Logo
শিরোনাম

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ মো. এনামুল হককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

শনিবার (১৮ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর



মনসুর মুসা: ভাষার বিশুদ্ধ চেতনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

আলীনূর রহমান

কিছু মানুষের সংস্পর্শে গেলে সব সময়ই ভালো লাগে। মনে হয় আরও কিছু সময় তার সংস্পর্শে কাটিয়ে আসি—কিছু কথা শুনি, নিজেকে ঋদ্ধ করি। এই মহান মানুষেরা সর্বময় জ্ঞানদান করে তাদের ছাত্রছাত্রীদের পৌঁছে দিতে চান শীর্ষে। এটা যে যেভাবে গ্রহণ করবে, সে সেভাবেই নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুলবে। আমি বলছি তেমনই একজন মানুষ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ভাষাতাত্ত্বিক মনসুর মুসা স্যারের কথা। আমরাই তাকে প্রথম পেয়েছিলাম গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা বিভাগে যখন তিনি ডিন হয়ে আসেন। অবশ্য তার আগেও তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

আমি অনেক আগে থেকেই এই মহান মানুষের নামের সাথে পরিচিত ছিলাম। কেননা সর্বপ্রথম কবি অতীন অভীক আমাকে ঝিনাইদহের কবি ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলেছিলেন। যার বিখ্যাত ছিল বিড়াল গল্প। পরবর্তীতে তার বিড়াল গল্পের নামে বইও প্রকাশিত হয়েছিল। এই শহীদুর রহমানের মৃত্যুর পরে তাকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ করা হয়, সেটি সম্পাদনা করেছিলেন মনসুর মুসা ও জিয়া হায়দার। এই প্রথম স্যারের নামের সাথে পরিচিতি—তারও পূর্বে বোধহয় শিক্ষক ও গবেষক মাহমুদ শাহ কোরেশী স্যারের মুখে তার কিছু কথা শুনেছি।

অনেক বইয়ের ভূমিকায় তার নাম দেখেছি। কারণ তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ভাষা ইনিস্টিটিউটেও তিনি কর্মরত ছিলেন। এই মানুষটিকে পেয়ে আমি ভেতরে ভেতরে একটু বেশিই উৎফুল্ল হয়েছিলাম। এমন ভাষাতাত্ত্বিক মানুষের সংস্পর্শ পাওয়াটাও তো ভাগ্যের ব্যাপার। ছাত্রাবস্থায় তিনি আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছেন। ডিন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে গণ’র খোলা খেলার মাঠ দেখা যেত—আমরা সেখানে নিয়মিত ভিড় জমাতাম। কোনদিন ডিন অফিসে আমাদের কাজ থাকত না। তবুও স্যারকে দেখার জন্য সামনে ঘোরাঘুরি করতাম—সে ঘোরাটাও কয়েকদিনের। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে বের হয়ে আসি।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার বেশ কিছুদিন পর আবার গিয়েছিলাম লেখাপড়ার প্রমাণপত্র আনতে। কারণ সে সময় আমি লক্ষ্মীপুর ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছি। স্যারের রুমে ঢুকতেই চিনলেন এবং বললেন, ‘কেমন চলছে দিন—লেখালেখি কিছু কি হচ্ছে?’ ‘চলছে স্যার, কলেজেও জয়েন করেছি বাংলার শিক্ষক হিসেবে।’ জানতে চাইলেন, ‘কোথায়?’ লক্ষ্মীপুর শুনতেই স্যার জানালেন, ‘এত দূর?’ পরে স্যারের সাথে কাজ শেষ করে রুম থেকে বের হয়ে আসি। স্যার শুধু একটি কথাই বললেন, ‘লেগে থাকো, হাল ছেড়ে দিও না।’ আমি সেই কথাটি আজও মনে রেখেছি।

