Logo
শিরোনাম

শাওয়াল মাসের আইয়ামে বিজের রোজা ১৫-১৭ মে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৬১জন দেখেছেন
Image

হিজরি বছরের দশম মাস শাওয়াল। প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩-১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ তিনদিন রোজা রাখতেন। প্রিয় নবির সুন্নাতের অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ এ তিনদিন রোজা পালন করে থাকেন।

১৪৪৩ হিজরির চলতি শাওয়াল মাসের ১৩-১৫ তারিখ হলো- ১৫, ১৬ ও ১৭ মে মোতাবেক রোববার, সোমবর ও মঙ্গলবার। যারা আইয়ামে বিজের তিনদিন রোজা রাখবেন; তাদের জন্য ১৪ মে (১২ শাওয়াল) সোমবার দিবাগত রাতেই সেহরি খেতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যভাগে ৩ দিন রোজা রাখতেন। উম্মতে মোহাম্মাদির জন্য এ তিনদিন রোজা রাখা সুন্নাত। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এ তিনদিন রোজা রাখতে বলেছেন।

আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত
আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্বারোপ করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে ঘোষণা করেছেন-
> হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখল; সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ অতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন-
‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০গুণ।’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান।’ (তিরমিজি)

> হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা রাখতেন।’ (আবু দাউদ)

> হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারা বছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)

এছাড়াও আইয়ামে বিজের রোজা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে-
হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। অতঃপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা পালন, সারা বছর রোজা পালনের সমান।’

উল্লেখ্য এ মাসটি বছরজুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়ার বিশেষ মাস। এ মাসে ৬ টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাই যারা রমজানের রোজা রেখেছেন, তাদের জন্য শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে বছরজুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়ার চেষ্টা করা জরুরি।


আরও খবর



‘অশনি’র প্রভাবে বৃষ্টি, ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে কৃষক

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

ক্ষেতের পাকা ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য জড়ো করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক লাল্টু মিয়া। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে সোমবার (৯ মে) দুপুরে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিজে যায় সেই ধানের কিছু অংশ। আর বাকি ধান বৃষ্টিতে ভেজার হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে তিনি। তবে ভিজে যাওয়া ধানের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাবে বলে জানান এই কৃষক।

একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান কাটার কাজ। জেলার সাধুহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈরি আবহাওয়ার হাত থেকে ধান রক্ষার জন্য ৮০ ভাগ পেকে গেলেই তা কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংও করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কৃষক ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলেছেন আবার কারও কারও কাটা ধান রয়ে গেছে ক্ষেতেই। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক স্থানেই সেই ধান ভিজে গেছে। আর কাটার অপেক্ষায় থাকা ধানগুলো হেলে পড়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ৩২ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে।

জেলা সদরের ভরুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক লাল্টু মিয়া বলেন, ১০ কাঠা জমির ধান কেটে রেখেছিলাম বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে কিছু ধান ভিজে গেছে আর কিছু পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছি। ভিজে যাওয়া ধানের মধ্যে পানি লাগার কারণে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

লাউদিয়া এলাকার কৃষক কাইয়ুম হোসেন জানান, রোববার সকালে দুই বিঘা জমির ধান কেটেছেন। কিন্তু সোমবারের বৃষ্টিতে মাঠে কেটে রাখা ধান পানিতে ভিজে গেছে। এভাবে যদি বৃষ্টি হতে থাকে তাহলে কেটে রাখা ধান প্রায় সবই নষ্ট হয়ে যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বৃষ্টিতে কেটে রাখা কিংবা পড়ে যাওয়া ধান চারা গজিয়ে কিংবা ঝরে কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে যদি বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে কৃষককের ক্ষতির মাত্রা বাড়বে।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে শহরের হাটেবাজারে, রাস্তাঘাটে কমেছে মানুষের চলাচল। অলস বসে সময় কাটছে কিছু কিছু দোকানির। কমেছে বেচাকেনা। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।


আরও খবর



অরিত্রীর আত্মহত্যা: জব্দ তালিকার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আতাউর রহমান। তিনি জব্দ তালিকার সাক্ষী।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে তিনি এ সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করেন।

