Logo
শিরোনাম

সংকটের মধ্যে গমের দাম ৪০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের বাজারে। দেশে দেশে হু হু করে বাড়ছে খাবারের মূল্য। কারণ বিশ্বের খাদ্য চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাশিয়া-ইউক্রেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গমের দাম ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, চলতি বছর প্রতি টন গমের দাম বেড়ে ৭০০ ডলারে দাঁড়াতে পারে, যা বর্তমানের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। এখন প্রতি টন গম বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ ডলারে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউক্রেনের কৃষিনীতি ও খাদ্যমন্ত্রী মাইকোলা সলস্কি এসব কথা বলেন।

সলস্কি বলেন, প্রতি টন গম ৫০০, ৬০০ কিংবা ৭০০ ডলারে কিনতে কি আমরা প্রস্তুত? খাদ্যের সংকটের ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। কারণ এ অঞ্চলের দেশগুলো সিংহভাগ শস্য ইউক্রেন থেকে আমদানি করে বলেও জানান তিনি।

সতর্ক করে ইউক্রেনীয় এ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর দেশের ফসল গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান হামলার কারণে গত বছরের তুলনায় ফসল সংগ্রহ কমতে পারে ৫০ শতাংশ। ঝুঁকি রয়েছে সামনের শীতের রোপণ মৌসুম নিয়েও।

এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ইউক্রেনের শস্য, রাশিয়া ও বেলারুশের সার ছাড়া সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। তাছাড়া রাশিয়া থেকে সার ও খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে কোনো বাধা ছাড়াই আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বব্যাপী খাদ্যের ১০ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। তারা বিশ্বের গম রপ্তানির ৩০ শতাংশের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে। কমপক্ষে ২৬টি দেশ তাদের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্যশস্যের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর মস্কোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমাদেশগুলো।


আরও খবর



বিনাপ্রশ্নে পুঁজিবাজার-আবাসনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে না

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

পুঁজিবাজার ও আবাসনখাতে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত আয়) বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ থাকছে না। আয়কর অধ্যাদেশ থেকে এ সংশ্লিষ্ট দুটি ধারা অর্থবিলের মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজার ও আবাসনখাতে বিনাপ্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে না। তবে উৎপাদনশীল খাতে বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। এছাড়া কেউ চাইলে আরও চারটি পদ্ধতিতে কালো টাকা সাদা করতে পারবেন।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এক বছরের জন্য ১০ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের ‘বিশেষ’ সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া আবাসনখাতে জমি-ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ বাতিল করা হয়। কিন্তু আবাসনখাত ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তির মুখে বাজেট পাসের আগে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এক বছর (চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) বিনাপ্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। তবে ১০ শতাংশের পরিবর্তে নির্ধারিত (২৫ শতাংশ) করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। ফলে এ বছর কালো টাকা বিনিয়োগের তেমন সাড়া পড়েনি।

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট দুই হাজার ২৯৩ জন কালো টাকা ও রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি-ফ্ল্যাট প্রদর্শন করেছেন। এরমধ্যে ৪৭ জন কালো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এ থেকে সরকার দুই কোটি টাকা আয়কর পেয়েছে। সব মিলিয়ে এনবিআর এপ্রিল পর্যন্ত ১৫৩ কোটি টাকা আয়কর পেয়েছে।

বর্তমানে চার পদ্ধতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ (কালো টাকা সাদা) করা যায়। আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ (ই) ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে যে কোনো খাতেই কালো টাকা বিনিয়োগ করা যায়।

শুধু আবাসনখাতের জন্য ১৯বিবিবিবিবি নামে আয়কর অধ্যাদেশে আলাদা একটি ধারা আছে। এ ধারা অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা যায়।

১৯ডিডি ধারা অনুযায়ী, ১০ শতাংশ কর দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করা যায়। ১৯এএএএএএ ধারা অনুযায়ী, ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা নতুন শিল্পস্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ আছে।


আরও খবর



জেলায় জেলায় বিজয় আনন্দ

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

খুলল স্বপ্নের দুয়ার। উদ্বোধন হলো সক্ষমতার পদ্মা সেতু। শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশের পর সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনকে ঘিরে সেতুর দুই প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উৎসবে মেতে ওঠে পুরো দেশ। জেলায় জেলায় র্যালি, আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা: জেলা স্টেডিয়ামে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শিত হয়। এসময় সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন, কেডিএর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