কয়েকদিন আগেও স্যারের সঙ্গে দেখা হলো। স্যার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন। মাঝে শুনেছিলাম তিনি স্ট্রকও করেছিলেন। সেই সাথে বয়সেরও তো একটি বিষয় সব সময় থেকে যায়। স্যারের রুমে ঢুকতেই কয়েস স্যার (বাংলা বিভাগের প্রথম ছাত্র। আমাদের বড় ভাই। পরে তিনি বাংলা বিভাগে যোগ দিয়েছেন) আমাকে স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ‘স্যার, এ আমাদের ছাত্র—আলীনূর। বঙ্গ রাখাল নামে লেখালেখি করে।’ স্যার কিছু সময় মুখের দিখে তাকিয়ে থাকলেন। কথা শুরু হলো। আমি আমার ‘ছোটবোয়ালিয়া-জয়ন্তীনগর-বসন্তপুর গণহত্যা’ (মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা), ‘কবিতার করতলে’ (প্রবন্ধ) ও ‘কবিতায় ঘর-বসতি’ (প্রবন্ধ) বই তিনটি দিলাম। স্যার বইগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলেন এবং বললেন, ‘আপনারা যারা লেখালেখি করছেন, তারা কবি তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে কেন লেখেন না?’ আমি বললাম, ‘স্যার, আমার প্রিয় কবি-লেখকদের মধ্যে তসলিমাও একজন। তাকে নিয়ে একটা লেখাও আমি লিখেছি।’ স্যার তখন বললেন, ‘আমার তো আপনার সাথে এর আগেও কথা হয়েছে। আপনি কোন কলেজে যেন চাকরি করতেন? সেখানে আছেন না অন্য কোথাও ঢুকেছেন?’ তখন জানালাম, ‘স্যার, আমি কলেজের চাকরি ছেড়ে একটি বেসরকারি চাকরি করছি।’ বাসার কথা জানতে চাইলেন। বললাম, ‘মিরপুর-২।’ গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কথা বলতেই তিনি বললেন, ‘ওখানে তো আমার একটা বন্ধু থাকতো।’ তার কথার লেশ ধরেই বললাম, ‘স্যার, আমি জানি। আপনি শিক্ষক ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলছেন। আপনি যে তার মৃত্যুর পরে একটা স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন সেটাও জানি এবং সেটা আমার সংগ্রহেও আছে।’ এবার স্যারের সাথে কথার পর্ব শেষ করে বের হয়ে এলাম।

রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে মনে পড়ল, কী মানুষ আর কী হয়ে গেছেন। তবুও একটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন গভীর মনোযোগে। এই বয়সে এসেও তিনি তার দায়িত্ব থেকে এতটুকু ক্ষ্যান্ত দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠবাদাম বৃক্ষতলে বসে মনে করার চেষ্টা করলাম স্যারের কোনো বই কি সত্যিই আমি পড়েছি। তখন মনে পড়ে গেল, মুক্তধারা প্রকাশনী থেকে ১৯৮৪ সালে শিল্পী হাশেম খানের প্রচ্ছদ করা একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। বইটির নাম ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’। এই গ্রন্থে দশটি প্রবন্ধ ছিল। বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, বাংলাদেশের ভাষাপরিস্থিতি, বাংলা ভাষালেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ, তুর্কী ভাষা-আন্দোলন, ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ঔপনিবেশিক ভাষানীতি প্রসঙ্গে, ভাষার বিশুদ্ধতা, ভাষা পরিকল্পনা, বাংলা ভাষা ও প্রশাসনিক নির্দেশ, বাংলা প্রচলন সংক্রান্ত বিবেচনা।

বইটি যে কেউ হাতে নিলেই হয়তো ভয়ে কিছুটা শিহরিত হয়ে উঠবেন—ভাষা হয়তো কত কঠিনই বা হয়ে উঠবে। কিন্তু বইটা পড়তে শুরু করলেই সারল্যতা নিয়ে শুধু পড়েই যেতে ইচ্ছে করবে। ভূমিকা একটু পড়ে নিলেই আমরা বুঝতে পারব—‘ ভাষা কাকে বলে এবং কাকে বলে না এ ধরনের দার্শনিক কূটতর্কে অবতীর্ণ না হয়ে আমরা শুধু স্বীকার করে নেবো যে, ভাষা হচ্ছে মানুষের এক ধরনের মস্তিষ্কজাত মানবীয় ক্ষমতা, যা সামাজিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট হয়ে মানুষের সামাজিক মানবত্বকে প্রতিষ্ঠা দান করে। জৈবিক মানুষ যখন সামাজিক মানুষে রূপান্তরিত হয়েছিল তখন থেকেই ভাষা মানব-জীবনের অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।’