এ নিয়ে মামলার ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। এ মামলার আসামিরা হলেন- ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিনাত আক্তার।

২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

২০১৯ সালের ২০ মার্চ এ দুই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। আসামিদের নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণে অরিত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

একই বছরের ১০ জুলাই এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৫ নভেম্বর এ মামলার বাদী ও অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। এরপরে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট অরিত্রী মা বিউটি অধিকারী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে— এমন অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। দিলীপ অধিকারী তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।


আরও খবর



সায়েদাবাদে যাত্রীর চাপ কম, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণে নিজ নিজ বাসের গন্তব্যের নাম ধরে বাসের স্টাফরা চিৎকার করে যাচ্ছেন। দীর্ঘসময় পর হয়তো ভরছে গাড়ি। তারপরই ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। টিকিট কাউন্টারগুলোতেও নেই যাত্রীদের ভিড়। এছাড়া কোনো কোনো বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

রোববার (১ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গাড়িচালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদে ছুটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে মূলত এসময়ে যাত্রীর চাপ নেই। কারণ মানুষ দীর্ঘসময় পাওয়ায় ঈদের দু/একদিন আগে আর ভিড় করে যাচ্ছে না। তবে আজ বিকেলে কিংবা আগামীকাল (সোমবার) যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

পরিবারের চারজন সদস্য নিয়ে সিলেট যাবেন মো. আবুল হাশেম। তিনি সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকালী মিতালী পরিবহনের একজন স্টাফের সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণ করছিলেন। ওই বাসের কর্মী বলেন, ভাড়া একদম ৫০০ টাকা। আবুল হাসেম যেটা ভাড়া সেটাই নিতে বললেন, কিন্তু তিনি রাজি হলেন না।

পরে আবুল হাসেম বলেন, রেগুলার ভাড়া সাড়ে ৪০০ টাকার মতো। এখন ৫০০ টাকার নিচে যেতে চাচ্ছে না। মানুষের হাতে এমনি টাকা-পয়সা নেই, তারওপর ভাড়া বেড়ে গেছে।

saydabad-2.jpg

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে তাদের কাছ থেকে।

সায়েদাবাদে মূল টার্মিনালের ভেতর গিয়েও দেখা যায় গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, যাত্রী কম। ঢাকা-নোয়াখালীর রায়পুর রুটে চলাচলকারী জোনাকি পরিবহনের চালক স্বপন বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় যাত্রী একেবারেই কম। লম্বা ছুটি থাকায় মানুষ হয়তো ধাপে ধাপে চলে গেছে।

অন্যান্য সময়ে রায়পুরের ভাড়া ৩৭০ টাকা হলেও এখন কিছুটা বাড়বে বলেও জানান চালক স্বপন। তিনি বলেন, গাড়ি আসতে হচ্ছে একেবারে খালি। তাই যাওয়ার সময় ভাড়া কিছুটা বেশি না নিলে পোষাবে না।

ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচল করা তিশা গোল্ড পরিবহনের চালক মো. আল আমিন বলেন, গতকালকে একটি ট্রিপ দিয়েছি, এখন পর্যন্ত আর যাইতে পারি নাই। যাত্রী অনেক কম। অন্যান্য বছর ঈদের এই সময়ে যাত্রী টেনে কুল পাই না।

সায়েদাবাদ করাতিটোলার দিকে ঢাকা-হাজীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী তিশা এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী একাই বসে ছিলেন। তিনি বলেন, এবার ঈদে প্রায় টানা ৯ দিনের ছুটি। তাই ধীরে-সুস্থে বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। এ কারণে এখন যাত্রীর চাপ কম। কোনো কোনো বাসের দু-চারটি সিট খালিও যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বছর ঈদের এই সময়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে গাড়ি ভরে যেতো। এখন সেই গাড়ি এক ঘণ্টায়ও ভরছে যাচ্ছে না। এক ঘণ্টা পরও দেখা যাচ্ছে ৪/৫টি সিট খালি থাকছে। আমরা আশা ছাড়িনি, আজ বিকেলে বা কালকে যাত্রীর চাপ থাকবে বলে আশা করছি।

বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না দাবি করে মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩২৭ টাকা, সেখানে আমরা ৩০০ টাকা নিচ্ছি।

