Logo
শিরোনাম

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের কমিটি

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. মাইন উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। রোববার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এসময়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার ফাইটাররাও হতাহত হয়েছেন। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ২১ জন।’

ব্রিগেডিয়ার মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ জন নিহতের তথ্য পেয়েছি। এছাড়া দুই শতাধিক আহতের খবর আছে আমাদের কাছে। তবে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেউ মারা যেতে পারেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

এদিকে, বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাপসাতাল সূত্র। আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছেন।

অন্যদিকে বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেখানে একের পর এক কনটেইনার বিস্ফোরণ হচ্ছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা। নিরাপদ দূরত্বে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। বর্তমানে কাজ করছেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনীর মোট ২৫টি ইউনিটের কর্মীরা।

রোববার (৫ জুন) সকাল পৌনে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিএম কনটেইনার ডিপোতে সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেককে ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নগরীর অন্যান্য হাসপাতাল এবং কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালেও (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডিপোতে এসময় প্রায় ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল। সেখানে থাকা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। শনিবার দিনগত রাতে বাতাসের কারণে আগুন বাড়তে থাকে। ডিপো এলাকায় রয়েছে পানি স্বল্পতা।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।


আরও খবর



প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাতিজিকে হত্যা, চাচাসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবন্ধী ভাতিজি চায়না খাতুনকে (১১) হত্যার দায়ে চাচাসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৩) ও মেম্বার আকবর আলি (৪৪)

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জেলার বেলকুচি থানার ছোট বেড়া খারুয়া এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাইদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের কারণে সাদ্দাম তার চাচাতো ভাইদের ফাঁসাতে নিজের বড় ভাইয়ের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে চায়না খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্যা আকবর আলীর সঙ্গে পরামর্শও করেন।

২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভাতিজি চায়না খাতুন চাচা সাদ্দামের বাসায় বেড়াতে যায়। রাতে সাদ্দাম তার বাবার ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাতিজি চায়না খাতুনকে বাড়ির বাইরে এনে গলা টিপে হত্যা করে। মরদেহ কাঁধে চরের ভেতরে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কাটেন সাদ্দাম। পরদিন বেড়া খারুয়ার চরে চায়না খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে চায়না খাতুনের বাবা জহুরুল চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে বেলকুচি থানা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আকবর আলীর প্ররোচনায় চাচা সাদ্দাম ভাতিজিকে হত্যা করেন।

সাদ্দাম ও আকবর আলী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১১ জন সাক্ষীর উপস্থাপনে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


আরও খবর



বিনা কর্তনে সেন্সরে ছাড়পত্র পেল ‘ওরা ৭ জন’

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে খিজির হায়াত খান নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধনির্ভর সিনেমা ‘ওরা ৭ জন’। ছবিটি এর মধ্যে বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সরবোর্ড থেকে বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নির্মাতা খিজির হায়াত খান নিজেই নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের সিনেমা ‘ওরা ৭ জন’ বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সরবোর্ড থেকে বিনা কর্তনে সেন্সর পেয়েছে। আসন্ন বিজয়ের মাসে সিনেমাটি দেশব্যাপী মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। নভেম্বরে সিনেমাটির ট্রেলার আসবে। এর আগে ধীরে ধীরে আসবে টিজার ও গান।

জানা গেছে, টানা ৪০ দিন শুটিংয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ওরা ৭ জন’ এর কাজ শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরেই। শুটিং হয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুরে।

মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নিয়ে বরাবরই কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন খিজির হায়াত। বহুল আলোচিত সিনেমা ‘জাগো’ নির্মাণের আগেও খিজির স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান সৈনিক বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অস্তিত্বে আমার দেশ’ নির্মাণ করে সাড়া ফেলেন।

‘ওরা ৭ জন’ ছবির সাতজনের একজন অভিনেতা ও নির্মাতা খিজির হায়াত খান নিজেই। এছাড়া ছয়টির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, ইমতিয়াজ বর্ষণ, শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব, সাইফ খান, খালিদ মাহবুব তূর্য ও নাফিস আহমেদ। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমকে।

ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রযোজনায় সিনেমাটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন খিজির হায়াত খান। সংগীতের দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল আবেদীন আবির। এতে গান গেয়েছে ব্যান্ড অসমাপ্ত। সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান।


আরও খবর

ক্যারিয়ার নিয়ে যা বললেন মিম

রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২




দুই গ্রামপুলিশকে পেটালেন যুবলীগ নেতা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

