Logo
শিরোনাম

রোগ-ব্যাধি-মহামারিমুক্ত থাকতে নবিজীর আমল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

দীর্ঘদিন ধরেই করোনাভাইরাসে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। কখনো কোথাও এর প্রকোপ কমছে আবার কোথাও বাড়ছে। এখনও বিশ্ব এ ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। করোনা ছাড়াও মৌসুমি মারাত্মক রোগ-ব্যাধির আক্রমণও আছে ব্যাপকহারে। এসব রোগ-ব্যাধি ও মহামারিমুক্ত থাকতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ মেনে চলা ও দেখানো আমল করা জরুরি।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনা জাতির মধ্যে অশ্লীলতা-বেহায়াপনা ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের মধ্যে এমন এমন নতুন রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

যে কোনো সংক্রামক রোগ-ব্যাধি ও মহামারি থেকে মুক্ত থাকতে নিয়মিত এ আমলগুলো করা-

১. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি তোমরা মহামারীর (নতুন নতুন রোগ-ব্যাধির) কোনো সংবাদ শোন, তো সেখানে (আক্রান্ত অঞ্চলে) তোমরা প্রবেশ থেকে বিরত থাক। আর যদি কোনো শহরে বা নগরে কেউ সে মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তো সেখান থেকে তোমরা বের হয়ে (অন্য কোনো অঞ্চলে) যেয়ো না।’ (বুখারি)

২. গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার পড়া-

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْم

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।

৩. যে কোনো অজানা রোগ-ব্যাধি ও মহামারি থেকে বাঁচতে নবিজীর শেখানো এই দোয়া পড়া-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুন ওয়াল ঝুজাম ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

৪. যে কোনো ভয়াবহ বিপদ-আপদ থেকে বাঁচতে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের এ দোয়াটি পড়া-

لَااِلَهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْن

উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমিন।’

৫. ছোট-বড় সব বিপদ ও মুসিবতে এ দোয়া পড়া-

اِنَّالِلَّهِ وَ اِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ – اَللّهُمَّ اَجِرْنِىْ فِىْ مُصِيْبَتِىْ وَاخْلُفْ لِىْ خَيْرًا مِّنْهَا

উচ্চারণ : ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন; আল্লাহুম্মা আযিরনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলুফলি খাইরাম মিনহা। (মুসলিম)

৬. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসিসহ  সকাল-সন্ধ্যা এ সুরাগুলো পড়া-

> সুরা ইখলাস।

> সুরা ফালাক ও

> সুরা নাস পড়া।

৭. নবিজীর বিশেষ আমল

হজরত উসমান ইবনে আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোনো বান্দা এ দোয়াটি ৩ বার পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট/ক্ষতি করতে পারবে না-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস্সামায়ি ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।’ (তিরমিজি)

অর্থ : ‘ওই আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।’

৮. নতুন সৃষ্ট সংক্রামক ব্যাধি ও অশ্লীলতা থেকে মুক্তির জন্য এ দোয়া পড়া-

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

৯. সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার এ দোয়া পড়া-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সার্‌রি মা খালাকা।

ভাইরাসজনিত রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধে যেসব সতর্কতা অবলম্বন জরুরি, তাহলো-

১. জনসমাগম এড়িয়ে চলা চেষ্টা অব্যাহত রাখা। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়াই ভালো। যতটা সম্ভব ঘরেই থাকার চেষ্টা করা।

২. একান্ত প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা।

৩. প্রয়োজন ছাড়া গণপরিবহন তথা বাস-ট্রেন-লঞ্চের যাতায়াত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা।

৪. ঘরে ফেরার পর হ্যান্ডওয়াশ বা তরল সাবান কিংবা জীবানুনাশক দিয়ে ভালোভাবে ন্যূনতম ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নেওয়া।

৫. বাইরে যাওয়ার আগে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে যাওয়া।

৬. সকালে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের জন্য ঘরের দরজা-জানালা কিছু সময় খুলে রাখা।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। ফলমূল ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গ্রহণ করা। রান্না বা প্রক্রিয়ার আগে তা ভালোভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেয়া কিংবা ধুয়ে নেওয়া।

৮. আমিষ জাতীয় খাবার- ডিম, গোশত কিংবা মাছ রান্নার সময় তা ভালোভাবে সেদ্ধ করে নেওয়া।

৯. করোনা বা করোনা জাতীয় সংক্রামক রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গেলে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং অন্যদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহসহ সব মানুষকে এ ভাইরাস থেকে রক্ষা করুন। সতর্কতামূলক বিষয়গুলো মেনে চলার চেষ্টার পাশাপাশি উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর

কাদের উপরে কোরবানি আবশ্যক?