রোববার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন সোমবার (২ মে) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর বাংলাদেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে সোমবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে ঈদ উদযাপিত হবে মঙ্গলবার (৩ মে)।


আরও খবর



খাতুনগঞ্জে কমেছে পাম-সয়াবিন তেলের দাম, আরও কমার আশা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

#উল্টো পথে খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেলের বাজার
# আন্তর্জাতিক বাজারেও কমতে শুরু করেছে পাম তেলের দাম

সারাদেশে ভোজ্যতেল নিয়ে থামছে না হাহাকার। রেকর্ড পরিমাণ আমদানি ও মিল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কৃত্রিম মজুতের কারণে কাটছে না সংকট। অবৈধভাবে মজুতের দায়ে প্রতিদিন জরিমানা করছে ভোক্তা অধিকার। গত ৫ মে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ৩৮ টাকা, খোলা ৪০ টাকা ও পাম তেলে ৪২ টাকা বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবু দেশজুড়ে ভোজ্যতেলের সংকট। তবে উল্টো চিত্র দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের।

ঈদের আগে যে খোলা সয়াবিন তেল মণপ্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা ছিল, তা সোমবার (৯ মে) বিক্রি হয়েছে সাত হাজার দুইশ টাকায়। একইভাবে পাম তেল ছয় হাজার পাঁচশ টাকা বিক্রি করা হলেও সোমবার বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার দুইশ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে। যার প্রভাব খাতুনগঞ্জে পড়তে শুরু করেছে। যে কারণে খোলা তেলের দাম বাড়ানো হলেও খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দাম কমেছে।

এদিকে, সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসাবমতে, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সারাদেশে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিলেও চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে চাহিদার এক তৃতীয়াংশ বেশি ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের গত ৮ মে পর্যন্ত (বছরের প্রথম ১০ মাস ৮ দিনে) ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন তেল আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ১৯ লাখ ২ হাজার ৫১০ টন ও সয়াবিন তেল ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮৪৮ টন।

সবশেষ ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৫৪ দিনে আমদানি হয়েছে চার লাখ ৯১ হাজার ৩০৩ মেট্রিক টন তেল। এর মধ্যে পাম তেল তিন লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন। সয়াবিন তেল এক লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন। এখনো অর্ধেকের বেশি বন্ডেন্ড ট্যাংক থেকে খালাস নেননি মিলাররা।

jagonews24

ঈদের আগে-পরে ৮ দিনে (১ মে থেকে ৮ মে পর্যন্ত) ১৯ হাজার তিনশ টন পাম তেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শুল্কায়ন পরবর্তীসময়ে মিলাররা খালাস নিয়েছেন সাত হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত পাম তেল। এই ৮ দিনের সয়াবিন তেল খালাস নেননি মিলাররা।

অন্যদিকে, ঈদের পর গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

নতুন দর অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৮৫ টাকা। তাছাড়া পরিশোধিত পাম সুপার তেল ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭২ টাকা করা হয়েছে।

এদিকে, খুচরা বাজারে দাম বাড়ানো হলেও পাইকারি বাজারে দাম ছিল নিম্নমুখী।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার সক্ষমতার অতিরিক্ত ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) বাজারে ছেড়ে টাকা তুলে নেওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট কমে যাওয়া ও ঈদের পর চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমছে। সামনে আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডিও ব্যবসায়ী বলেন, দেশের বড় একটি শিল্প গ্রুপ খাতুনগঞ্জের বাজারে অগুণিত ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ছেড়েছে। যা বাজারের সক্ষমতার বেশি।

ডিও ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘বাজারে ঈদের আগে পাম তেল প্রতিমণ সাড়ে ছয় হাজার ছাড়িয়েছিল। কিন্তু গত সোমবার সেই পাম তেল ছয় হাজার দুইশ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। সোমবার বাজারে এস আলমের পাম তেল প্রতিমণ ছয় হাজার দুইশ টাকা হলেও ঢাকার সিটি গ্রুপের ডিও বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার চারশ টাকার বেশিতে।’