ঝিনাইদহ: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে ঝিনাইদয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে শহরের প্রেরণা একাত্তর চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শৈলকূপা-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক কনক কান্তি দাস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোপালগঞ্জ: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সকাল ১০টায় শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বের হয়ে কেড়াইলকোপা অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুনের নেতৃত্ব দেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

jagonews24

যশোর: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে যশোরে। সকাল থেকে শহরের টাউন হল মাঠে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত হন। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এসময় পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুজ্জামান পিকুল, পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে কক্সবাজারে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় পর্দার মধ্যদিয়ে সেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয়। এসময় সেতুর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট, ক্যাপ মাথায় দিয়ে শত শত মানুষ সেখানে উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ মো. সোলেমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুল হক মুকুল, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর, জেলা শ্রমিকলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনসারী ও জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন সরাসরি প্রদর্শনসহ র্যালি ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েরর্য র্যালিটি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে শুরু হয়ে ড. এ আর মল্লিক প্রশাসনিক ভবনের সামনে শেষ হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে, প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাখাইন পাড়াগুলোতে পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে জেলার মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

jagonews24

মেহেরপুর: জেলায় বর্ণাঢ্য শোভযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ড. মুনছুর আলম খান পুলিশ সুপার রাফিউল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, সহ-সভাপতি অ্যাডভোটেট ইয়ারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদী: শোভাযাত্রা, বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন প্রদর্শনসহ দিনভর নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম, সিভিল সার্জন নুরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোতালিব পাঠান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নড়াইল: র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজির মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন পালিত হয়। র‌্যালিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে শুরু হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহম্মদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

পঞ্চগড়: পদ্মা সেতুর প্রতিকৃতি ও শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উৎসবে অংশ নেয় মানুষ। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। পরে শেরে বাংলা মুক্তমঞ্চ ও সরকারি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

রাজবাড়ী: বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উৎসবের শামিল হয় মানুষ। এর আগে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান, পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটোন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম শহীদ নূর আকবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে শেষ হয়।

jagonews24

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, প্রক্টর অধ্যাপক মো. আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল: সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ: দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

jagonews24

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ আফজল, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর: জেলায় আনন্দ মিছিল ও বড় পর্দায় সরাসরি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে দেখানো হয়। মিছিলটি শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে শুরু হয়ে স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. জাহেদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খানম, জেলা যুবলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান ফুলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপভোগ করেন।

রাঙ্গামাটি: পদ্মা সেতুর মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জিমনেশিয়াম মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠান দেখেন সবাই। পরে সন্ধ্যায় আতজবাজি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


আরও খবর



ক্লাসের ফাঁকে পানি খেতে বেরিয়ে স্কুলের পাশে মিললো শিশুর মরদেহ

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

ফেনীর দাগনভূঞায় মিফতাহুল জান্নাত অর্পা (৫) নামে এক শিশুকে নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটি স্কুলে গিয়ে ক্লাসের ফাঁকে পানি খেতে বেরিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের নেয়াজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত অর্পা একই এলাকার বক্সআলী ভূঞা বাড়ির ওসমান গনির মেয়ে ও নেয়াজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী।

নিহত শিশুর ফুপু তোহরা আক্তার বিউটি বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই নেয়াজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শনিবার স্কুলে গিয়েছিল অর্পা। এরপর ক্লাসের ফাঁকে পানি খাওয়ার জন্য বেরিয়ে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিদ্যালয়ের পেছনে কবরস্থানের ঝোপের মধ্যে গাছের সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষ না পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ধারণা করা যাচ্ছে, শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটির মরদেহ দেখে স্থানীয় সবাই হতবাক। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে নিহতের পরিবারকে বলা হয়েছে।


আরও খবর



নানা সঙ্কট সঙ্গে নিয়ে চলছে যশোর সুইমিংপুল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
Image

খাল-বিল, নদী-নালার দেশে ভালোমানের সাঁতারু বের করে আনার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে সুইমিংপুল। যে সব সাঁতারুরা শুধুমাত্র এসএ গেমস নয়, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এশিয়ান গেমস, এমনকি অলিম্পিক গেমসেও।

শুধু সাঁতারু বের করে আনাই নয়, বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের শরীরচর্চার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেও খুব প্রয়োজন সাঁতার। সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখাটাও জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয়।

সবকিছুকে সামনে রেখে সারা দেশে অন্তত ২৩টি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর অধিকাংশ পুলই পড়ে রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। কোনো কোনো পুলে তো একদিনের জন্যও কেউ নামতে পারেনি। কোথাও পানি নেই, কোথাও পাম্প নষ্ট, কোথাও নোংরা পানি- নানা অব্যবস্থায় পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সুইমিংপুলগুলো।

অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত এসব সুইমিংপুল নিয়েই জাগোনিউজের ধারাবাহিক আয়োজন। ষষ্ঠ পর্বে আজ থাকছে যশোর সুইমিং পুলের চালচিত্র...

