Logo
শিরোনাম

‘শব্দত্রাস’ বিষয়ে সচেতন করছে দুরন্ত বাইসাইকেল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
Image

শব্দ দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকা। ফলে বধিরতা, হৃদরোগসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে নগরীর মানুষ। রাজধানীতে শব্দ দূষণের অন্যতম প্রধান একটি অনুষঙ্গ গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত হর্ন। নীরব এই ঘাতকের সরব ছোবলে আক্রান্ত রাজধানী সহ সারা দেশ। ফলে শব্দ দূষণ নয় বরং শব্দত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের কাছে।

শব্দ দূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শব্দ দূষণ থেকে বাঁচতে ‘শব্দত্রাস’ বিষয়ে সচেতন করছে দুরন্ত বাইসাইকেল। শহর অঞ্চল ও প্রযুক্তি আসক্ত মানুষ, গাড়ির মালিক ও বাস চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতেই কাজ করছে দুরন্ত বাইসাইকেল ব্রান্ড।

শব্দ যখন মাত্রা ছাড়ায় তখন শব্দ দূষণ, এই বিষাক্ততা ক্রমাগত গ্রাস করছে নগরের মানুষদের। বিষাক্ত সাপের চেয়েও শব্দের বিষাক্ততা আরও ভয়ংকর। শব্দ দূষণের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে, সে সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সুস্পষ্ট ধারনা নেই। শব্দ দূষণের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা অত্যন্ত মারাত্মক।

কানে কম শোনা, বধিরতা, হৃদকম্প, হৃদরোগ, শিশুদের লেখাপড়ায় মনোযোগ কমে যাওয়া, মানসিক বিকাশ বিঘ্নিত হওয়া, খিটখিটে মেজাজ, পেটের আলসার, অনিদ্ৰা বা ইনসমনিয়া, মানসিক উত্তেজনা ও উদ্বিগ্নতা বা অ্যাংজাইটি, স্ট্রোকসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, মানুষের জন্য ঘরের ভেতর শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৫৫ ডেসিবেল। আর ঘরের বাইরে বাণিজ্যিক এলাকার জন্য ৭০ ডেসিবেল। অথচ ঢাকায় এই মাত্রা ১১৯ ডেসিবেল ও রাজশাহীতে ১০৩ ডেসিবেল। ফলে উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ থেকে বাঁচার জন্য বাইসাইকেল বা শব্দ দূষণ হয় না এমন যানের প্রচলন জরুরি।

এ বিষয়ে দুরন্ত বাইসাইকেলের এজিএম (মার্কেটিং) শরীফুল ইসলাম বলেন, শব্দদূষণ তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রায় কমিয়ে আনার জন্য আমাদের সদিচ্ছা ও কিছু উদ্যোগই যথেষ্ট। শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা উচিত সবার। গাড়ির হর্নজনিত শব্দ দূষণের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি ও প্রতিকারের উদ্দেশ্যে বাইসাইকেল ব্র্যান্ড দুরন্ত বাইসাইকেলের পক্ষ থেকে শব্দত্রাস ক্যাম্পেইন শুরু করছি।


আরও খবর



প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ১৮ বছর

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ আগস্ট ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশনে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের নিয়ে মিলনমেলা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন তনু চৌধুরী, দিপেন মহাজনসহ অন্যরা।

jagonews24

পুনর্মিলনীতে শিক্ষার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। যার প্রথম পুরস্কার ছিল একটি মোটরসাইকেল।

অনুষ্ঠানের প্রথমাংশে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. ইকবাল আনোয়ার সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।


আরও খবর



শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াবেন স্টক ডিলাররা

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১১জন দেখেছেন
Image

আগামী কয়েকদিনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেলে পুঁজিবাজারের ব্রোকারদের শীর্ষ সংগঠন ‘ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডিবিএ'র পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও।

সভায় বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও বিএসইসি’র ‘মার্কেট সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স’ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ডিএসই’র শীর্ষ স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