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লায় পুলিশের মহড়া

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ নির্বাচনী মহড়া করেছে জেলা পুলিশ। এতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরাও।

সোমবার (৬ জুন) বিকেলে এ মহড়াটি পুলিশ লাইন্স থেকে বের হয়ে ফৌজদারী, ভাটপাড়া, বিষ্ণুপুর, শাসনগাছা, রাণীর বাজার, সালাউদ্দিন মোড় হয়ে চকবাজার, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পুলিশ লাইন্সে ফিরে আসে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা এপিবিএন সদস্যরা। নির্বাচনকালে তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে এবং স্বতন্ত্রভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

Comilla-2.jpg

মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির টহল টিম, রিজার্ভ ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাচনের সময় সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। সবমিলিয়ে ছয় হাজারের বেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন বলেও জানা গেছে। আইনশ্খৃলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে থাকবে বুলেট প্রুফ আরমোরেড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও জলকামান গাড়ি। ভোটের দিন কুসিক এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নগরীতে প্রবেশ পথে মোতায়েন থাকবে পুলিশের ৭৫টি চেকপোস্ট ও ১০টি পিকেট টিম। এছাড়া বর্তমানে নগরীতে পুলিশের ২১টি টহল টিম ও ১৫টি স্থানে চেকপোস্ট রয়েছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবো। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ সদস্য ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটের দিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে ভোটকেন্দ্রসহ পুরো নগরী। এরই অংশ হিসেবে আমরা সোমবার পুরো কুমিল্লা নগরীজুড়ে একটি মহড়ার আয়োজন করি।


আরও খবর



বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২০জন দেখেছেন
Image

সারাদেশে বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১৭ মে থেকে মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন রোগে এদের মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর



১৬ বছর প্রবাসে থেকে লাশ হয়ে ফিরছেন আমির খসরু

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মো. আমির খসরু (৪৩)। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘাটলা গ্রামে। টানা ১৬ বছর কাটিয়েছেন প্রবাস জীবন। এর মধ্যে একবারও বাড়ি আসেননি তিনি।

চলতি বছরের ১৪ জুলাই দেশে আসতে কেটেছিলেন উড়োজাহাজরে টিকিট। আসবেনও তবে উড়োজাহাজের সিটে নয় কফিনে। কারণ, শনিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইস্টার্ন কেপের কুইন্স টাউনে ঘুমের মধ্যে মারা যান আমির খসরু।

আমির খসরু দক্ষিণ ঘাটলা গ্রামের লতিফ মিস্ত্রির বাড়ির আবদুস সোবহানের বড় ছেলে। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনি। আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমার তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে আমির খসরু সবার বড়। অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যান। সংসারের কথা চিন্তা করে ছেলেটা ১৬ বছর দেশে আসেনি, বিয়েও করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বলার পর ১৪ জুলাই দেশে আসার জন্য বিমানের টিকিট করে বাড়িতে ফোন দিয়েছে। তার জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছে। দেশে আসলে বিয়ে করানোর কথা ছিল। কিন্তু রোববার (২৬ জুন) সকালে তার সঙ্গে থাকা একজন ফোন করে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার সংবাদ দেয়।’

কাদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমির খসরু আমার স্কুল জীবনের বন্ধু। মাঝে মধ্যে বিদেশ থেকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিতো। ১৪ জুলাই দেশে আসবে বলেছিল। তার সঙ্গে আর জীবিত দেখা হলো না। বিষয়টি ভাবতে অনেক কষ্ট লাগছে। তার মরদেহ আনতে আলোচনা চলছে।’


