Logo
শিরোনাম

তৃষ্ণার্ত কোবরা পানি পান করছে গ্লাসে!

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৮জন দেখেছেন
Image

একটি কালো কোবরা, একজন ব্যক্তির হাতে রাখা গ্লাসের পানিতে চুমুক দিচ্ছে। এ ধরনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পৃথিবীর সাপ প্রজাতির মধ্যে কোবরা সবচেয়ে বেশি বিষধর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে এটি পাওয়া যায়। ভারতে এই প্রজাতির কিং কোবরার প্রায়শই দেখা মেলে।

ভারতের আইএফএস কর্মকর্তা সুশান্ত নন্দ টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, একটি বানর এবং কয়েকটি হাঁসের বাচ্চা তরমুজ ভাগ করে খাচ্ছে। এরপর এনসিসুকুমার নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই সাপের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে দেখা যায়, কোবরাকে পানি পান করাচ্ছেন এক ব্যক্তি।

এই ভিডিওটি পুরোনো। গত আগস্টে এটি সুশান্ত নন্দের পোস্টের কমেন্টে পোস্ট করা হয়। কিন্তু এটি আবার ভাইরাল হচ্ছে যেহেতু কারণ এখন গ্রীষ্মের সৌমুস এবং লোকেরা একটি তৃষ্ণার্ত কোবরাকে পানি পান করার দৃশ্য দেখার আশা করতেই পারেন। যদিও প্রচণ্ড গরমে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিটি প্রাণীর জল পান করাটা স্বাভাবিক।

কিং কোবরা কিংবা শঙ্খচূড়, রাজ গোখরা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ। যার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬ মিটার (১৮ দশমিক ৫ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার বনাঞ্চলজুড়ে বসবাস করে।

সূত্র; এনডিটিভি


আরও খবর



অগ্রিম টিকিট না কেটে বিপাকে বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী সব গণপরিবহনের টিকিট অগ্রিম বুকিং করে রাখা আছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঢাকাগামী পর্যটকরা। ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট পেতে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটতে দেখা গেছে পর্যটকদের।

শুক্রবার (৬ মে) সন্ধ্যায় বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবান ভ্রমণে আসা পর্যটক ঈশান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের আগে বন্ধুবান্ধবসহ আমরা মোট ১১ জন বান্দরবান বেড়াতে এসেছিলাম। ঈদের দিন বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকায় আগাম ফিরতি টিকিট নিতে পারিনি। আজ কোনো বাস কাউন্টারেই টিকিট মিলছে না।’

ঢাকায় ফিরতে গত দুইদিন ধরে বাসের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ঘুরছেন সাভার থেকে আসা আরেক পর্যটক গোলাম মাসুদ নাঈম। কিন্তু কোনো বাসের টিকিট পাচ্ছেন না তিনি।

jagonews24

বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম রুটের পূরবী ও পূর্বানী পরিবহনের টিকিটও আগামী বুকিং হয়ে গেছে। এতে চট্টগ্রামগামী যাত্রীরাও পড়েছেন বিপাকে।

সৌদিয়া পরিবহনের বান্দরবান কাউন্টার ম্যানেজার মোজাম্মেল হক ও শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, করোনাকালীন প্রায় দুই বছর বান্দরবানে তেমন পর্যটকের আগমন ঘটেনি। তবে এবার ঈদের টানা সরকারি ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

তারা আরও জানান, ঢাকাগামী ৭ ও ৮ মের সব টিকিট আগাম বুকিং রয়েছে। ফলে নতুন কোনো যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়েসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ভোগান্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। তারপরও আগামীকাল থেকে যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।


আরও খবর



রবীন্দ্র-ভাবনায় সমাজ অনুধ্যান

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

রবীন্দ্রনাথ আমাদের নিত্যসঙ্গী, বাঙালির আত্মপরিচয়ের অন্যতম স্তম্ভ। তাঁকে কেন্দ্র করে কেবল পাকিস্তানি সরকারের বিতর্কিত ভূমিকা নয় ১৯৭১ এর আগে থেকেই বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত হয়েছে তাঁর মাধ্যমে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহানপুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর অন্যতম অনুঘটক। তাঁর দীর্ঘ কারাজীবনের সঙ্গী ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’।