সভায় পুঁজিবাজারে চাহিদা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে স্টক ডিলারদের বিনিয়োগ বাড়ানোসহ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে-

১. নিজ নিজ সামর্থ্য মোতাবেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে স্টক ডিলাররা আগামী কয়েকদিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

২. বিগত সময়ে শেয়ার বিক্রি করে অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। এই বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে পুনরায় বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া যেসব ইন-অ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট আছে তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগসহ উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৩. প্রত্যেক স্টক ব্রোকার তাদের বিদ্যমান বিনিয়োগকারী ছাড়া নতুন সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। যা বাজারে চাহিদা ও তারল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে সহায়তা করবে।

৪. বাংলাদেশের যেসব জেলায় স্টক ব্রোকারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই, ওই সব জেলায় বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং স্টক ব্রোকারদের ডিজিটাল বুথ অথবা শাখা অফিস খোলার মাধ্যমে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।


আরও খবর



মহররমের আইয়ামে বিজের রোজা ১২-১৪ আগস্ট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

১৪৪৪ হিজরির নতুন বছরের প্রথম মাস মহররম। প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩-১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ তিনদিন রোজা রাখতেন। প্রিয় নবির সুন্নাতের অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ এ তিনদিন রোজা পালন করে থাকেন।

১৪৪৪ হিজরির প্রথম মাস মহররমের ১৩-১৫ তারিখ হলো- ১২, ১৩ ও ১৪ আগস্ট মোতাবেক শুক্রবার, শনিবার ও রোববার। যারা আইয়ামে বিজের তিনদিন রোজা রাখবেন; তাদের জন্য ১১ আগস্ট (১২ মহররম) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই সেহরি খেতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যভাগে ৩ দিন রোজা রাখতেন। উম্মতে মোহাম্মাদির জন্য এ তিনদিন রোজা রাখা সুন্নাত। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এ তিনদিন রোজা রাখতে বলেছেন।

আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত

আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্বারোপ করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে ঘোষণা করেছেন-

> হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখল; সে যেন সারা বছরই রোজা রাখলঅতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন-

‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০গুণ’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান’ (তিরমিজি)

> হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা রাখতেন।’ (আবু দাউদ)

> হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারা বছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)

এছাড়াও আইয়ামে বিজের রোজা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে-

হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। অতঃপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা পালন, সারা বছর রোজা পালনের সমান।’

উল্লেখ্য ৪টি সম্মানিত মাসের একটি এ মাস। আল্লাহর মাস হিসেবেও এ মাসটি সম্মানিত। সুতরাং এ মাসে আইয়ামে বিজের রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই মুমিন মুসলমানের একমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।


আরও খবর

আল্লাহকে স্মরণ করার উপকারিতা

শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২




মুখের কথা আর বন্দুকের গুলি ফেরানো যায় না

প্রকাশিত:সোমবার ০১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাষ্ট্রপতি যখন দেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালের নাম ঘোষণা করলেন, তখন নিউজরুমে তোলপাড়। তার অতীত, তার জীবনী, তার প্রতিক্রিয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।

২০১৭ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি একটু আড়ালেই ছিলেন। তাই তার বর্তমান অবস্থান জানা একটু কঠিন হয়। নানা জায়গায় ফোন করে একটা নাম্বার পেলেও সেই নাম্বার কেউ ধরছিল না। আমি সাবেক এক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ফোন করতেই তিনি বললেন, আরে হাবিব তো আমার বন্ধু। ওনার কাছ থেকে নাম্বার নিলাম। জানতে চাইলাম, বাসা কোথায়? বললেন, ওয়ালসো টাওয়ার।

শুনেই লাফিয়ে উঠলাম। ফোনে না পেলেও বাসা যেহেতু আমাদের কাছাকাছি, দ্রুত টিম পাঠিয়ে দিলাম। আমাদের টিম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লিফটের গোড়ায় তাকে পেয়ে গেল। এটিএন নিউজের সাথে চ্যানেল আইয়ের টিমও সেখানে পৌঁছাতে পেরেছিল। তিনি রমনা পার্কে হাঁটতে গিয়েছিলেন। তাই ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি আমাদের কাছেই প্রথম তার নিয়োগের খবর শুনলেন।