আরও খবর



জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের কার্যকলাপের ফল, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটাতে পারে। করোনা মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের মধ্যে আরও একটি দুঃসংবাদ পেল বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখনই কমানো না গেলে শিগগির বিশ্ববাসীকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বিশ্বে খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো বিপর্যয় বাড়তেই থাকবে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন অত্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। মানুষ এবং প্রকৃতিকে ২০ বছর আগের তুলনায় আরও চরম আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাপমাত্রার পরিবর্তন বা ভারী বৃষ্টিপাতের মতো ঘটনাগুলো প্রায়শই ঘটছে। পশুপাখি, কৃষি ও মানুষের মধ্যে ক্রমশ প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ বলছে যে, এই ধরনের প্রবণতা রোধ করতে একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে। এটা সম্ভব হলে জনগণের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার পথ টিকবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই বছরটিই সম্ভবত এই শতাব্দীর সবচেয়ে শীতলতম একটি বছর হবে কারণ আমাদের গ্রহ ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। আইপিসিসি বলছে, বিশ্বের সরকারগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ করবে না। বিপরীতে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে। এমনকি কয়েক দশকের গড় নির্গমন সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। এই হারে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বিশ্বকে এতটাই উত্তপ্ত করবে যে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যাবে না। ফসলের চাষাবাদ ও জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে ওঠবে। বরফের পাহাড়গুলো অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং বড় শহরগুলো ডুবে যাবে। কিন্তু সরকার এখনও তাদের স্বার্থ ত্যাগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত। পরিবর্তে, তারা জীবাশ্ম জ্বালানিতে তাদের করা বিনিয়োগ রক্ষার দিকে বেশি মনোনিবেশ করে আছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উল্লেখ করেছেন যে এই ব্যবস্থা চলতে পারে না। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, পৃথিবী দ্রুত জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অকপটে আরও বলেন যে, বিশ্বের দেশ এবং করপোরেশনগুলো শুধু একটি গ্রহগত বিপর্যয় দেখার ভান করছে না, আগুনের লেলিহান শিখায় ইন্ধনও দিচ্ছে। বিপরীতে, প্রয়োজনীয় পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গ্রহণ এবং সস্তা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য বিকল্পের প্রচারের জন্য গৃহীত নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য খুব কম সময় রয়েছে। ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য, বিশ্বকে ২০৩০ সালের মধ্যে তার বার্ষিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্যে পৌঁছাতে হবে। এজন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমাতে হবে।

আন্তোনিও গুতেরেস এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক প্রতিবেদন দেখেছেন। কিন্তু আইপিসিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বের ব্যর্থতা তুলে ধরার মতো ভয়াবহ চিত্র তিনি আগে কখনও দেখেননি। তার মতে, তার মতো সারা বিশ্বের মানুষ চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জনগণকে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুষ্টিমেয় কিছু দেশ এবং বড় করপোরেশন কীভাবে বাকি বিশ্বের অধিকার খর্ব করছে সে বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, যাকে তিনি অপরাধ বলে মনে করেন।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা এখন প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই সীমা অতিক্রম করা মানে এটি একটি মৃত প্রবাল প্রাচীরের মতো একই প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের বর্তমান মহামারি থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য দ্রুত পরিবর্তনের একটি দুর্দান্ত সুযোগ ছিল। বিশ্বের বেশিরভাগ সরকার সেই সুযোগটি হারিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে হাইড্রোকার্বনের ওপর নির্ভরশীল উদ্বিগ্ন দেশগুলোর জন্য এখন আরেকটি সুযোগ এসেছে।

বাংলাদেশ ১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, এবং জলাবদ্ধতা, মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

এই জলবায়ু পরিবর্তন দেশের কৃষি, অবকাঠামো এবং জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইতিমধ্যে আমরা সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে অকাল বন্যা হতে দেখেছি। যাতে হাওর অঞ্চলের ফসল বিশেষ করে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এ বছর কলেরার প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগও বেড়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । বাংলাদেশ একটি সমতল ও নিচু ভূমি এলাকা নিয়ে গঠিত। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের নাগরিক এবং সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দেশের ৮০ শতাংশেরও বেশি জমি বন্যাপ্রবণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত, তাই জলবায়ু পরিবর্তন এই কৃষকদের খারাপভাবে প্রভাবিত করবে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ২১০০ সালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে। প্রতিবেদনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়বে বলে অনুমান করা হয়েছে। এতে দেশে ব্যাপক বন্যা হবে এবং ফসলহানি ঘটবে। এতে দারিদ্র্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৩) জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। এসডিজি-১৩ এর টার্গেটগুলো হলো- ১. সব দেশে জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজিত ক্ষমতা জোরদার করা, ২. জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যবস্থাগুলোকে জাতীয় নীতি, কৌশল এবং পরিকল্পনায় একীভূত করা,

৩. শিক্ষার উন্নতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, অভিযোজন, প্রভাব হ্রাস এবং প্রারম্ভিক সতর্কতা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, ৪. অর্থবহ প্রশমন কর্ম এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদা মোকাবিলা করার জন্য ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার যৌথভাবে সংগ্রহ করার লক্ষ্যে UNFCCC-তে উন্নত-দেশের পক্ষগুলোর গৃহীত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং সবুজ জলবায়ুকে সম্পূর্ণরূপে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা;

৫. স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কার্যকর জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রক্রিয়াগুলো প্রচার করা এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, নারী, যুবক এবং স্থানীয় এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর ওপর ফোকাস করা; এবং ৬. স্বীকার করা যে, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য প্রাথমিক আন্তর্জাতিক, আন্তঃসরকারি ফোরাম। সুতরাং সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে ব্যর্থতা দেশগুলোকে আরও জলবায়ু-প্ররোচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিকে নিয়ে যাবে।