লেখাবাহুল্য, রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানের ভক্ত বঙ্গবন্ধুই আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’কে সংবিধানভুক্ত করেন। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্ব বাংলার শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া এক সংবর্ধনার ভাষণে রবীন্দ্রনাথের কথা এভাবেই বলেছিলেন তিনি- Go to anywhere in the world and tell them that you have come from the country of Tagore, they will respect you. বিশ্বকবির দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বকবির ভাষাপ্রেম এদেশের মানুষকে ভাষা সংরক্ষণের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সঙ্গে বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ের সম্পর্ক এবং সংকট-মুহূর্তে তাঁর সাহিত্য-সংগীতের দ্বারা উজ্জীবিত হওয়া সাধারণ একটি ঘটনা।

মনে রাখতে হবে পাকিস্তানিদের চেয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য রবীন্দ্রনাথকে বারবারই সামনে এনেছেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন- ‘সাত কোটি বাঙালিকে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি- ‘কবিগুরু, তোমার উক্তি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দেখে যাও তোমার বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে।’ জীবদ্দশায় কবিগুরু দেখেছেন যুদ্ধ-বিপর্যস্ত পৃথিবীতে মহাবিপর্যয়ের ত্রাস। মারণব্যাধির মহামারি, দুর্ভিক্ষ, মন্বন্তরে মানবসভ্যতার পরাজয়ের ভয়ঙ্কর ও বিব্রতকর চিত্র। তবু তিনি মানুষকে আশ্বাস দিয়েছেন, উজ্জীবিত করেছেন ‘দুঃসময়’ (কল্পনা)-এর মতো আরো অনেক কবিতা-গানে।

লিখেছেন-‘দিক-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা-/তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,/এখনি, অন্ধ, বন্ধ করো না পাখা।’ (দুঃসময়) রবীন্দ্রনাথের জন্মের আগে-পরে বিশেষত ১৮১৭ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত একশ বছরে সাতবারের কলেরা মহামারিতে ভারতবর্ষে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। ১৮৯৬ সালের প্লেগ মহামারি, ১৮৯৭ সালের বড় ভূমিকম্প অথবা ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুতে বিপুল সংখ্যক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ভূমিকম্পে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দুর্যোগের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংক্রামক ব্যাধি, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মনীতি বিশ্বকবির মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।

‘পল্লীপ্রকৃতি’ গ্রন্থের ‘সমবায়ে ম্যালেরিয়া-নিবারণ’ (ভাদ্র, ১৩৩০) এবং ‘ম্যালেরিয়া’ (জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩১) প্রবন্ধ ছাড়াও সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান প্রসঙ্গে তিনি মানবজীবন থেকে ব্যাধি নিবারণের কথা বারবার বলে গেছেন। একটি উদ্ধৃতি- ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, দুর্গতির কারণ সব দেশেই আছে। কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্ব কী। না, সেই দুর্গতির কারণকে অনিবার্য বলে মনে না করে, যখন যাতে কষ্ট পাচ্ছি চেষ্টা-দ্বারা তাকে দূর করতে পারি, এ অভিমান মনে রাখা। আমরা এতদিন পর্যন্ত বলেছি, ম্যালেরিয়া দেশব্যাপী, তার সঙ্গে কী করে লড়াই করব, লক্ষ লক্ষ মশা রয়েছে তাদের তাড়াব কী করে, গভর্মেণ্ট আছে সে কিছু করবে না... আমরা কী করব! সে কথা বললে চলবে না। যখন আমরা মরছি, লক্ষ লক্ষ মরছি... কত লক্ষ না মরেও মরে রয়েছে...যে করেই হোক এর যদি প্রতিকার না করতে পারি আমাদের কিছুতেই পরিত্রাণ নেই। ম্যালেরিয়া অন্য ব্যাধির আকর। ম্যালেরিয়া থেকে যক্ষ্মা অজীর্ণ প্রভৃতি নানারকম ব্যামো সৃষ্টি হয়। একটা বড়ো দ্বার খোলা পেলে যমদূতেরা হুড়্ হুড়্ করে ঢুকে পড়ে, কী করে পারব তাদের সঙ্গে লড়াই করতে। গোড়াতে দরজা বন্ধ করা চাই, তবে যদি বাঙালি জাতিকে আমরা বাঁচাতে পারি।’

আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে সম্মিলিতভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ব্যাধি বিস্তার রোধ করার উপায় বলেছিলেন কবি। আরো এক জায়গায় তিনি লিখেছেন- ‘আমরা অনেকে জানি ম্যালেরিয়া কিরকম গোপনে ধীরে ধীরে মানুষকে জীবন্মৃত করে রাখে। এ দেশে অনেক জিনিস হয় না; অনেক জিনিস আরম্ভ করি, শেষ হতে চায় না; অনেক কাজেই দুর্বলতা দেখতে পাই...পরীক্ষা করলে দেখা যায় ম্যালেরিয়া শরীরের মধ্য থেকে তেজ কেড়ে নিয়েছে। চেষ্টা করবার ইচ্ছাও হয় না।’ অর্থাৎ রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর ছিল স্পষ্ট ধারণা। তাছাড়া তখন বিশ্বভারতীর একটা ব্যবস্থা ছিল- শান্তিনিকেতনের চারিদিকে যে-সমস্ত পল্লিবসতি দেখা যেত সেগুলিকে তিনি নীরোগ রাখার জন্য বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।

বিশ্বকবি লিখেছেন- ‘সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান।/সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ/মুক্তো করো ভয়/আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।’করোনা মহামারিতে আমরা ‘ম্রিয়মাণ’ কিন্তু ভয়-মুক্ত হওয়ার জন্য যাঁর কাছে মানসিক শক্তি পেতে পারি তিনি আমাদের জীবনে আবির্ভূত সংকট নিবারণের বাঞ্চিত সঙ্গী। তিনি নিজেও আশি বছর বয়স পর্যন্ত নিজের স্ত্রী, সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের মৃত্যুর করালগ্রাসে হারিয়ে যেতে দেখেছেন; তবে বিচ্ছেদ ও একাকিত্বের গভীর বেদনাকে অন্তরে ধারণ করে নিজের শক্তিতে জয়ী হয়েছেন। তাঁর দু’কন্যা মাধুরীলতা ও রেণুকা দেবীর হয়েছিল যক্ষ্মাতে মৃত্যু এবং ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ মারা গিয়েছিল কলেরায়। অন্য কন্যা মীরাদেবীর পুত্র নীতীন্দ্রনাথের অকাল প্রয়াণও তাঁকে মর্মদাহিক বেদনায় দিশেহারা করেছিল। তাঁর ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘পিতৃস্মৃতি’তে লিখেছেন- ‘ভাগ্যের উত্থান-পতন, দুঃখ কিংবা ক্লেশ কোনো কিছুই অবশ্য বাবার চিত্তের প্রশান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারত না। মহর্ষির মতই তিনিও সর্বাবস্থায় অবিচলিত থাকতেন। বেদনা যতই পীড়াদায়ক হোক না কেন, তা তাঁর ভিতরের শান্তিকে নষ্ট করতে পারত না। সবচেয়ে দুঃখের দুর্ভাগ্যকে সইবার মত এক অতিমানবিক শক্তি ছিল তাঁর।’

এর কারণ হলো তিনি ছিলেন বিশ্বের তাবৎ মানুষের ঐক্যবদ্ধতায় বিশ্বাসী। তিনি ভেবেছেন- ‘মানুষের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই, সমস্ত মানুষ এক। মানুষের সমাজে একজনের পাপের ফলভোগ সকলকেই ভাগ করে নিতে হয়; কারণ, অতীতে ভবিষ্যতে, দূরে দূরান্তে, হৃদয়ে হৃদয়ে, মানুষ যে পরস্পর গাঁথা হয়ে আছে।...যে পাপের ভার এতদিন নানা স্থানে নানা জনে জমাইয়া তুলিতেছিল, তাহারই আঘাতে রুদ্র আজ জাগ্রত হইয়াছেন- দেবতার ও মানবতার অপমান তিনি সহ্য করিতে পারিতেছেন না।’

রুদ্রের রোষেই মানুষের মধ্যে বিকার ও কুপ্রবৃত্তি জেগেছে ২০২২ সালেও। হচ্ছে যুদ্ধ ও অপমৃত্যু, এসেছে ঝড়-ঝঞ্ঝা; এই বিপুল অপমৃত্যু মানবেরই পাপের প্রায়শ্চিত্ত। তাই নতুন বন্দরে নোঙর করতে হলে সে মৃত্যুকেও বরণ করতে হবে; সে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে অকম্পিত বুকে বলতে হবে- ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।/তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।/তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,/বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে।/...নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ, নাহি নাহি দৈন্যলেশ।’