লিফটের সামনে দাঁড়িয়েই লম্বা প্রতিক্রিয়া দিলেন। বুঝলাম, তিনি কথা বলতে ভালোবাসেন। তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শুনে আমার নিজের দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হলো। কাজী হাবিবুল আউয়ালের আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বরিশালের মানুষ। তার কথায়ও আঞ্চলিকতার টান ছিল। দিনের পর দিন আঞ্চলিক উচ্চারণের কথা শুনতে অস্বস্তি হয়। কাজী হাবিবুল আউয়ালের বাড়ি সন্দ্বীপে হলেও তার উচ্চারণ একদম প্রমিত, শ্রুতিমধুর।

ভাবলাম, যাক আগামী পাঁচ বছর আমাদের কান অনেক আরাম পাবে। কিন্তু বেশি কোনো কিছুই ভালো না, আরামও না। লিফটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া শুনেই আমার শঙ্কা জেগেছিল, অতিকথনই না তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়!

পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন হাবিবুল আউয়াল। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসেই আমার শঙ্কা সত্যি হয়ে গেছে। এই পাঁচ মাসে প্রমিত উচ্চারণ দিয়েও তিনি মানুষের মনে যথেষ্ট বিরক্তি উৎপাদন করেছেন। বিরক্তি যে উৎপাদন করেছেন, সেটা তিনি নিজেও টের পেয়ে গেছেন। নিজেই বলেছেন, ইউটিউবে নিজের বক্তব্য তিনি শোনেন না ভয়ে। কারণ নিচে থাকে অঢেল গালাগাল।

এবারই প্রথম সংবিধান মেনে প্রণীত আইনের আওতায় গঠিত সার্চ কমিটির খুঁজে দেওয়া নাম থেকে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের উচ্ছ্বাসটা আমরা উপভোগ করতে পারিনি। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।

এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দলকে অংশ নিতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু ১৬ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তারা কোনো প্রক্রিয়া বা নির্বাচনে অংশ না নিলে সেটা গ্রহণযোগ্য বা অংশগ্রহণমূলক হয় না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপিকে আলোচনায় আনার, নির্বাচনে আনার নানা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, নানা আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু তার কথায় এখনও চিড়ে ভেজেনি। বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করছে। নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষের মানুষের মতামত নেওয়াটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যা হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল যতটা শুনছেন, বলছেন তারচেয়ে অনেক বেশি। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় চলছে। আর তাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দফায় দফায় কথা বলছেন।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের মিডিয়াপ্রীতি আগের যে কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে অনেক বেশি। তুলনামূলক বিবেচনায় তা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও ছাড়িয়ে যাবে। যত শুদ্ধ উচ্চারণে গুছিয়ে বলুন না কেন, কথা হলো একধরনের ফাঁদ। যত কথা বলবেন, আপনার চারপাশে গর্ত খুঁড়বেন আপনি। যতই সাবধান থাকুন, সেই গর্তে আপনাকে পড়তেই হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অতিকথন অবশ্য সাংবাদিকদের জন্য মন্দ নয়। প্রতিদিনই শিরোনাম পাওয়া যায়। মনে আছে, নব্বইয়ের দশকে আমি নিজে যখন নির্বাচন কমিশন বিট কাভার করতাম, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের একটু মন্তব্যের আশায় তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতাম। সারাদিন বসে থাকার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন বাসায় যাওয়ার জন্য অফিস থেকে বেরুতেন, আমরা সিঁড়ির গোড়ায় তাকে আটকাতাম।

