Logo
শিরোনাম

ভারতের চিনি রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব বাজারে

প্রকাশিত:বুধবার ২৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৮৬জন দেখেছেন
Image

# চাহিদার ৯৬ শতাংশ চিনি আমদানি করতে হয়
# অপরিশোধিত চিনির ৪৯ শতাংশ আসে ভারত থেকে
# ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে সংকটে পড়বে বাংলাদেশ
# রোজায় কমানো সম্পূরক শুল্ক ফের বেড়েছে

ভোজ্যতেল ও গমের পর এবার আলোচনায় অন্যতম ভোগ্যপণ্য চিনি। দেশের মোট চাহিদার তুলনায় চিনির উৎপাদন অতি নগন্য। প্রায় ৯৬ শতাংশ চিনিই আমদানি করে মেটাতে হয় চাহিদা। অপরিশোধিত চিনির সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। চলতি অর্থবছরে মোট আমদানির ৪৯ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত চিনিই এসেছে ভারত থেকে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশটি তাদের রপ্তানিতে বেঁধে দিয়েছে সীমা। আর এ খবরে দেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে এর প্রভাব।

দেশের ভোগ্যপণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বাড়তে শুরু করেছে চিনির দাম। একদিনের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জে প্রতিমণ চিনির দাম বেড়েছে ৫০-৬৫ টাকা। পাশাপাশি রমজানে চিনি আমদানি কমানোর সম্পূরক শুল্ক এখন বাড়িয়ে আগের হারে শুল্কায়ন শুরু করেছে কাস্টমস। ফলে চিনির বাজার নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।

তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারী দেশ। এর পরের অবস্থানে ভারত। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে চিনি আমদানি করে আসছে। তবে চলতি অর্থবছরে শুধু ব্রাজিল ও ভারত থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে। তাই ভারত চিনি রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণা দেওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সংশ্লিষ্টদের।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ মে পর্যন্ত বেসরকারি মিল মালিকরা ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ টন ৪৯০ কেজি অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে। এরমধ্যে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৫ টন ৪৪০ কেজি। ভারত থেকে এসেছে অবশিষ্ট ১৩ লাখ তিন হাজার ৩৩ টন ৫০ কেজি চিনি, যা মোট আমদানির ৪৯ শতাংশের বেশি। এসব চিনির প্রায় সবই আমদানি করেছে দেশের শীর্ষ পাঁচ শিল্প প্রতিষ্ঠান।

চলতি অর্থবছরে (১ জুলাই থেকে ২৪ মে পর্যন্ত) দেশের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ ৯ লাখ এক হাজার ৪০৩ টন ৫৭০ কেজি অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে। এরমধ্যে ভারত থেকে প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করেছে পাঁচ লাখ ৫৯ হাজার ১৬৩ টন ৫৭০ কেজি চিনি। একই সময়ে মেঘনা গ্রুপ চিনি আমদানি করেছে ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৫ টন, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে এনেছে তিন লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত চিনি।

একইভাবে এস আলম গ্রুপ চার লাখ ২৫ হাজার ৩৭ টন ২৮০ কেজি অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে, যার মধ্যে ভারত থেকে এনেছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টন। আবদুল মোনেম কোম্পানি চলতি বছরে তিন লাখ এক হাজার ১৯ টন ৪৮০ কেজি অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে। এরমধ্যে এক লাখ ৩১ হাজার ১৬২ টন ৪৮০ কেজি আমদানি করেছে ভারত থেকে। দেশবন্ধু গ্রুপ এক লাখ ৯২ হাজার ৭৬ টন ১৬০ কেজি অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার ৪০০ টন এসেছে ভারত থেকে। এছাড়া প্রাণ গ্রুপ ভারত থেকে এক হাজার সাত টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ভারতের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটি চলতি মৌসুমে চিনির রপ্তানি এক কোটি টনে সীমাবদ্ধ করতে পারে। কারণ সরকারি ভর্তুকি ছাড়া ভারতীয় কারখানাগুলো চলতি ২০২১-২২ বিপণনবর্ষে এ পর্যন্ত ৮৫ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি করে ফেলেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭১ লাখ টন চিনি বিদেশে পাঠিয়েছে দেশটি। ফলে নিজেদের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। যদিও কবে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। তবে আগামী মাসের শুরু থেকেই দেশটি চিনি রপ্তানিতে লাগাম টানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের ওই সরকারি সূত্র।