২০২২ সালের প্রথম মাস থেকে রাশিয়া যুদ্ধের কারণে মানুষ দিশেহারা।তবে সৎ মানুষের বদৌলতে প্রকৃতির সতেজ ও অবিনশ্বরতায় প্রাণের নিত্যধারা প্রবহমান। এই কঠিন সময়ে আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ, আগমন--বিদায় আর পুনরাগমন-পুনর্মিলনের খণ্ডাংশের যাপিত-জীবনে এসেছে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী- যা উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর একটি। আর দুর্যোগ, দুর্দৈববিপাকে তাঁকে স্মরণ করেই আমাদের শান্তি ও আনন্দ লাভ সম্ভব।

যুদ্ধের সংকটে মৃত্যু, যন্ত্রণা ও দুঃখ-কষ্টে আমরা যেমন রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করছি তেমনি যারা মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে মানুষের ধর্ম পালন করছেন তাদেরও সম্মান জানাচ্ছি বিশ্বকবির ভাবনা দিয়েই। রবীন্দ্রনাথের মতে, ‘যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।’ ‘মানুষের ধর্ম’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন- ‘মানুষ বিষয়বুদ্ধি নিয়ে নিজের সিদ্ধি অন্বেষণ করে। সেখানে ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা নির্বাহে তার জ্ঞান, তার কর্ম, তার রচনাশক্তি একান্ত ব্যাপৃত। সেখানে সে জীবরূপে বাঁচতে চায়। তাঁর আরো এবটি দিক আছে যেখানে ব্যক্তিগত বৈষয়িকতার বাইরে।

সেখানে জীবনযাত্রার আদর্শে লাভ-ক্ষতির বিচার করে না বরং অনিশ্চিত কালের উদ্দেশে আত্মত্যাগ করতে চায়। সেখানে স্বার্থের প্রবর্তনা নেই। আপন স্বতন্ত্র জীবনের চেয়ে যে বড়ো জীবন সেই জীবনে মানুষ বাঁচতে চায়।’ রবীন্দ্রভাষ্য মতে, আত্মত্যাগী মানুষই মনুষ্যত্বের দিশারি। তারাই এই বিশ্বজগতকে সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে। সংকটে সৎ রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের প্রারম্ভে সমস্ত মন থেকে বিশ্বাস করেছিলেন আধুনিক সভ্যতার দান হলো ইউরোপের অন্তরের সম্পদ। কিন্তু পৃথিবীর সভ্যতাভিমানের পরিকীর্ণ ভগ্নস্তূপ দেখে ৮০ বছর বয়সে সে বিশ্বাস একেবারে দেউলিয়া হয়ে যায় তাঁর। ‘তবু মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ’ সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করে গেছেন তিনি। ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে আশা করেছিলেন- ‘মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়তো আরম্ভ হবে এই পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। আর- একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ মর্যাদা ফিরে পাবার পথে।

মনুষ্যত্বের অন্তহীন প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপমান মনে করি। এই কথা আজ বলে যাব, প্রবল প্রতাপশালীরও ক্ষমতা মদমত্ততা আত্মম্ভরিতা যে নিরাপদ নয় তারই প্রমাণ হবার দিন আজ সম্মুখে উপস্থিত হয়েছে; নিশ্চিত এ সত্য প্রমাণিত হবে...। ‘অপরাজিত মানুষে’র জয় আর ‘প্রবল প্রতাপশালীর ক্ষমতা মদমত্ততা আত্মম্ভরিতা’র অবসান যে সত্য হবে সে কথা মৃত্যুর ঠিক আগে বলে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। প্রত্যাশা করেছিলেন ‘মানব-অভ্যুদয়ে’র মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের। লিখেছেন- ‘অমারাত্রির দুর্গতোরণ যত/ধূলিতলে হয়ে যাবে ভগ্ন।/ নবজীবনের আশ্বাসে।/ জয় হবে মানব-অভ্যুদয়।’