জামালপুরের মেলান্দহে দুই গ্রামপুলিশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সোহানুর রহমান শাহীন নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকালে আহত ওই দুই গ্রামপুলিশকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে মারধরের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ ও চিমুর ছেলে বুলেট (৩০) এবং সুরেনের ছেলে গ্রামপুলিশ বিমল চন্দ্র (৪০)। অভিযুক্ত সোহানুর রহমান শাহীন মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে শাহীনের ছোট ভাই শাকিলের সঙ্গে গ্রামপুলিশ বুলেটের কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে শাহীন ঘটনাস্থলে এসে বুলেটকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় আরেক গ্রামপুলিশ বিমল এগিয়ে এলেও তাকেও মারধর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সোহানুর রহমান শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভুল বোঝাবুঝিও বলা চলে। বুলেটের বাড়ি আমার বাড়ির পাশেই। তাই অধিকার নিয়েই একটা চড় দিয়েছি। এছাড়া কিছুই না। তাকে হাসপাতালে আনতে লোকও পাঠিয়েছি।’

মেলান্দহ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম মিঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তারা এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়অ হবে।’

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরও খবর



ইমরান খানের প্রার্থীকেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন আদালত

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থী পারভেজ এলাহীকেই পাঞ্জাব প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ছেলে হামজা শাহবাজ তার পদ হারালেন।

মঙ্গলবার রাতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ ঘোষণা করেন। খবর ডনের।

এর আগে পাঞ্জাবের সংসদে হওয়া মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মুহাম্মদ মাজারির সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় হামজা শাহবাজকে মুখমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতি ওমর আতা বান্দিয়াল, বিচারপতি ইজাজুল আহসান ও বিচারপতি মুনিব আখতারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পাঞ্জাবের গভর্নর বালিঘ উর রেহমানকে পাঞ্জাব প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পারভেজ এলাহীকে রাত সাড়ে ১১টায় শপথ পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আদেশে বলা হয়, যদি তিনি শপথ পড়াতে অস্বীকার করেন তবে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী পারভেজ এলাহীকে শপথ পড়াবেন।

এদিকে পারভেজ এলাহীকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্থান দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ।

তিনি এ রায়কে অবৈধ আখ্যায়িত করে ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’ বলে উল্লেখ করেছেন। মরিয়ম নওয়াজ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভাতিজি।

অন্যদিকে রায়ের পর পিটিআই’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেছেন, আজ সংবিধানের শাসন গ্রহণ করা হয়েছে এবং পাকিস্তানি জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পার্লামেন্টে বেশির ভাগ আইনপ্রণেতা মুখ্যমন্ত্রী পদে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিলেও ডেপুটি স্পিকারের বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে ফল উল্টে যায়। গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পদের ভোটে পিটিআই সমর্থিত চৌধুরী পারভেজ ইলাহী ৩৭১ সদস্যের পার্লামেন্টের ১৮৬ জনের সমর্থন নিশ্চিত করেছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হামজা শাহবাজ পান ১৭৯ ভোট। হামজা পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ছেলে।

পিটিআই প্রার্থী করেছিল পাকিস্তান মুসলিম লীগ কায়েদে আজমের (পিএমএল-কিউ) ইলাহীকে। তবে দলটির প্রধান সুজাত হোসেন তার দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের হামজাকে ভোট দিতে বলেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে পিএমএল-কিউর পার্লামেন্টারি দলের ১০ সদস্য ইলাহীকে ভোট দেন। সে কারণে পাঞ্জাব পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মাজারি এই ১০ জনের ভোট বাতিল করে দিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী হামজাকে জয়ী ঘোষণা করেন।

আজ আদালত সে সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন।


আরও খবর



চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফর ও বাংলায় অনূদিত একটি গ্রন্থ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

 

চীনে আমার দশ বছর পূর্ণ হতে চললো। ২০১২ সালের ১৭ আগস্ট সপরিবারে বেইজিংয়ের মাটিতে পা রাখি আমি। আমাদের আসার প্রায় তিন মাস পর, ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর, দেশটির ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সাধারণ সম্পাদক তথা প্রধান নির্বাচিত হন সি চিন পিং। তিনি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার (১৯৪৯ সালে) পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম পার্টিপ্রধান ও সরকারপ্রধান (প্রেসিডেন্ট)।

বিগত দশ বছরে আমি মাত্র মাস-তিনেক চীনের বাইরে কাটিয়েছি। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দুই মেয়াদের বলতে গেলে পুরোটাই আমি চীনের ভিতরেই ছিলাম (এখনো আছি)। এই দশ বছরে তার নেতৃত্বে চীনের জনগণ যা কিছু অর্জন করেছে এবং তা করতে গিয়ে যত ত্যাগ স্বীকার করেছে, পরিশ্রম করেছে, লড়াই-সংগ্রাম করেছে— তার আমি একজন ক্ষুদ্র সাক্ষী বটে।