২৭তম জলবায়ু সম্মেলন সামনে। পরিবেশ রক্ষায় সেখানে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু প্যারিস জলবায়ু বৈঠকে ১২০টি দেশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা পূরণ হয়নি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি শতাব্দীতে বিশ্বের তাপমাত্রায় দূষণের মাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। যদিও প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে সব পক্ষ একমত হয়েছিল, তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে প্রতি বছর বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ ২৬ গিগাটন কমাতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশকে তাদের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। এটি ২০২২ সাল। আর মাত্র আট বছর বাকি। সুতরাং এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে বিশ্বকে আরও ভয়াবহতার সম্মুখীন হতে হবে।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন প্রতিটি দেশকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট যে কোনো উল্লেখযোগ্য লাভ হয়নি। ফলে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দাবানল, তাপপ্রবাহ ও বন্যায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়ার বিচিত্র রূপ দেখা যাচ্ছে সর্বত্র।

জলবায়ু পরিবর্তন এই মুহূর্তে মানুষ এবং অন্যান্য জীবের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আরও বিধ্বংসী প্রভাব পড়বে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু ইতিমধ্যে এটির ভয়াবহতা প্রমাণ করেছে। সুতরাং মানবজাতিসহ অন্যান্য প্রাণীর স্বার্থে আমাদের ভালোবাসার গ্রহকে রক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মোকাবিলা করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।


আরও খবর



‘কর দিয়ে পাচারের টাকা ফেরানোর সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো’

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

বিদেশে পাচার করা টাকা সাত শতাংশ কর দিয়ে ফিরিয়ে আনার সুবিধা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নৈতিকতার প্রশ্ন থাকলেও আইনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এই সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার (১ জুলাই) এফডিসি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘এবারের বাজেট টেকসই উন্নয়নে সহায়ক’ শীর্ষক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চুরি করা টাকা ফেরানোর জন্য পাচার করেননি পাচারকারীরা। এই (ফিরিয়ে আনার) সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো। যদি কিছু আসে তাই লাভ। এতে বড় ধরনের লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না। হয়তো কেউ যদি ১০০ টাকা পাচার করে ১০ টাকাও ফেরত নিয়ে আসেন তাতেও লাভ।

তিনি বলেন, সব কথার একটাই কথা আমরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে অবৈধ উপায়ে বেগমপাড়া কিংবা বিভিন্ন বনে-জঙ্গলে থেকে কী লাভ! বাংলাদেশে থাকার মধ্যে যে শান্তি পৃথিবীর অন্য কোথাও তা নেই বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

এম এ মান্নান বলেন, দাতা সংস্থা বা দাতা দেশ বলতে কিছু নেই। এখন আর আমরা দান-খয়রাত গ্রহণ করি না। আমরা ঋণ নেই। এটা আমাদেরই টাকা। অনেকে বিপদে সহযোগিতা করেন, সেটা বন্ধুত্বের খাতিরে করে থাকেন। আমরাও অনেক সময় অনেক দেশকে অনুদান দেই।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বৃষ্টি কিংবা ঝড় হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিষয়টি থেকে আমরা পরিত্রাণের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে আমরা যাতে এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আমাদের অনেক বড় অর্জন আছে, লজ্জাও আছে উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, শিক্ষক হত্যা, শিক্ষককে জুতার মালা পরানো- এটা অনেক বড় লজ্জা। ঢাকায় দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী লাঠি নিয়ে, অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এক গ্রুপকে আরেক গ্রুপ ধাওয়া করে, সেটা কোনো দেশে নেই। পাকিস্তানেও এই চিত্র দেখা যায় না। আমাদের এখানে বাল্যবিয়ে হয়। এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, এবারের বাজেটকে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য খুব বেশি সুখবর নেই এই বাজেটে। ব্যক্তি করে নেই কোনো ছাড়, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের জন্য তেমন কোন কর্মসূচি নেই। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্ধিত ভাতার পরিমাণ যৎসামান্য। স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ খুবই কম, নেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুস্পষ্টতা।

তিনি বলেন, অন্যদিকে, বাজেটে প্রতি বছর ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলছে। ঘাটতি বাজেট পূরণে সরকার দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সরকার এবার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছে। অথচ দুই বছর আগেও বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির এই চিত্র আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক নয়। অন্যদিকে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে ঘাটতি বাজেট পূরণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ছায়া সংসদে বিজয়ী হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, আরিফুর রহমান ও কাবেরী মৈত্রেয়।


আরও খবর