মুড ভালো থাকলে দাঁড়িয়ে দুয়েক মিনিট কথা বলতেন, নইলে হেঁটে গাড়িতে উঠতে উঠতে দুয়েক লাইন বলতেন। তাতেই আমাদের সারাদিনের বসে থাকা সার্থক হতো। অন্তত একটা রিপোর্ট তো হলো। এখনকার নির্বাচন কমিশন বিটের রিপোর্টারদের দেখে রীতিমতো হিংসা হয়। তারা সকাল-দুপুর-বিকাল তিন বেলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লম্বা লম্বা বক্তব্য পাচ্ছেন, কোনটা ফেলে কোনটা শিরোনাম করবেন দশা। তবে বেশি কথা বললে যা হয়, সকালের কথা বিকালে পাল্টে দিচ্ছেন, পরদিন প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইছেন। শুরুর দিনে যে শঙ্কাটা জেগেছিল, দিনে দিনে সেটা আরও বাড়ছে, কথার জালে জড়িয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডুবে যান কি না।

কাজী হাবিবুল আউয়াল গত পাঁচ মাসে কী কী বলেছেন, তার ফিরিস্তি দিতে গেলে মহাকাব্য লিখতে হবে। তবে তার সব কথা ছাড়িয়ে গেছে তলোয়ার-রাইফেল তত্ত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের একপর্যায়ে সিইসি বলেছিলেন, ‘আপনাদের সমন্বিত প্রয়াস থাকবে, কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকেও কিন্তু রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে।’

অবশ্য বিকেলেই তিনি তার সকালের কথা উল্টে দেন। পরদিন রীতিমতো ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ওটা ছিল কথার কথা। তবে সিইসির আসনে বসে কথার কথা বলা যায় না। সিইসি হলেন নির্বাচনী মাঠের রেফারি। খেলায় কেউ ফাউল করে রেফারির দায়িত্ব হলো তাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সাবধান করা বা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া।

প্রতিপক্ষকে আরও বড় ফাউল করার উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই রেফারির কাজ নয়। কেউ তলোয়ার নিয়ে মাঠে নামলে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তাকে গ্রেফতার করা, কাউকে রাইফেল নিয়ে মাঠে নামার পরামর্শ দেওয়া নয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই সিইসি বিরোধী দলকে মাঠ ছেড়ে না গিয়ে ইউক্রেনের জেলেনস্কির মতো মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। তার এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের রাশিয়াবিরোধী অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে রুশ দূতাবাস অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলছেন অনেক বেশি। কিন্তু আসলে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। তবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম পরীক্ষায় ভালো পরীক্ষা দিয়েও তিনি ফেল করেছেন। নির্বাচন ভালো হলেও শেষ বেলায় ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের কারণে বিতর্কের মুখে পড়তে হয় কমিশনকে। কাজী হাবিবুল আউয়াল বারবার কথায় নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

একাধিকবার বলেছেন, আগামী নির্বাচন রাতে হবে না, দিনে হবে। আগামী নির্বাচন ২০১৮ সালের মতো হবে না। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোরই বৈধতা দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তবে শুধু কথায় বিরোধী দলের আস্থা তিনি পাবেন না। কাজে প্রমাণ করতে হবে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কী বলবেন না বলবেন, সেটা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা। তাকে পরামর্শ দেওয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে মুখের কথা আর বন্দুকের গুলি একবার বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই সংযত হয়ে কথা বললে, তার জন্যই মঙ্গল। আর সিইসির মঙ্গলের সাথে জাতির মঙ্গলও জড়িত। একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এখন জাতির আকাঙ্ক্ষা। আর সেই আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

লেখক: বার্তাপ্রধান, এটিএন নিউজ।


আরও খবর



দেড়ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

দেড়ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে যশোর জংশনে তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের পর ওই রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এর আগে তেলবাহী ট্রেনের খালি একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ থেকে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, যশোর রেলওয়ে জংশনে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে রেলওয়ের তেলবাহী ট্যাংকারের একটি খালি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর রেলওয়ে জংশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়েছিলো। তবে খুলনা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে জংশনের এক নম্বর লাইনটি চালু করে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসকে খুলনার দিকে পাঠিয়ে রেল যোগাযোগ চালু করা হয়।


আরও খবর