এদিকে, গত রমজানের আগে অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়েছিল সরকার। আগে যেখানে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো, সেখানে ওই ঘোষণার পর চিনি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। গত ১৫ মে পর্যন্ত সুবিধাটি কার্যকর ছিল। বর্তমানে আগের মতোই ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নিচ্ছে কাস্টমস।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ১ নম্বর সেকশনের উপ-কমিশনার তারেক হাসান বুধবার বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপরিশোধিত চিনির ওপর চলতি অর্থবছরে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ এসআরও জারি করে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। গত ১৫ মে পর্যন্ত আমদানিকারকরা ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কে চিনি খালাস নিলেও চলতি মে মাসের ১৫ তারিখের পর ওই সুবিধা আর বাড়ানো হয়নি। এখন আগের মতো ৩০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে ভারত চিনি রপ্তানি সীমিত করার খবর প্রচারের পর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পরিশোধিত চিনির দাম বেড়েছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ মে) সিটি গ্রুপের প্রতিমণ চিনি বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৭৮০ টাকা। সেখানে বুধবার (২৫ মে) বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ দুই হাজার ৮৪৫ টাকা। একইভাবে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের চিনি বুধবার বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৮৪০ টাকায়। একদিন আগে এ চিনির দাম ছিল দুই হাজার ৭৭৫ টাকা।

তবে বুধবার খাতুনগঞ্জের বাজারে এস আলম গ্রুপের চিনি বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৭১০ টাকা মণ। এ চিনির সরবরাহ পেতে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে গ্রাহকদের। তবে এস আলম গ্রুপের রেডি চিনি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৭৫০ টাকা মণে। একদিন আগেও এস আলমের রেডি চিনি ছিল দুই হাজার ৭২৫ টাকা মণ।

খাতুনগঞ্জের তেল-চিনির বড় ব্যবসায়ী আর এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ (বুধবার) চিনির বাজার কিছুটা বেড়েছে। প্রতিমণে বেড়েছে ৫০-৬০ টাকার মতো।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমদানি করেই চিনির চাহিদা মেটায়। অপরিশোধিত চিনির বড় অংশ আমদানি করতে হয় ভারত থেকে। যদি ভারত চিনি রপ্তানি বন্ধ করে দেয় এবং বিকল্প সোর্স তৈরি করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশে সংকট তৈরি হবে। তাছাড়া রমজানে চিনির শুল্ক কম ছিল। এখন তা বেড়ে আগের মতো হয়ে গেছে। এ কারণেও চিনির দাম বাড়তে পারে।’

বেসরকারি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম কোম্পানির বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান আজিজুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্রাজিলের পর ভারত থেকে চিনির একটি বড় অংশ আমদানি হয়। তাছাড়া যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া থেকেও অপরিশোধিত চিনি আসে। এখন ভারত চিনি রপ্তানি বন্ধ কিংবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিলে নিশ্চয়ই তার একটি প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়বে।’


আরও খবর



ইন্সপেক্টরের ঘুসের অর্থ গুনতে নাজেহাল কর্মকর্তারা

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩৩জন দেখেছেন
Image

তোশকের নিচে, দেওয়ালের তাকে সবখানে শুধু রুপি আর রুপি! ঘরভর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ১০০ থেকে ২০০০ রুপির নোট। ভারতের বিহার রাজ্যে ড্রাগস ইন্সপেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হতবাক ভিজিল্যান্স কর্মকর্তারা। শুধু নোট গুনতেই তাদের সময় লাগলো কয়েক ঘণ্টা।

তবুও কী পরিমাণ অর্থ ওই কর্মকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে তার নির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেননি তারা। শনিবার (২৫ জুন) এ ঘটনাটি ঘটে বিহারের পাটনায়।

