Logo
শিরোনাম

শিক্ষা বিক্রি হলেই হবে জাতির সমৃদ্ধি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাবিত হোক বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণ। জ্ঞানের আরেক নাম সচেতনতা। সচেতনতা অর্জন করতে বর্জন করতে হবে অসচেতনতাকে। অসচেতনতাকে বর্জন করতে হলে প্রশিক্ষণের শুরুতে কিছু নিয়ম থাকতে হবে।

দেশে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা দেখে ভালো লেগেছে। এখন দরকার প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ধরণ পাল্টানো যেন দেশে ভালো, সৃজনশীল ও সুশিক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। কারণ, শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা বিক্রি করতে না পারলে হতাশা এবং গুদামজাত হবে। পরে তা অকেজো হয়ে সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করবে।

পাশ্চাত্যে শিশুর জন্মের শুরুতে তাদের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুন্দর পরিকাঠামোর মধ্য দিয়ে সুশিক্ষার ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে একটি মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। এই ভাতার কিছু অংশ অনুদান হিসেবে এবং বাকি অংশ ধার হিসেবে দেওয়া হয় খুব কম সুদে। শিক্ষাজীবন শেষে যখন তারা কর্মজীবন শুরু করে তখন ধারের অংশ আস্তে আস্তে পরিশোধ করে থাকে।

পাশ্চাত্যের শিক্ষা মডেলকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের কিছুটা রদবদল করতে পারলে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে বই কমবে না। সেক্ষেত্রে যেমন যারা অষ্টম শ্রেণি শেষ করেছে, পড়ার প্রতি আগ্রহ কম বা কাজে জড়িত হতে চায়, তাদের সেভাবে সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে যেমন কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা (one the job training)।

ফিনল্যান্ড বা সুইডেনের স্কুলে যেমন নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সব কিছুই ফ্রি। দশম শ্রেণি থেকে তাদের মাসিক ভাতা দেওয়া হয় যার এক তৃতীয়াংশ অনুদান, বাকিটা ধার হিসেবে। প্রতি টার্মে শিক্ষার্থীদের তাদের সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষার ফলাফল আশানুরূপ পর্যায়ে উপনীত হতে ব্যর্থ হয়, তখন এর কারণ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। এই কারণ দর্শানো যদি কর্তৃপক্ষের মনঃপুত না হয় তখন তাদের মাসিক ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যেন লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগী হয়।

শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ধরণ তৈরি করে নাগরিকের হাতে দেশের দায়ভার তুলে দেওয়া হতে পারে সাফল্যের এক চমৎকার পরিকল্পনা (plan for success)। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের সাফল্য মানেই দেশের সাফল্য। একটি সচেতন জাতির নৈতিক মূল্যবোধের (moral values) উন্নতি এভাবেই হয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ড বা সুইডেনের শিক্ষা প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের সরকার ধার দেয় যার ফলে এরা বাবা-মার ঘাড়ে চেপে বসে থাকে না। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি বা অসৎ কাজকর্ম থেকে তারা বিরত থাকে। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করে।

কর্মের শুরুতেই এরা সরকার থেকে যে ধার নিয়েছিল তা মাসে মাসে ফেরত দিতে শুরু করে। এ ধার শোধ দেওয়ার সময়সীমা কর্মজীবনের ব্যপ্তি অর্থাৎ ৬৫ বছর পর্যন্ত। ৬৫ বছর কর্মের পর এরা অবসর জীবনে চলে যায় এবং সিনিয়র নাগরিক হিসেবে সবধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ড বা সুইডেনের শিক্ষা প্রশিক্ষণের মতো সুযোগ-সুবিধা যদি বাংলাদেশে চালু করা যায় তবে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণের শুরুতেই খুঁজে পাবে এর গুরুত্ব। যা তাদের মোটিভেট করবে এবং জানার জন্য শিখবে বলে আমি মনে করি। প্রশিক্ষণের ধরণ পাল্টানো মানে শুধু শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন বা নকল নিয়ন্ত্রণ করা নয়। অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধাসহ মনিটরিং পদ্ধতি চালু করা দরকার।