এভাবেই বইয়ের লেখা কত সহজ-সরল বাক্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুরু করেছেন—আমাদের ভাষার গুরুত্ব কিংবা ভাষার তৎপর্যের কথা তার এই লেখার মাধ্যমে সব পাঠকের কাছেই তিনি তুলে ধরছেন। তিনি ভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছেন এবং এই ভাষার তাৎপর্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে চলেছেন এখনো। তবে এই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেক ক্ষোভ আছে। তিনি সেই ১৯৮৪ সালেই বলেছেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ভাষাতত্ত্ব চর্চার গুরুত্ব নানাভাবে স্বীকৃত হয়েছে। অনুন্নত দেশ বলে আমাদের দেশে ভাষাতত্ত্বের বহুমুখী গুরুত্ব স্বীকৃত হয়নি। অবশ্য ‘লবণ আনতে পান্তা ফুরায়’ যে দেশে সেখানে ভাষাতত্ত্বের মতো প্রত্যক্ষ উৎপাদন কর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় কম আলোচিত হওয়াই মঙ্গলজনক। তবে ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদ যে দেশে শ্লোগান, যেখানে ভাষা একটি মৌলিক রাজনৈতিক হাতিয়ার সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হলেও কিঞ্চিৎ ভাষাতত্ত্বের চর্চা অধিক হওয়া উচিত ছিল। (তাহলে আমাদের দেশে ভাষার অপব্যবহার যে পরিমাণ বেড়েছে সেটা হতো না)।’

আমাদের দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান ভাষা নিয়ে কাজ করলেও তাদের কাজ সেভাবে চোখে পড়ার মতো নয়। আমাদের প্রতিনিয়ত ভুল এবং অশুদ্ধ শব্দের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে দেশের রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চালিত হয় বায়ান্ন থেকে—সেখানকার ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের কোন বিধি-নিষেধ নেই। টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিওগুলোয় হরহামেশা তাদের ইচ্ছামতো বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করে থাকেন। আসলে ইতিহাস হাতড়ে দেখতে গেলে আমাদের এই ভাষা ঐতিহাসিকভাবেই অবজ্ঞার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে—এমনকি এখনো এই ভাষা অবহেলার পাত্র। বাংলায় যারা পড়ালেখা করেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখলেও কিছুটা অনুমান করা যায়।

আর্যদের কাছে সব সময়ই এই ভাষা ছিল ‘পাখির ডাকের মতো অস্পষ্ট’। তাদের সময়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ ভাষাছিল সংস্কৃত ভাষা। শাসক পুরোহিত বা অভিজাতদের ভাষাই ছিল সংস্কৃত। সমাজের নিম্নগোছের মানুষেরা এই ভাষা কখনো চর্চা করতে পারতো না। কারণ তারা চর্চা করলেই তাদের রৌরব নামে এক ধরনের নরকের নিকৃষ্টতম জায়গায় নিক্ষেপ করা হতো। এভাবেই নানা ভাবে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে রাখা হয়েছে—এভাবেই শাসক সম্প্রদায় ভাষাকে সত্যিকার অর্থেই বিকশিত হতে দেয়নি। এই ভাষার অপমানজনক ব্যবহার নিয়েও লেখক মনসুর মুসা অনেক আফসোস করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকও ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে এক ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষা ব্যবহার করে থাকেন।

সদ্য আগত নবীন অধ্যাপক বিনয়াবনত কণ্ঠে বলেন যে, বহুদিন পর বাংলা বলতে একটু তার অসুবিধা হচ্ছে, কিন্তু শিগগিরই তিনি চমৎকার রপ্ত করতে পারবেন। এই আমাদের ভাষার হাল। এভাবেই তিনি তার ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ গ্রন্থে ভাষা নিয়ে অনেক কথাই ধারাবাহিকভাবে বলে গেছেন। কারণ আমরা যে ভাষার ওপর নির্ভর করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি—সে জায়গাটাই নড়বড়ে হলে আমরা একদিন মুখ থুবড়ে পড়ব। তাই ভাষাকে রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। আমাদের সন্তানদের ভাষার তাৎপর্য তুলে ধরে তাদের ভাষার প্রতি মমতা বাড়াতে হবে। আর এভাবে লাগামহীন ভাষার যাচ্ছেতাই চলতে থাকলে ভাষাহীন মানব একদিন দানবে রূপান্তরিত হবে। তবে ভাষাতত্ত্বের বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অনুধ্যানীত হলেও তা আজ অনেকটা অনালোচিতও বটে।

আবারও মনসুর মুসা স্যারের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়, ভাষার বিশুদ্ধিচেতনা ব্যাপারটি পুরাপুরি ভাষাতাত্ত্বিক নয়, সমাজতাত্ত্বিক। ভাষাকে সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে, সমাজবিচ্ছিন্ন করে নয়।