জানা গেছে, হিসাববহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগে পাটনার ড্রাগস ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই ইন্সপেক্টরের বাড়ি থেকে এত নগদ অর্থ পেয়ে হতবাক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নগদ অর্থ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ গয়না উদ্ধার হয়েছে ওই মাদকবিষয়ক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে। যার বেশির ভাগ রুপার। দুটো বিলাসবহুল গাড়িও জব্দ করা হয়েছে তার। গ্রেফতার হয়েছেন ওই ইন্সপেক্টর।

সূত্র: আনন্দবাজার


আরও খবর



কোরআন আলোকে কোরবানি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২৩জন দেখেছেন
Image

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও বিশেষ ইবাদত কোরবানি। হজরত আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে কোরবানি বিদ্যমান ছিল। যুগে যুগে সব নবি-রাসুলের আমলে কোরবানি চালু থাকলেও এর পদ্ধতি এক রকম ছিল না। সুরা মায়েদাযর ২৭-৩১ আয়াতে হজরত আদম আলাইহিস সালামের দুই সন্তানের কোরবানির এক রকম পদ্ধতির কথা ওঠে এসেছে। আবার ইসলামি শরিয়তে কোরবানির যে পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে, তা ‘মিল্লাতে ইবরাহিমি’তে বিদ্যমান ছিল। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তা সুস্পষ্টভাবে জানা যায়। এ কারণেই কোরবানি ‘সুন্নাতে ইবরাহিমি’ নামে সমধিক পরিচিতি।

কোরবানির বিধান সব নবি-রাসুলদের শরিয়তেই ছিল। কোরআনের বর্ণনা থেকেই এ বিধানের প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ لِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لِّیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلٰی مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ؕ فَاِلٰـهُکُمۡ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسۡلِمُوۡا ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ

‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানির এক বিশেষ রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যা আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)

আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম এ কোরবানি। কোরবানি শব্দ থেকেই এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। আরবি ‘করব বা কোরবান’ (قرب বা قربان) শব্দ দুটি মুসলমানদের মাঝে বেশি ব্যবহৃত। ফার্সি ও উর্দু ভাষাতে (قربانى) কোরবানিতে রূপান্তরিত হয়। এর অর্থ হলো- নিকটবর্তী, নৈকট্য বা সান্নিধ্য। তাই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য শরিয়তসম্মত পন্থায় বান্দা যে আমল করে তাকে আভিধানিক দিক থেকে তাকে ‘কোরবান’ বলা যেতে পারে। তবে শরিয়তের পরিভাষায় ‘কোরবান’ শব্দের মর্ম তা-ই যা উপরে উল্লেখিত হয়েছে।

দুনিয়ার প্রথম কোরবানি

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দা যাচাই-বাচাইয়ে ‘কোরবানি’কে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যেমনিভাবে তিনি হজরত আদম আলাইহিস সালামের সময় তার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাঝে কোরবানির বিধান দিয়েছিলেন। যা ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম কোরবানি। যেখানে আল্লাহ তাআলা হাবিলের কোরবানিকে গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اتۡلُ عَلَیۡهِمۡ نَبَاَ ابۡنَیۡ اٰدَمَ بِالۡحَقِّ ۘ اِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنۡ اَحَدِهِمَا وَ لَمۡ یُتَقَبَّلۡ مِنَ الۡاٰخَرِ ؕ قَالَ لَاَقۡتُلَنَّکَ ؕ قَالَ اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰهُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ

‘হে রাসুল! আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হল এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হল না। সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)

لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ

সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হাত বাড়াবো না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৮)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কোরবানি

মানুষের মনের সর্বোচ্চ ত্যাগই হলো কোরবানি। কোরবানির পশুর রক্ত, পশম, হাড় কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে পৌছে না। আল্লাহ তাআলা মানুষের মনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। যার দৃষ্টান্ত হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি ‘কোরবানি’র নির্দেশকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করেছিলেন বলেই তা বাস্তবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর কোরবানি কবুল করেছিলেন। কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ বলেন-

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রার্থনা

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

‘হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলে সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০০)

সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ

فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ

‘সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০১)