সরকার বেশ উঠেপড়ে লেগেছে শিক্ষার পরিবর্তনে কিন্তু যদি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়, সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ পরিবর্তনের পিছে যদি যুক্তিসম্পন্ন পরিকল্পনা না থাকে তবে সৃজনশীল বা স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই দরকার একটি ভালো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা দেশের প্রশিক্ষণের পুরো পরিকাঠামোর ওপর।

যেমন যেসব শিক্ষার্থী চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হচ্ছে এদের পেছনে সরকার অনেক অর্থ ব্যয় করছে। দেখা যাচ্ছে এদের অনেকই পরে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৫-৬ বছর যে পরিমাণ অর্থ সরকার বিনিয়োগ করছে সেটা ধার হিসেবে দিলে পরে সে অর্থকে নতুন শিক্ষার্থীর পেছনে বিনিয়োগ করা সরকারের জন্য সহজ হবে এবং দেশে সীমিত চিকিৎসক বা প্রকৌশলী থেকে বেশি চিকিৎসক বা প্রকৌশলী পাওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করারও সুযোগ বাড়বে।

এ বছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তারা চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হতে পারছে না সীমাবদ্ধতার কারণে। হয়তো কথা উঠবে দেশ ভরা ভুরি ভুরি চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হলে পরে চাকরি পাবে না তখন বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকবে। না থাকবে না, যদি আমাদের কূটনীতিকরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন।

তবে বিশ্বের অনেক দেশেই এসব চিকিৎসক বা প্রকৌশলীদের চাকরির সুন্দর ব্যবস্থা করা সম্ভব। কূটনৈতিক এবং দূতাবাসের কাজকর্মের ওপর বা এদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে, কিন্তু দেশের কোথাও কূটনৈতিকদের নিয়ে আলোচনা হয় বলে আমার চোখে পড়েনি আজও।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও তাদের দায়িত্বে থাকা দূতাবাসসমূহের ব্যবস্থাপনার জন্য যে বাজেট, সেই মোতাবেক রিটার্ন কি তারা দেশকে এবং দেশের মানুষকে দিচ্ছে? তার কি কোনো খবর আমরা রাখি? আমি শুনেছি তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সময় নষ্ট করেন। তেমন কোনো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের দেখা যায় না, যার ফলে তেমন কোনো আশানুরূপ ফল বাংলাদেশ পাচ্ছে না। বাংলাদেশের জনগণের জানা দরকার এসব কূটনৈতিকদের কি কাজ এবং জাতি এদের থেকে কি প্রত্যাশা করে।

একটি গরিব দেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে দরকার সমবেত প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টাগুলোর একটি হলো আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। আর সে কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ তার দূতাবাসগুলো স্থাপন করে রেখেছে, যাতে করে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সব সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো ভোগ করতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, কিংবা আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিপদে আপদে বন্ধু দেশগুলো পাশে এসে দাঁড়াতে পারে!

বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজন বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। আমরা যেমন বিদেশি বিনিয়োগ চাই তেমনি আমাদের যারা প্রবাসী আছেন তাদের বিনিয়োগও আমরা পেতে চাই। সুইডেনে যেমন প্রতি বছর হাজার হাজার চিকিৎসক বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এসে এখানকার হাসপাতালে কাজ করছে। এসব সুযোগ-সুবিধা পেতে দরকার রাষ্ট্রের সব দায়িত্বশীল নাগরিকের সমন্বিতভাবে পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজ করা।

বর্তমানে শিক্ষা প্রশাসনের যে পরিস্থিতি, তাতে আনাড়ি ছেলেদের ফুটবল খেলার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। মাঠের যেখানে ফুটবল যায় সেখানে সবাই জট পাকায়। কখনো কখনো গোলরক্ষকরাও নিজ জায়গা ছেড়ে দিয়ে ফুটবলের পেছনে সারা মাঠ চষে বেড়ায়। সবার লক্ষ্য ফুটবলে লাথি মারা। কার লাথি খেয়ে বল কোন গোলে ঢোকে সেদিকে কারো খেয়াল থাকে না।

আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষার অবস্থা দাঁড়িয়েছে আনাড়ি খেলোয়াড়দের ফুটবল খেলার মতো। যখন যে ঘটনা ঘটছে সে ঘটনার পেছনে গোটা জাতি ছুটছে। ফলে কোনো সমস্যার সমাধান মিলছে না। অসংখ্য সমস্যার বাঁধছে জট। পরিস্থিতি মোটেই সুখকর নয়। দেশের সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা উন্নয়নে কড়া নজর দিতে হবে। আনাড়ি খেলোয়াড়দের দ্বারা পরিচালিত না হয়ে উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর নজর দেওয়া দরকার।

সব শিক্ষার্থীকে স্টাডি লোন দেওয়া এবং জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করা হোক সরকারের নতুন উদ্যোগ। শুধু বর্তমানে কেমন চলছে তা দেখলে হবে না। আগামী দশ বছর পর কেমন চলবে সে বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আজকের দিনটা আগামীকাল হয়ে যাবে গতকাল, এ কথা মনে রেখে দেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোর ওপর কাজ করা দরকার। সৃজনশীল শিক্ষা পেতে এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা আশু প্রয়োজন।

রহমান মৃধা সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট) ফাইজার, সুইডেন।


আরও খবর



ডেমরায় ছিনতাইকারী সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩৩জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর ডেমরায় ছিনতাইকারী সন্দেহে মো. রাকিব মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাদশা মিয়া রোডের ৬ নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিব মিয়ার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তিনি ডেমরার পাইকি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জুবায়ের হোসেন জানান, ডেমরার বাদশা মিয়া রোডের ৬ নম্বর গলিতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন রাকিব মিয়া। এসময় মোবাইল ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকে ইট দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয়রা। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মারধরের শিকার এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। ঢামেকে আনার পরই তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহিন ও নাজমুল নামে দুজনকে আটক করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।


আরও খবর



সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

 

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিদেশে পলাতক সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১২ জুন) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন মোতাহার হোসেন। ওইসময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মোতাহার হোসেন তার নিজ নামে ও স্ত্রী তাসলিমা বেগম ওরফে আরজুমান্দ আরার (মৃত) নামে অর্জিত জমি বা স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৯ দশমিক ৩২৯৯ একর বা ৯৩৪ শতক। যার দালিলিক মূল্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। স্থাবর সম্পদ ছাড়া মোতাহার হোসেনের নিজ নামে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৬১ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে।

স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার ৩৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৫ টাকা সম্পদসহ মোট ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। যার বিপরীতে ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯০ টাকার সম্পদের উৎসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ হয়েছে।

মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সেই সময় তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও জারি করে কমিশন। তবে কমিশন অনুসন্ধান শুরু করার আগেই তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। দীর্ঘ ৮ বছরের অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।


আরও খবর



ইভিএম জনগণের আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি: জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪১জন দেখেছেন
Image

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পৃথিবীর খুব কম দেশেই ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোট হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইভিএম পদ্ধতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। সাধারণ মানুষের ধারণা, তারা যে প্রতীকেই ভোট দেন না কেন তা নির্দিষ্ট একটি প্রতীকে গণনা হয়।

রোববার (৫ জুন) দুপুরে যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামে গণস্বাস্থ্য লেবুতলা হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সাবেক সিইসি (কে এম নূরুল হুদা) যথার্থই বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ সব দলের উপস্থিতি ছাড়া কার্যকর হবে না।

হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করি না বলেই আমরা কম পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছি। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না, যেমন ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা যায় না।’

দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ খুবই অনটনের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এ ট্রাস্টি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে আগামী ঈদে তাদের কোনো আনন্দ থাকবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তার সীমিত সাধ্যের মধ্যে ২০ হাজার গরিব মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু সরবরাহ করবে জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এটি খুবই সামান্য। সরকারের প্রতি আহ্বান, কম আয়ের দুই কোটি মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হোক।

এ বছর দেশের ৫৭ হাজার ব্যক্তি হজ করবেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন ১০ হাজার করে টাকা দান করেন। এতে ঈদে প্রায় ছয় লাখ মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

