মর্যাদা পাবে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ বেলার নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত মধ্যবর্তী পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যায়। শর্ত হলো, মানুষ যদি বড় বড় গুনাহ এড়িয়ে চলে’ (মুসলিম)। এই হল, আমাদের জন্য মহানবী (সা.) এর দিকনির্দেশনা, যা শুধু পাপ থেকেই মুক্ত রাখে না বরং মুক্তি এবং পরিত্রাণের বিধান এবং ব্যবস্থা হয় এবং আধ্যাত্মিকতায় উন্নত করে।

যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে, এক নামাজের পর পরবর্তী নামাজের কথা ভাববে, এটি হতেই পারে না যে, সে কোন ধরনের পাপে লিপ্ত হবে বা অন্যের ওপর জুলুম করা আরম্ভ করবে। আর কেউ যদি এমনটি করে তাহলে তার নামাজ, নামাজ নয় বরং সে সবচেয়ে বড় পাপে লিপ্ত। রমজান মাসের রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম।

শাওয়াল মাসের রোজা সম্পর্কে হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। যেমন হজরত আবু আয়ুব আনসারী (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রসুল করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে এবং পরবতীর্তে (ঈদের দিন বাদ দিয়ে) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখে সেক্ষেত্রে সে যেন গোটা বছরই রোজা রাখলো (মুসলিম)।

হাদিসে আরো বর্ণিত হয়েছে হজরত ছাওবান (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রসুলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতিটি নেকি ১০ গুণ বৃদ্ধি করেন। সুতরাং রমজানের এক মাস রোজা রাখার দ্বারা ১০ মাস রোজা রাখার সাওয়াব হবে এবং ঈদুল ফিতরের পর ছয়টি রোজা রাখার দ্বারা পূর্ণ এক বছর রোজা রাখার সাওয়াব হবে’ (ইমাম নাসায়ী ফিস সুনানিল কুবরা)। অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় গোনাহমুক্ত হয়ে গেল’ (আল মুজামুল আওসাত)।

হজরত আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল সে যেন এক যুগ (পূর্ণ বছর) রোজা রাখল’ (আবু দাউদ)।

এসব হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম শাওয়াল মাসের রোজার গুরুত্ব কত ব্যাপক। শুধু রোজা রাখলেই হবে না বরং প্রকৃত অর্থে আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে রোজা রাখতে হবে। নামাজ আর রোজার সমন্বয়ে মানুষের মাঝে খোদার নৈকট্য লাভের এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তা এভাবে যে, নামাজ আত্মাকে পবিত্র করে এবং রোজা হৃদয়কে আলোকিত করে। ফলশ্রুতিতে নিষ্ঠাবান ব্যক্তি রোজা দ্বারা আধ্যাত্মিকতার এক নতুন রাস্তায় পরিচালিত হয়ে খোদার সন্তুষ্টির ছায়াতলে চলে আসে।

পবিত্র কোরআন বলে, রোজা তোমাদের মাঝে তাকওয়া অর্থাৎ খোদাভীতি সৃষ্টি করবে। এই তাকওয়া কিভাবে সৃষ্টি হবে? বস্তুতঃ রোজা এমন ইবাদত যা মানুষের প্রতিটি ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ না রেখে কেউ রোজা রাখে তবে তা রোজা নয় বরং অন্য কিছু। খোদাভীতির সৃষ্টি এভাবেই হয় যে, মানুষ খোদার সন্তুষ্টির জন্য নিজের মন মেজাজ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে খোদার ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে তার অবাধ্য আত্মা নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে। ঐ সকল কর্ম হতে সে দূরে সরে পড়ে যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসন্তুষ্টির কারণ হয়।

মহানবী (সা.) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজার কথা উল্লেখ করে এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন, রমজানের ৩০ টি ও শাওয়ালের ৬টি মোট ৩৬ টি রোজা যে রাখবে সে যেন সারাটা বছর রোজা রাখার সওয়াব পেল।

আমাদের সবার উচিত হবে, শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখার চেষ্টা করা। এছাড়া রমজানের দিনগুলো যেভাবে বিশেষ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়েছি বছরের বাকি দিনগুলোও যেন সেভাবে কাটানোর চেষ্টা করি। আমাদের সবাইকে আল্লাহ ও তার বান্দার অধিকার আদায় করার তৌফিক দান করুন, আমিন।


আরও খবর