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে সহনশীল হিসেবে উল্লেখ করেন। সত্যিই হজরত ইসমাইল ছিলেন সহনশীল। কেননা তিনি তার কথা ও কাজে আল্লাহর দেওয়া বিশেষণে নিজেকে রাঙিয়ে ছিলেন। সে ঘটনাও উঠে এসেছে কোরআনে।

কোরবানির নির্দেশ ও বাস্তবায়নের ঘটনার বর্ণনা

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ

‘অতপর যখন সে পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহিম তাকে বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে (ইসমাইল) বলল, হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে সবরকারী (সহনশীল) পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)

فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ

‘যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইবরাহিম তাকে জবেহ করার জন্যে শায়িত করলো।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৩)

وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ

‘তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম!’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৪)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম স্বপ্নে কোরবানির নির্দেশ পেয়ে যখন বাস্তবায়ন করলেন তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন-

قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ

‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৫)

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক কোরবানির এ নির্দেশ ছিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জন্য তাঁর নৈকট্য অর্জনের এক মহাপরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاء الْمُبِينُ

‘নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৬)

কোরবানির পশু মহান আল্লাহর অপূর্ব দান। হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে তিনি জবেহের জন্য তাৎক্ষনিক এক জন্তু পাঠিয়ে তা জবেহ করার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ

‘আমি তার (ইসমাইল আলাইহিস সালামের) পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৭)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি শান্তি

কোরবানির ঘটনায় উত্তীর্ণ হওয়ায় হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি শান্তির ঘোষণা দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ - سَلَامٌ عَلَى إِبْرَاهِيمَ - كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ

‘আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ইবরাহিমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৮-১১০)

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি

ইসলামি শরিয়তের আলোকে পারিভাষিকভাবে দুই ধরনের কোরবানি রয়েছে। তাহলো-

১. হজ মৌসুমের কোরবানি

হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে পবিত্র নগরী মক্কার মিনা প্রান্তরের নির্ধারিত স্থানে যে কোরবানি আদায় করে থাকেন। এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যথা-‘কিরান’ বা তামাত্তু হজ আদায়কারীর ওয়াজিব কোরবানি। ইফরাদ হজকারীর নফল কোরবানি। হজ-ওমরাহ পালনকারীদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা ‘হাদি’(কোরবানির পশু) দ্বারা কোরবানি। হজ আদায়ে অক্ষম হওয়ার কারণে বা কোনো নিষিদ্ধ কর্মের জরিমানারূপে (কাফফারা) অপরিহার্য কোরবানি, মানতের কোরবানি কিংবা দশ জিলহজের সাধারণ কোরবানি।

এ কোরবানির বিধান মৌলিকভাবে সুরা হজ, সুরা বাকারা, সুরা মায়েদা ও সুরা ফাতহ’তে এসেছে এভাবে-

وَ اَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّ عَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ ﴿ۙ۲۷﴾  لِّیَشۡهَدُوۡا مَنَافِعَ لَهُمۡ وَ یَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡلُوۡمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ۚ فَکُلُوۡا مِنۡهَا وَ اَطۡعِمُوا الۡبَآئِسَ الۡفَقِیۡرَ ﴿۫۲۸﴾

‘আর মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং কৃশকায় উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে। ‘যেন তারা নিজদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিয্ক দিয়েছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খেতে দাও।’  (সুরা হজ : আয়াত ২৭-২৮)

وَ اَتِمُّوا الۡحَجَّ وَ الۡعُمۡرَۃَ لِلّٰهِ ؕ فَاِنۡ اُحۡصِرۡتُمۡ فَمَا اسۡتَیۡسَرَ مِنَ الۡهَدۡیِ ۚ وَ لَا تَحۡلِقُوۡا رُءُوۡسَکُمۡ حَتّٰی یَبۡلُغَ الۡهَدۡیُ مَحِلَّهٗ ؕ فَمَنۡ کَانَ مِنۡکُمۡ مَّرِیۡضًا اَوۡ بِهٖۤ اَذًی مِّنۡ رَّاۡسِهٖ فَفِدۡیَۃٌ مِّنۡ صِیَامٍ اَوۡ صَدَقَۃٍ اَوۡ نُسُکٍ ۚ فَاِذَاۤ اَمِنۡتُمۡ ٝ فَمَنۡ تَمَتَّعَ بِالۡعُمۡرَۃِ اِلَی الۡحَجِّ فَمَا اسۡتَیۡسَرَ مِنَ الۡهَدۡیِ ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ فِی الۡحَجِّ وَ سَبۡعَۃٍ اِذَا رَجَعۡتُمۡ ؕ تِلۡکَ عَشَرَۃٌ کَامِلَۃٌ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ لَّمۡ یَکُنۡ اَهۡلُهٗ حَاضِرِی الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰهَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ﴿۱۹۶﴾