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের তেল চিনির বড় ব্যবসায়ী আরএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, খুচরা বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু খাতুনগঞ্জে তেলের দাম উল্টো কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম কমেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বুকিং রেট কমছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কমবে। যে কারণে খাতুনগঞ্জের বাজারে প্রভাব পড়েছে।

jagonews24

তিনি বলেন, ‘এখন ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য জেনে যাচ্ছেন। এতে খাতুনগঞ্জের বাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আমদানিকারক, সরকার সবার পক্ষে কথা বলার জন্য লোক আছে, মিডিয়া আছে। কিন্তু ভোক্তাদের পক্ষে কেউ নেই। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে মনিটরিং করছে। প্রশাসনের আর কোনো সংস্থাকে মাঠে চোখে পড়ছে না।’

তিনি বলেন, ঈদের পর তড়িঘড়ি করে খোলা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এর আরও ১৫ দিন আগে থেকে মিলাররা বাজারে তেল সরবরাহ বন্ধ করে রাখে। তখন তাদের (মিলার) ধরার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যখন দাম বাড়ানো হচ্ছিল, তখন দেখা যাচ্ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম পড়তির দিকে। ঠিক সেই সময়ে আমাদের দেশে খোলা তেলের দাম বাড়িয়ে মিলারদের লাভবান করা হয়েছে। ভোক্তাদের প্রতারিত করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর বিষয়টি সরকার চাইলে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারতো। এখন ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোতে আনুষঙ্গিক অনেক জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটি রেওয়াজ আছে, কোনো প্রকারে একবার পণ্যের দাম বাড়ানো গেলে পরে সেটা আর কমে না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’


আরও খবর



হঠাৎ ডুবলো দৌলতদিয়ার দুই ফেরিঘাট, বন্ধ যানবাহন ওঠা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৮জন দেখেছেন
Image

হঠাৎ বেড়েছে পদ্মা নদীর পানি। ফলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের র‌্যাম্প পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন ওঠা-নামা বন্ধ থাকলেও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে স্বাভাবিক রয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে ৬ নম্বর ঘাটটি।

শুক্রবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে ফেরিঘাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে ঘাট দুটির পন্টুনের র‌্যাম্প ওপরে ওঠানোর কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

এদিকে ঘাট দুটি বন্ধ থাকার কারণে নদীপারের অপেক্ষায় মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটার ও গোয়ালন্দ মোড়ের সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার আটকা পড়েছে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক। এরমধ্যে অল্প কিছু রয়েছে যাত্রীবাহী যানবাহন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৮০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে দৌলতদিয়ায় ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের র‌্যাম্প ডুবে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়ায় সাতটি ঘাটের মধ্যে সচল রয়েছে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট। এছাড়া ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাট সংশ্লিষ্টরা বলেন, ফেরিঘাটের অবস্থা ভালো না। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে অন‌্য ঘাটেও সমস্যা হবে। দীর্ঘদিন পর ৬ নম্বর ঘাট চালু হলেও যে পরিমাণ স্রোত বইছে, তাতে পাড় ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১ ও ২ নম্বর ঘাট তো দীর্ঘ কয়েকবছর ধরেই বন্ধ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সার্ভেয়ার পাপ্পু কুমার জাগো নিউজকে বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তের ৩ ও ৬ নম্বর ঘাট মিড ওয়াটারে আছে। যার কারণে ঘাটগুলো দিয়ে যানবাহন ওঠা-নামা করতে পারছে না। ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ঘাট লো-ওয়াটারে ছিল। নদীর পানি বাড়ায় এগুলোর র‌্যাম্পে পানি উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট। ৭ নম্বর ঘাটে একটু পানি থাকলেও সমস্যা হচ্ছে না। তবে র‌্যাকার এলে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ঘাট তিনটি লো থেকে মিড ওয়াটারে ওঠানো হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। হঠাৎ নদীর পানি বাড়ায় পন্টুনের র‌্যাম্প ও সংযোগ সড়কে পানি ওঠায় কয়েকটি ঘাট দিয়ে সাময়িকভাবে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। পাটুরিয়া থেকে র‌্যাকার এলে পন্টুনের র‌্যাম্প ওপরে ওঠানোর কাজ শুরু হবে।


আরও খবর