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবদ্দশায় মানবপীড়নের মহামারি দেখেছিলেন। দেখেছিলেন মানুষে মানুষে যে সম্বন্ধ সবচেয়ে মূল্যবান এবং যাকে যথার্থ সভ্যতা বলা যেতে পারে তার কৃপণতা ভারতীয়দের উন্নতির পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছিল। দেখেছিলেন পাশ্চাত্য সভ্যতার মজ্জার ভিতর বর্বরতা জাগ্রত হয়ে উঠে মানবাত্মাকে অপমানে নিঃস্ব করে দেবার ঘটনাও। তিনি নিভৃতে সাহিত্যের রসসম্ভোগের উপকরণের বেষ্টন থেকে বেরিয়ে এসে ভারতবর্ষের জনসাধারণের নিদারুণ দারিদ্র্য সচক্ষে দেখেছেন। অন্ন-বস্ত্র-পানীয়- শিক্ষা-আরোগ্য প্রভৃতি মানুষের শরীরমনের পক্ষে যা-কিছু অত্যাবশ্যক তার নিরতিশয় অভাব দেখে তিনি আধুনিক-শাসনচালিত ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন।

জনসাধারণের প্রতি ব্রিটিশদের অপরিসীম অবজ্ঞাপূর্ণ ঔদাসীন্য ছিল বলেই বাংলায় সংক্রমিত কলেরা ও ম্যালেরিয়া মহামারিতে তাঁর ভূমিকা ও দিক-নির্দেশনা পূর্বে উল্লিখিত ‘পল্লীপ্রকৃতি’ গ্রন্থে যথার্থভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পরের সময়টিও ছিল মানবসভ্যতার এক সন্ধিক্ষণ। সেসময় মানবসভ্যতার পরিবর্তনের রূপ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন কবি। সাম্রাজ্যবাদ ও ধনতন্ত্রের পতন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধোত্তর ধনতন্ত্র গণতন্ত্রের সঙ্গেই পথ ধরে চলেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে কবির শঙ্কিত মন বারবারই বিশ্বের মানুষকে সচেতন করার জন্য উদগীব হয়েছে। এজন্যই ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ ও আত্মতৃপ্তির পরিধি থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘মানুষের ধর্ম’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন- ‘মানুষ আপন উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিসীমাকে পেরিয়ে বৃহৎমানুষ হয়ে উঠছে, তার সমস্ত শ্রেষ্ঠ সাধনা এই বৃহৎমানুষের সাধনা। এই বৃহৎমানুষ অন্তরের মানুষ। বাইরে আছে নানা দেশের নানা সমাজের নানা জাত, অন্তরে আছে এক মানব। ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষের আত্মোপলব্ধি বাহির থেকে অন্তরের দিকে আপনিই গিয়েছে, যে অন্তরের দিকে তার বিশ্বজনীনতা, যেখানে বস্তুর বেড়া পেরিয়ে সে পৌঁচেছে বিশ্বমানসলোকে।’

সংকীর্ণ মানসিকতা দিয়ে পৃথিবীর মঙ্গল করা যায় না। জীবনকে সার্থক করার জন্য প্রয়োজন বিশ্বজনীন কর্মপ্রয়াস। সকল মানুষের মধ্যে ঐক্যসূত্র গাথাই হলো বিশ্বজনীনতা। মানুষ ব্যক্তিগত সীমাকে অতিক্রম করতে পারলেই তার বিশ্বমানব সত্তা চিহ্নিত হয়। ব্যক্তিগত মানুষ নয়, সে বিশ্বগত মানুষের একাত্ম। দেশকালগত সংকীর্ণ পার্থক্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে মানব সভ্যতার সমস্যাকে সমগ্র মানবের সত্য বলে জানতে হবে। চেষ্টা করতে হবে তা থেকে উদ্ধারের।