সিপিসি’র শীর্ষনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সি চিন পিং প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে বলেছিলেন, ‘জনগণ সুন্দর জীবন চায় এবং আমরা এর জন্যই লড়াই করছি।’ লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি পার্টির ভিতরে ও বাইরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেন, সমাজ ও অর্থনীতির সর্বত্র সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করেন, চীনা অর্থনীতিকে বিদেশের জন্য আরও উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন এবং ২০২০ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার আপাত কঠিন লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করার নির্দেশনা দেন।

কেউ আশা করেনি যে, সি চিন পিংয়ের শাসনামলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন এবং চীনের ওপর না-হক বাণিজ্যযুদ্ধ চাপিয়ে দেবেন; কেউ ভাবেনি যে, কোভিডের মতো মহামারি বিশ্বে আঘাত হানবে এবং তা শুরু হবে খোদ চীনে। বাস্তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, কোভিডও উহানে আঘাত হেনেছে। কিন্তু চীনা জনগণ বাণিজ্যযুদ্ধে হারেনি; মহামারির কাছেও মাথা নত করেনি। আবার মহামারির আঘাত সামলে নিয়ে, ২০২০ সালের মধ্যে চীন দারিদ্র্যমুক্তও হয়েছে।

সি চিন পিং তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা নেতা। ১৯৬৯ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, শহুরে জীবনে অভ্যস্ত সি চিন পিং একটি হতদরিদ্র গ্রামে গিয়ে পার্টির পক্ষ থেকে গ্রামবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। প্রায় ৮ বছর তিনি সেই গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কঠোর কায়িক পরিশ্রম করেছেন, মেধা খাটিয়ে তাদের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। ৮ বছর পর যখন তিনি গ্রাম ছেড়ে আসেন, তখন গ্রামবাসী তাকে চোখের জলে বিদায় দিয়েছিল। দরিদ্র সেই গ্রামের বাসিন্দাদের প্রিয় মানুষটা এখন দেশজুড়েই চীনাদের প্রিয় ‘সি দাদা’।

বিগত দশ বছরে কখনো প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ আমার হয়নি, কথাবার্তা বা করমর্দন তো দূরের কথা। ব্যক্তি সি চিন পিংকে বোঝার, তার ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে ভালোভাবে জানার প্রথম সুযোগ আমার হয় একটি অনুবাদগ্রন্থের সম্পাদনার কাজ করতে গিয়ে। বইটির নাম ‘দেশ প্রশাসন’। এই গ্রন্থের তিনটি খণ্ড ইতোমধ্যে বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রতিটি খণ্ড প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার। আমি কাজ করেছি প্রথম খণ্ডটি নিয়ে।

‘দেশ প্রশাসন’ আসলে সি চিন পিংয়ের বিভিন্ন ভাষণ, সাক্ষাৎকার, চিঠিপত্র ও নির্দেশনার সংকলন। এক্ষেত্রে প্রথম খণ্ডটি ধারণ করেছে ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত সময়কালকে। এই খণ্ডটি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের (সিআরআই) বাংলা বিভাগের চীনা সহকর্মীরা বাংলায় অনুবাদ করেন। আমার ওপর বর্তায় সেই অনুবাদকাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পাদনার দায়িত্ব। বাকিটুকু সম্পাদনার দায়িত্ব পান সিআরআই-এ আমাদের সাবেক বাংলাদেশি সহকর্মী মোহাম্মদ মহসিন। আনন্দের বিষয়, অনূদিত গ্রন্থটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।

পাঠকদের অনেকেই জানেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আগামী ৬ আগস্ট দুদিনের সফরে বাংলাদেশে আসবেন। শুনেছি ওই সফরেই সি চিন পিংয়ের ‘দেশ প্রশাসন’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রথম খণ্ডটির মোড়ক উন্মোচন করবেন তিনি। এতে বাংলাদেশের মানুষ সি চিন পিং সম্পর্কে, তার চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পাবে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা নয় অবশ্যই। সফরে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে ও সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি, একাধিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু আলোচিত হবে।

চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল ও আছে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন বাংলাদেশে রফতানি করে বছরে প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য ও বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য। সাম্প্রতিককালে চীন বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের প্রতিকূলে, এ কথা ঠিক। আবার, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ যে দিন দিন বাড়ছে, সেটাও সত্য। বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজে চীনের সরব উপস্থিতি দুই দেশের সুসম্পর্কের নিদর্শন। পদ্মা সেতু নির্মাণে চীনা কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে; কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছে। বাংলাদেশকে আট-আটটি মৈত্রীসেতু বানিয়ে দিয়েছে চীন। পদ্মা সেতুর রেলপথ অংশ বাস্তবায়নে মোটা অংকের ঋণও দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। আগারগাঁওয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রটিও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যতদূর জানি, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা ২৭টি। এসব চুক্তির বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ওয়াং ই’র সঙ্গে বাংলাদেশের নেতাদের আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের কারণে, বিশ্বের বহু দেশের মতো, বাংলাদেশের অর্থনীতিও বর্তমানে চাপের মুখে আছে। এই চাপ কাটিয়ে উঠতে বন্ধুরাষ্ট্র চীন কতোটা ও কীভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারে বা করবে, তাও দেখার বিষয়। ওয়াং ই’র সফরের সময় এটি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দারিদ্র্যবিমোচন খাতে চীনকে মডেল বলা যেতে পারে। জাতিসংঘ যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্তির লক্ষ্য ঠিক করেছে, সেখানে চীন ১০ বছর আগেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই, পৃথিবীর উন্নয়নশীল অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও এক্ষেত্রে চীনা অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। ওয়াং ই’র সফরে এ বিষয়েও পরামর্শ চাইতে পারে বাংলাদেশ। বিশেষ করে, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ই-কমার্সের ব্যবহার সম্পর্কে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ।

মহামারির কারণে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে আটকা পড়ে আছেন বিগত আড়াই বছর ধরে। তাদের শিক্ষাজীবন ইতোমধ্যে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত চীনে তাদের ক্যাম্পাসজীবনে ফিরতে চান।

এদিকে, চীন সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য নিজের সীমান্ত উন্মুক্ত করেছে। নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির বাংলাদেশিরা এখন নিয়ম মেনে চীনে ঢুকতে পারবেন। এসব ক্যাটাগরির মধ্যে শিক্ষার্থীরাও আছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং আকাশচুম্বি বিমানভাড়ার কারণে, অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই চীনে ফেরা কঠিন; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসম্ভব। শুনেছি, ওয়াং ই’র আসন্ন সফরে এ প্রসঙ্গও উত্থাপিত হবে। আটকে-পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য বিশেষ ফ্লাইট চালু করতে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার কথা বলছেন অনেকে।

ওয়াং ই’র সফরে একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশের সরকার। চীনের মধ্যস্থতায়ই এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে চলতি মাসেই মিয়ানমার সফর করেছেন ওয়াং ই। দেখার বিষয় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কী বার্তা নিয়ে ঢাকা যান।

বছরখানেক আগে, ২০২১ সালের জুলাইয়ে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছিল উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে। সেই বৈঠকে ওয়াং ই বলেছিলেন, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে চীন সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ চীনের অপছন্দ। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াং ই এবারের সফরে আরেক দফায় এ ব্যাপারে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তার লেখায় ও বর্ক্তৃতায় প্রায়ই বিভিন্ন চীনা প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। ‘দেশ প্রশাসন’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে তার উদ্ধৃত একটি প্রাচীন চীনা প্রবাদ হচ্ছে: ‘কোনো কিছু, এমনকি সাগর ও পর্বতমালাও, অভিন্ন লক্ষ্য ও আদর্শের অনুসারী দুটি জাতিকে আলাদা করতে পারে না ‘ জাতি হিসেবে চীনারা শান্তিপ্রিয়; শান্তিতে বসবাস করাই তাদের লক্ষ্য।

সম্ভবত এ কারণেই প্রাচীনকাল থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী থাকা সত্ত্বেও চীনারা কখনো অন্য কোনো দেশে নিজেদের ঔপনিবেশ স্থাপন করেনি, অন্য কোনো দেশ দখল করেনি। অন্যদিকে জাতি হিসেবে বাঙালিও শান্তিপ্রিয়। এই দুই জাতির মধ্যে, বাঙালি ও চীনা সভ্যতার মধ্যে, দেওয়া-নেওয়ার ইতিহাসও অনেক প্রাচীন, প্রায় তিন হাজার বছরের। মাঝখানে এই দেওয়া-নেওয়ায় ছন্দপতন হয়নি, এমন নয়, হয়েছে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এটাই আশার কথা।

লেখক: বার্তাসম্পাদক, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি), বেইজিং।
[email protected]


আরও খবর