আরও খবর

জাহিদ নয়নের দুটি কবিতা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




ভোট উৎসবে বৃষ্টির বাগড়া

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনেকটা উৎসবের পরিবেশে চলছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সরেজমিনে সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের মোটামুটি উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

তবে ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বৃষ্টিবাধায় পড়েছেন ভোটাররা। সকালের এক পশলা বৃষ্টিতে ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়ানো বা কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেওয়া ভোটারদের ছত্রভঙ্গ হতে দেখা গেছে।

সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা হাই স্কুলসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি অনেক বেশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি কেন্দ্র ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পথে মেহেরুন্নেসা নামের এক নারী ভোটার জাগো নিউজকে বলেন, ভেতরে ভোটের পরিবেশ খুব ভালো। ইভিএমে এবার ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু, গেলবার একটু সমস্যা হয়েছিল।

top2

একই কেন্দ্রে বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার সকালে নিজের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে তাকে ফেরত আসতে দেখা গেছে।

কুসিক নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে থাকবেন যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ জন করে পুলিশ। আনসারসহ গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও থাকবেন প্রতিটি কেন্দ্রে।

পুলিশের মোবাইল ফোর্স থাকবে ২৭টি, প্রতি ওয়ার্ডে একটি। স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়টি। রিজার্ভ ফোর্স দুটি। আর বিজিবি মোতায়েন করা হবে ১২ প্লাটুন, র্যাবের ২৭টি টিম থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট ও নয়জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত থাকবেন দুই হাজার ৫৬০ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৬৪০ জন, পোলিং অফিসার ১২৮০ জন এবং সহকারী পোলিং অফিসার ৬৪০ জন।

কুসিক নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। আর দুজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

top2

মোট ১০৫টি কেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। পাঁচ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে দিনের শুরুতেই নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ও নোৗকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত।

কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও সিটির সদ্য বিদায়ী মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোট শুরুর প্রথম ঘণ্টা যেতে না যেতেই নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মুরাদপুর ভোটকেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


আরও খবর



‘দেশে মাদকাসক্তের ৮০ শতাংশই যুবক’

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

‘দেশে মাদকাসক্ত মানুষের পরিমাণ ৮০ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক। এই ৮০ শতাংশের মধ্যে আবার ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত, আর ৪০ শতাংশ নিরক্ষর।’

রোববার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের কি মনে আছে সেই ঐশির কথা কিংবা কেরানীগঞ্জের সেই পরিবারটির কথা? কী ভয়াবহ মাদকের ছোবল ছিল পরিবারগুলোর ওপর। মাদকের এই ছোবল থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হলে পরিবারের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে হবে। পরিবার সচেতন হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। মনে রাখবেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শেষ গন্তব্য কিন্তু কারাগার অথবা ধুঁকে ধুঁকে তাদের মরতে হবে।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই ইয়াবা সেবন করে, এরপর আছে হেরোইন। এখন আইসবার এসেছে। এসব মাদকের কারবার লাভজনক হওয়ায় যুবসমাজ ঝুঁকে পড়ছে। আমাদের নিজেদের কর্তব্য পালন করতে হবে। এ জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে। সচেতনার মাধ্যমেও পরিবর্তন সম্ভব।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, এখন ১০ শতাংশ মানুষ সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কেউ প্রথমেই মাদকে আসক্ত হয় না, প্রথমে সিগারেটে টান মারে, পরে অন্যকিছু বা গাঁজা খেয়ে সে শূন্যে ভেসে বেড়ায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, জিরোটলারেন্স। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন রয়েছে ২০৪১, যেখানে মাদকমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার। মাদক থেকে বাঁচতে পারলে সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ডোপ টেস্টের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি। ব্যাপকভাবে ডোপ টেস্ট করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যে যুবকই আক্রান্ত হবে তাকে আমরা হাসপাতালে পাঠাবো। সরকারি চাকরি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেও আমরা ডোপ টেস্ট করাবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। তারা আমাদের যথেষ্ঠ সহযোগিতা করছে। তবে ভয়াল মাদক আসে মিয়ানমার থেকে। দেশটির সঙ্গে আলাপ হলে অনেক কথা বলে, নিয়ন্ত্রণ করবে বলে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না দেশটি। নাফ নদী পার হলেই মিয়ানমার, সে রুট দিয়ে আসে মাদক, আবার দুর্গম পাহাড় থেকে মাদক আসে। দেশটি থেকে মাদক যাতে ঠেকানো যায় এজন্যই আমরা বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করছি। এটা প্রতিরোধে আমরা হেলিকপ্টার দিয়েছি বিজিবিকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন।