কবির মতে, ‘মানুষ আপনাকে জেনেছে অমৃতের সন্তান, বুঝেছে যে, তার দৃষ্টি, তার সৃষ্টি, তার চরিত্র, মৃত্যুকে পেরিয়ে। মৃত্যুর মধ্যে গিয়ে যাঁরা অমৃতকে প্রমাণ করেছেন তাঁদের দানেই দেশ রচিত। সব মানুষকে নিয়ে; সব মানুষকে অতিক্রম করে, সীমাবদ্ধ কালকে পার হয়ে এক-মানুষ বিরাজিত।’ এই যে দেশকালপাত্র ছাড়িয়ে মানুষের বিদ্যা, মানুষের সাধনা সত্য হয়ে ওঠা এখানেই মানবধর্মের সারকথা নিহিত। ‘মানুষ এক দিকে মৃত্যুর অধিকারে, আর- এক দিকে অমৃতে; এক দিকে সে ব্যক্তিগত সীমায়, আর-এক দিকে বিশ্বগত বিরাটে। এই দুয়ের কোনোটাকেই উপেক্ষা করা চলে না।’ তবে প্রবৃত্তিতাড়িত মানুষ কখনও বিশ্বজীবনের জন্য কিছু করতে পারে না। এজন্য দরকার আত্মত্যাগী মানুষ যার আত্মগৌরব নেই।

মূলত মানুষের সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট ও সভ্যতার বিপর্যয় মোকাবেলা করার জন্য আমরা বিশ্বকবির জন্মদিনে তাঁর রচনা থেকেই আতঙ্ক ও কষ্ট দূর করার রসদ পাচ্ছি। তিনি যেন এই যুদ্ধজনিত সংকটের পথে এসেছেন পৃথিবীকে রক্ষা করতে। কারণ মৃত্যুভীতিতেও আমরা মনে করি তাঁর কথাই সত্য- ‘তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’… ‘আসব যাব চিরদিনের সেই আমি।’ মারণঘাতি অস্ত্রের সামনে তাঁর প্রকাশ সূর্যের মতো কুহেলিকা উদঘাটন করছে। ভয়কে জয় করার জন্য রিক্ত, ব্যর্থ, শূন্য মানুষকে বিস্ময়ে তিনিই উজ্জীবিত করছেন আজও ।

২৫ বৈশাখে লেখা তাঁর নিজের কবিতাতেও সেই অভিব্যক্তি- ‘তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/সূর্যের মতন।/ রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।/ ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,/ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময়।’অসীমের চিরবিস্ময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজকের পৃথিবীতেও স্মরণীয়। আজ ২৫ বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। বিশ্বকবির জন্মদিন সকলের জন্য শুভ হোক।

লেখক : কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]


আরও খবর



প্রভাস ও দীপিকার সঙ্গে দিশা পাটানি

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

নাগ অশ্বিন পরিচালিত সাই-ফাই সিনেমা ‘প্রজেক্ট কে’। ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি একটি হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিনেমাটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এই সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যাবে বাহুবলী খ্যাত তারকা প্রভাসকে। প্রভাস ছাড়াও বলিউড সুপারস্টার দীপিকা পাড়ুকোন এবং কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন ও অভিনয় করবেন 'প্রোজেক্ট কে' সিনেমায়।

এবার জানা গেল তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলিউডের আরেক অভিনেত্রী দিশা পাটানি।

সিনেমায় একটি আকর্ষণীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। তরুণ এই অভিনেত্রীকে নির্মাতাদের কাছ থেকে একটি বিশেষ উপহার দিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়। যেখানে তারা উল্লেখ করেছিলেন দিশাকে দলে পেয়ে তারা কতটা রোমাঞ্চিত। নিজ ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে তা শেয়ার করেন দিশা।

‘প্রোজেক্ট কে’ ছাড়াও দিশাকে দেখা যাবে ‘এক ভিলেন রিটার্নস’ এবং ধর্মা প্রোডাকশনের ‘যোদ্ধা’-তে।


আরও খবর



ভূতুড়ে এই দুর্গে রাত কাটালেই মৃত্যু নিশ্চিত!

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৫জন দেখেছেন
Image

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রহস্যময় ও ভূতুড়ে স্থানসমূহ। যদিও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে ভূতুড়ে স্থান বেশ আকর্ষণীয়। তাই রহস্যভেদী এসব মানুষেরা ভৌতিক ও ভয়ংকর স্থানসমূহের খোঁজ করেন।