* ২০০৫ সালে এনএসসির অর্থায়নে যশোরে আন্তর্জাতিকমানের সুইমিংপুল নিমার্ণ শুরুর পর উদ্বোধন করা হয় ২০০৮ সালে।
* ২০১১ সালে প্রায় চার লাখ টাকা বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
* ২০১৭ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর একে সংস্কার করে ফের ২০১৮ সালে চালু করে পৌরসভা।
* সুইমিংপুলে লেন নেই। নেই ময়লা পরিষ্কারের জন্য নেট ও ভ্যাকুয়াম মেশিন। সুইমিংপুলটি জাতীয় মানের নয়।
* প্রতি সপ্তাহে পানি পরিবর্তন করতে হয়। এজন্য সপ্তাহে দু’দিন পুলটি বন্ধ রাখতে হয়।
* বড় সঙ্কট হচ্ছে, এটি রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই।

করোনাকাল পেরিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিংপুলটি। এই পুলটিকে ঘিরে যশোর থেকে জাতীয় মানের সাঁতারু তুলে আনার পরিকল্পনা করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।

যদিও কিছু সমস্যা এবং সঙ্কটের কারণে পুলটিকে চালু রাখাই একটি চ্যালেঞ্জ বলে মানছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারেরও পদক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।

swimmingpool

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অর্থায়নে যশোরে আন্তর্জাতিকমানের সুইমিংপুল নিমার্ণের কাজ শুরু হয়। চার কোটি টাকা ব্যয়ে নিমিত সুইমিংপুলটি ২০০৮ সালের মাঝামাঝিতে উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকে চার বছর ভালোই চলছিল জেলার সাঁতারুদের প্রশিক্ষণ। সে সময় কয়েকটি টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করা হয়। ফলে সুইমিংপুল ঘিরে সাতাঁরুদের আনাগোন ছিলো; কিন্তু ২০১১ সালের মাঝামাঝি প্রায় চার লাখ টাকা বিল বকেয়া থাকায় সুইমিংপুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

সেই থেকে গত আট বছর রক্ষণাবেক্ষণের অভাব সুইমিংপুলটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি তৎকালীন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির পুলটির রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেন পৌরসভাকে। দায়িত্ব পেয়ে সুইমিংপুলটিকে সংস্কার করে পৌরসভা। সংস্কার শেষে ২০১৮ সালের শেষদিকে পুলটি উন্মুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে করোনাকাল পেরিয়ে আবারও সচল করা হয়েছে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিংপুলটি। গত মার্চ থেকে সাঁতারুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুইমিংপুল। পুলে সাঁতার শিখতে আসা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অরণ্য দেবনাথ অর্ক জানায়, পুকুর, নদী, সাগরে নেমে যেন ডুবে না যায়, সেজন্য সে সাঁতার শিখছে। আর ভালোভাবে সাঁতার শিখে সে প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও জিততে চায়।

সন্তানকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে আসে মা অ্যাড. স্বপ্না তরফদার বলেন, ‘সাঁতার শেখাটা প্রত্যেক মানুষের জন্যই জরুরি। এজন্য তিনি তার মেয়ে ও ভাইপোকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে এসেছেন। সুইমিংপুলটি সাঁতার শেখার জন্য মোটামুটি ভাল।’ তবে তিনি প্রশিক্ষক বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

swimmingpool

সাঁতার প্রশিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ‘সুইমিংপুলে লেন নেই। নেই ময়লা পরিষ্কারের জন্য নেট ও ভ্যাকুয়াম মেশিন। সুইমিংপুলটি জাতীয় মানের নয়। ভাল মানের পুলে বয়লার সিস্টেম থাকে। যার মাধ্যমে পানি রিফাইন করে ব্যবহার করা যায়। এখানে সে ব্যবস্থা নেই। আর এখানে পানিতে আয়রন হয় বেশি। প্রতি সপ্তাহে পানি পরিবর্তন করতে হয়। এজন্য সপ্তাহে দু’দিন পুলটি বন্ধ রাখতে হয়।’

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাতাঁর পরিষদের সভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার পর মার্চ থেকে সুইমিংপুল চালু করা হয়েছে। নতুন নতুন সাঁতার প্রশিক্ষণার্থী আসছে। তবে পুলটি চালু রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি উত্তোলন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, পানি ভাল রাখতে রাসায়নিক উপকরণ, প্রশিক্ষক বেতনসহ সর্বসাকুল্যে প্রতিমাসে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের বেতন থেকে এই টাকা নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভর্তুকি দিয়ে পুল চালু রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সুইমিংপুলের গ্যালারি, ডাইভিংপুলসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংস্কার দরকার। পুলের জন্য কোনো কেয়ারটেকার নেই। এখানে স্থায়ী কেয়ারটেকার দরকার। এসব বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে।’