আরও খবর



আশ্বাসেই থেমে আছে অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের জীবন

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

কষ্টের কথা শুনে বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন অনেকেই। আশ্বাস দিয়েছিলেন সমস্যা সমাধানের। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সেই সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগর।

চাঁন সওদাগর বলেন, আমার কষ্টের কথা শুনে প্রশাসনের লোকজনসহ অনেকে বাড়িতে এসেছিলেন। তারা আমাকে একটি ঘর, একটি ব্রেইল মেশিন ও ছেলের লেখাপড়ার খরচসহ জমির সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। জমিজমার কাগজের সমস্যা কিছুটা সমাধান হলেও অন্য সমস্যাগুলো এখনও মেটেনি।

তিনি আরও জানান, ‘অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন তার ছেলের জন্য একটি কম্পিউটার এবং ‘স্বপ্নিল’ নামে একটি সংগঠন তার জন্য একটি ব্রেইল মেশিনের ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়া আর কেউই খোঁজখবর নেয়নি তার।

jamal1

চাঁন সওদাগর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব আমখাওয়া গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন তিনি। ছেলে এসএসসি পাস করে বর্তমানে তারাটিয়া গাজী নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। ব্রেইল মেশিন দিয়ে অন্ধদের জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বই লিখে সংসার চলে চাঁন সওদাগরের।

অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটি ঘরের আবদার ছিলো তা এখনও পাইনি। উপজেলা চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আর খোঁজ নেননি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তার জমিতে একটু সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলে ঘর করে দেওয়া হবে।

তবে ভিন্ন কথা জানালেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, চাঁন সওদাগরকে একটি ব্রেইল মেশিন কিনে দিতে চাইলেও তিনি সেটি নিতে রাজি হননি। ছেলের ভর্তি হওয়ার হওয়ার ব্যাপারেও কোনো কিছু জানাননি।

jamal1

তিনি আরও বলেন, তার একটি ঘরের আবদার ছিলো, কিন্তু তিনি ভূমিহীন না হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেটি করে দিতে চেয়েছেন। সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইউএনও। তবে ক্রয়কৃত জমি নিয়ে চাঁন সওদাগরের যে সমস্যাটি ছিলো সেটির সমাধান করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের (৫৩) রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ব্রেইল মেশিন। কিন্তু ছয়মাস ধরে সেই মেশিনটি অকেজো ছিল। এতে বন্ধ হয়ে যায় চাঁন সওদাগরের উপার্জন। ব্রেইল মেশিনের জন্য ছয়মাস মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি সহযোগিতা।

২৫ জানুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে ‘সংসার চালাতে নতুন ব্রেইল মেশিন চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ’ শিরনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা। দায়িত্ব নেন সব সমস্যা সমাধানের। এছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।


আরও খবর



পদ্মা সেতুর প্রশ্নে কোনো বিরোধীপক্ষ নেই: রব

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

পদ্মা সেতুর অনিবার্যতা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র বিরোধিতা বা দ্বিমত নেই, কোনো বিরোধীপক্ষও নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, নিজস্ব টাকায় নির্মিত পদ্মা সেতু দেশের অন্যতম কীর্তি এবং জনগণ এই কীর্তির গর্বিত অংশীদার। তারপরও সরকার এই জাতীয় প্রশ্নটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।

সোমবার (২৭ জুন) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিনিধিসভায় দেশের বাইরে থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রব বলেন, দেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী স্থাপনা পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে কল্পিত বিরোধীপক্ষ আবিষ্কার একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে ষড়যন্ত্র বা নাশকতার আশঙ্কা করে সরকারের মনগড়া ও অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য বহির্বিশ্বে জাতির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। এসব অমূলক আশঙ্কা যে অসাড় ও অর্থহীন তা এরই মধ্যে প্রমাণ হয়েছে।

জেএসডি নেতা কামাল উদ্দিন মজুমদার সাজুর সভাপতিত্বে দলের সহ-সভাপতি তানিয়া রবের বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট সৈয়দা ফাতেমা হেনা, অধ্যাপক ইউসুফ সিরাজ খান মিন্টু, মোশারেফ হোসেন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসিম, আব্দুল মান্নান, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান, শফিকুল ইসলাম শফিক, মিসেস ফারজানা দিবা প্রমুখ।


আরও খবর