আগামী বাজেটের বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বড় দেশ, তাই বাজেটের আকারও বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু অপচয়টি কমাতে হবে। বিদ্যুৎ আজ ঘরে ঘরে এটি সত্যি, সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কিন্তু কুইক রেন্টাল কেন পুষতে হবে? এটি অপচয়।’

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকেন, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা; গত ১৩ বছরে নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার কাছে পৌঁছাতে পারেননি। সে কারণে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের আওয়াজ তুলতে হবে। প্রদেশ হলেও মানুষ তার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে পারে।’

পরে বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলার কয়েলখালী গ্রামে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আরেকটি হাসপাতালের নতুন জায়গা পরিদর্শনে যান ডা. জাফরুল্লাহ।

সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী ডা. মনজুর কাদের, লেবুতলা গ্রামের জমিদাতা মৃত শুভাংশু শেখর খাঁর স্ত্রী কল্পনা রানী খাঁ এবং মৃত অরুণ কুমার খাঁর স্ত্রী অরুণা রানী খাঁ, ওই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

শুভাংশু শেখর খাঁ ও তার ভাই অরুণ খাঁর পক্ষে তাদের স্ত্রীরা টিনশেড ঘরসহ ৫৫ শতক জমি হাসপাতালের অনুকূলে আজ রেজিস্ট্রি করে দেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষে ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জমি গ্রহণ করেন।

আগামী জুলাই মাসে লেবুতলায় হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু এবং আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে বলে এ সময় জানানো হয়।


আরও খবর



ইনস্টাগ্রামের রিলস তৈরির সময় বাড়ছে

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৮জন দেখেছেন
Image

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে শর্ট ভিডিও তৈরি করা যায়। এ থেকে ইনকামেরও সুবিধা দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। মূলত টিকটককে টেক্কা দিতেই এই রিলস ভিডিও ফিচার এনেছিল ইনস্টাগ্রাম।

এত দিন রিলস ফিচারের মাধ্যমে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত ভিডিও তৈরির সুযোগ মিলত। এবার টিকটকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিজেদের রিলস ফিচারে ভিডিও তৈরির সময় বাড়িয়েছে ইনস্টাগ্রাম। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে ইনস্টাগ্রামের রিলসের মাধ্যমে ৯০ সেকেন্ড পর্যন্ত ভিডিও ধারণ করা যাবে।

এছাড়াও রিলসে পছন্দের অডিও ফাইল ব্যবহার করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। নিময়ের সুযোগ থাকায় কিশোর-কিশোরীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু কিছুতেই টিকটকের সঙ্গে পেরে উঠছে না ছবি ও ভিডিও বিনিময়ের সামাজিক মাধ্যমটি।

টিকটকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত বছর রিলস ফিচার চালু করে ইনস্টাগ্রাম। তবে টিকটকের তুলনায় ভিডিওগুলোর সময় বেশ কম হওয়ায় ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছে তারা। আর তাই টিকটকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রিলস ফিচারের মাধ্যমে ভিডিও তৈরির সময় বাড়িয়েছে ইনস্টাগ্রাম।

সম্প্রতি অ্যাম্বার অ্যালার্ট নামে নতুন আরও একটি ফিচার চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম। এর মাধ্যমে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে নির্দিষ্ট এলাকার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে শিশুটির ছবি, বর্ণনাসহ সতর্কবার্তা পাঠানো যাবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৫টি দেশে এ সুবিধা চালু করা হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আরও খবর



৫৪৬ জনকে চাকরি দেবে জাকস ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পে ২০টি পদে ৫৪৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: জাকস ফাউন্ডেশন
প্রকল্পের নাম: রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (আরএআইএসই)

পদের বিবরণ
jagonews24

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: জয়পুর হাট

আবেদনের ঠিকানা: নির্বাহী পরিচালক, জাকস ফাউন্ডেশন, সবুজ নগর, জয়পুরহাট।

বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন- www.jaks-bd-org

সূত্র: ইত্তেফাক, ২৯ জুন ২০২২


আরও খবর