তবে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাতাঁর পরিষদের সাবেক সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘পুল চালু হলেও সাঁতার নিয়ে ক্রীড়া সংস্থার পরিকল্পনা ও উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। যশোরে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সাঁতার প্রতিযোগিতা নেই; নেই ওয়াটারপোলো টুর্নামেন্ট। এমনকি ট্যালেন্ট হান্টও নেই। ফলে নতুন সাঁতারু উঠে আসছে না। আগে পুল না থাকলেও যশোর থেকে জাতীয় মানের সাঁতারু উঠে এসেছে। এখন পুল থাকার সেই ধারা নেই।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবীরের সাথে। তিনি বলেন, ‘করোনাকালে দু’বছর সাঁতারসহ খেলাধুলা বন্ধ ছিল। এখন সুইমিংপুল সংস্কার করে সাঁতার চলছে। নতুনরা সাঁতার শিখছে। পাশাপাশি পুরানো সাঁতারুরাও প্র্যাকটিস করছে। ফলে আমরা আশাবাদী আগামী দু’বছরের মধ্যে যশোর আবার সাঁতারে আগের অবস্থানে উঠে আসবে।

ইয়াকুব কবীর উল্লেখ করেন, ‘সুইমিংপুলের বড় সঙ্কট হচ্ছে, এটি রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এ ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্যালারি নির্মাণসহ কিছু সংস্কারের জন্যও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে।’


আরও খবর



বাজেটে অর্থমন্ত্রীর ‘ফিনিক্স পাখির গল্প’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

বাজেটে ‘এক ফিনিক্স পাখির গল্প’ বলেছেন অর্থমন্ত্রীর আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদের বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশের ৫১তম বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে অর্থমন্ত্রী এক ফিনিক্স পাখির গল্পগাথা উপস্থাপন করেছেন।

অর্থমন্ত্রী তার সাহিত্যিক উপস্থাপনায় সেই ফিনিক্স পাখির জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা জীবন, পারিবারিক জীবন এবং রাজনৈতিক নানা ঝড় ঝঞ্ঝার চিত্র তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপনা ছিল এরকম- ১৯৪৭ সাল। সময়টা তখন শরৎকাল। রূপময় বাংলার প্রকৃতিতে আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। শিউলিঝরা সকাল, ভোরের দূর্বাঘাসে মুক্ত দানা শিশির, নদীতীরে-বনের প্রান্তে কাশফুলের সাদা এলোকেশের দোলা, আকাশের নরম নীল ছুঁয়ে ভাসা শুভ্র মেঘের দল, নৌকার পালে বিলাসী হাওয়া। ভেসে বেড়ানো মেঘের প্রান্ত ছুঁয়ে উড়ে চলা পাখ-পাখালির ঝাঁক, বাঁশবনে ডাহুকের ডাকাডাকি, বিলঝিলের ডুবো ডুবো জলে জড়িয়ে থাকা শালুক পাতা, আঁধারের বুক চিরে জোনাকির রুপালি সেলাই, ঘোর লাগা চাঁদের আলো- সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের আড়ম্বর। অপরদিকে বাংলার রাজনীতিতে তখন ভারতবর্ষের সদ্য অনাকাঙ্ক্ষিত বিভক্তির টানাপোড়েন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন ছাত্রনেতা। কলকাতায় দেশভাগের সূত্র ধরে ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রশমনে ব্যস্ত। পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কলকাতার পাট চুকিয়ে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসার। ঠিক এমনি একটি ক্ষণে ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন তাদের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। ছোটবেলায় সকলের প্রিয় হাসু নামেই পরিচিত ছিলেন।

হ্যাঁ, অর্থমন্ত্রীর সেই ফিনিক্স পাখি আর কেউ নন বাঙালির আশা আকাঙখা, স্বপ্ন ও সাহসের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাধা বিপত্তি ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও উন্নয়নের সংগ্রামী পথচলাকে অর্থমন্ত্রী ফিনিক্স পাখির গল্প আকারে তুলে ধরেছেন। পাশপাশি তার এই অব্যাহত অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অর্জনও তুলে এনেছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এক ফিনিক্স পাখি। বাবা-মা, ভাইসহ আপন আত্মীয়দের হারিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন এই বাংলার আপামর মানুষের কল্যাণে। এ দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অভিযাত্রায় একের পর এক লক্ষ্য অর্জনে যেন — কবি গুরুর ভাষায় বলতে হয় ‘আলোর নৌকা ভাসিয়ে দিয়েছেন আকাশপানে চেয়ে।’

অর্থমন্ত্রী মনে করেন, সবকিছুই সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের হাল ধরেছেন বলে। শেখ হাসিনা আছেন বলেই বাংলাদেশ আজ শান্তি, সাম্য আর সম্প্রীতির দেশ, তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ, বাংলাদেশ আজ হতে যাচ্ছে উন্নত এক দেশ।

এসময় দেশবাসীর পক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।


আরও খবর