তেমনই এক ভূতুড়ে ও ভয়ংকর স্থান হলো ভারতের ভানগড় দুর্গ। অনেকেই হয়তো এই দুর্গ সম্পর্কে জেনে থাকবেন। কারণ এটি ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, ভানগড় দুর্গে কেউ রাত কাটালেই তার মৃত্যু নিশ্চিত। এই ভয়ে অনেকেই রাত তো দূরের কথা দিনের বেলাতেও এর আশপাশে যান না ভুলেও।

jagonews24

মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত সুন্দর একটি স্তান হলো রাজস্থান। এই রাজ্যের নাম শুনলেই সবার আগে মনে আসে বিলাসবহুল প্রাসাদ, বিশ্ববিখ্যাত সব দুর্গ ও সেরা প্রাসাদসমূহের কথা।

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন রাজস্থানে। আর সেখানে গেলে ভানগড় দুর্গেও ঢুঁ মারতে ভোলেন না পর্যটকরা।

jagonews24

ভানগড় দুর্গ রাজস্থানের আলওয়ারে অবস্থিত। দুর্গটি ১৭ শতকে মান সিং প্রথম দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। প্রথম মান সিং তার ভাই মাধো সিং প্রথমের জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন। মাধো সিং তখন আকবরের সেনাবাহিনীতে একজন জেনারেল পদে নিযুক্ত ছিলেন।

এই দুর্গ উত্তর-ভারতের অন্যতম ভুতুড়ে স্থান হিসেবেও বিবেচিত। তবে কেন এই দুর্গ এতোটা ভয়ংকর? ভানগড় দুর্গের গল্প শুধু রাজস্থানেই নয়, সারা ভারতেই বিখ্যাত। এমনকি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের আগে কাউকে এই দুর্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

jagonews24

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই দুর্গের সীমানাতে ঢুকলেই অদ্ভুত অনুভূতি ঘটে সবারই। মনে হয় কেউ তাদেরকে অনুসরণ করছেন। আবার অনেকের মতে, দুর্গ থেকে চিৎকার, কান্না ও চুড়ির শব্দও শোনা যায়।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, দুর্গটি নাকি একজন সন্ন্যাসীর দ্বারা অভিশপ্ত। এই দুর্গের রাজার সামনে সন্ন্যাসী কিছু শর্ত রাখেন, কিন্তু রাজা সেই শর্ত পূরণ করতে না পারায় সন্ন্যাসী অভিশাপ দেন।

jagonews24

এই ঘটনার পর থেকেই দুর্গের আশপাশে মানুষ যেতে ভয় পেতেন। যুগ যুগ ধরে এখনো তা বিরাজমান। তবে এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন।

পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় এই দুর্গ দলবলে ঘুরে দেখার অনুমতি পান। তবে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সদস্যরা সন্ধ্যার অনেক আগেই পর্যটকদের দুর্গ থেকে বের করে নেন।

jagonews24

এছাড়া সূর্যোদয়ের আগেও দুর্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কথিত আছে, এই দুর্গে রাত কাটাতে যারাই সাহস করেছেন তারা আর ফিরে আসেনি।

স্থানীয়দের মতে, কথিত আছে যে একবার তিন বন্ধু এই দুর্গে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তারা জানতে চেয়েছিলেন স্থানটি সথ্যিই ভূতুড়ে কি না! তবে তারা রাত কাটিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু পরের দিন বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনায় মারা যান।

সূত্র: দ্য হিন্দু/দ্য কালচার ট্রিপ


আরও খবর



টিসিবির ট্রাকে ১১০ টাকা লিটারে মিলবে সয়াবিন তেল

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৯জন দেখেছেন
Image

আগামী ১৬ মে থেকে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এতে আগের মতো প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

বুধবার (১১ মে) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নিম্নআয়ের পরিবারকে সাশ্রয়ী এবং ভর্তুকি মূল্যে পণ্য দেওয়ার লক্ষ্যে টিসিবি সারাদেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে ২৫০-৩০০টি ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম চালাবে। আগামী ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

টিসিবির ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ও ছোলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে। ভোক্তাপ্রতি সয়াবিন তেল দুই লিটার, চিনি দুই কেজি, ডাল দুই কেজি এবং ছোলা ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা হবে।

অন্যদিকে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গত মার্চ ও এপ্রিলে সারাদেশে তালিকাভুক্ত এক কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডে সুলভ মূল্যের পণ্য বিতরণ করেছিল টিসিবি। আগামী জুনের পর সরকার এ ধরনের আরেকটি কর্মসূচি হাতে নেওয়ার চিন্তা করছে বলেও কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ।


আরও খবর