আর হজ ও উমরা আল্লাহর জন্য পূর্ণ কর। এর যদি তোমরা আটকে পড় তবে যে পশু সহজ হবে (তা জবাই কর)। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে তবে রোজা কিংবা সদাকা অথবা পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ফিদইয়া দেবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি ওমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা জবাই করবে। কিন্তু যে তা পাবে না তাকে হজে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাত দিন রোজা পালন করবে। এই হলো পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মাসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ আজাবদানে কঠোর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৯৬)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُحِلُّوۡا شَعَآئِرَ اللّٰهِ وَ لَا الشَّهۡرَ الۡحَرَامَ وَ لَا الۡهَدۡیَ وَ لَا الۡقَلَآئِدَ وَ لَاۤ آٰمِّیۡنَ الۡبَیۡتَ الۡحَرَامَ یَبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّهِمۡ وَ رِضۡوَانًا ؕ وَ اِذَا حَلَلۡتُمۡ فَاصۡطَادُوۡا ؕ وَ لَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ اَنۡ صَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اَنۡ تَعۡتَدُوۡا ۘ وَ تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَ التَّقۡوٰی ۪ وَ لَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ﴿۲﴾

‘হে মুমিনগণ! তোমরা অসম্মান করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহের, হারাম মাসের, হারামে প্রেরিত কোরবানির পশুর, গলায় চি‎হ্ন দেয়া পশুর এবং আপন রবের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অনুসন্ধানে পবিত্র ঘরের অভিমুখীদের। যখন তোমরা হালাল হও, তখন শিকার করো। কোন কওমের শত্রুতা যে, তারা তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা প্রদান করেছে, তোমাদেরকে যেন কখনো প্ররোচিত না করে যে, তোমরা সীমালঙ্ঘন করবে। সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡتُلُوا الصَّیۡدَ وَ اَنۡتُمۡ حُرُمٌ ؕ وَ مَنۡ قَتَلَهٗ مِنۡکُمۡ مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآءٌ مِّثۡلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ یَحۡکُمُ بِهٖ ذَوَا عَدۡلٍ مِّنۡکُمۡ هَدۡیًۢا بٰلِغَ الۡکَعۡبَۃِ اَوۡ کَفَّارَۃٌ طَعَامُ مَسٰکِیۡنَ اَوۡ عَدۡلُ ذٰلِکَ صِیَامًا لِّیَذُوۡقَ وَبَالَ اَمۡرِهٖ ؕ عَفَا اللّٰهُ عَمَّا سَلَفَ ؕ وَ مَنۡ عَادَ فَیَنۡتَقِمُ اللّٰهُ مِنۡهُ ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیۡزٌ ذُو انۡتِقَامٍ ﴿۹۵﴾

‘হে মুমিনগণ! ইহরামে থাকা অবস্থায় তোমরা শিকারকে হত্যা করো না এবং যে তোমাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে তার বিনিময় হল যা হত্যা করেছে, তার অনুরূপ ঘরে লালিত-পালিত পশু, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্যে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোক। কোরবানির জন্তু হিসাবে কাবায় পৌঁছতে হবে। অথবা মিসকীনকে খাবার দানের কাফ্ফারা কিংবা সমসংখ্যক রোজা পালন, যাতে সে নিজ কর্মের শাস্তি আস্বাদন করে। যা গত হয়েছে তা আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। যে পুনরায় করবে আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ নেবেন। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৯৫)

هُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ صَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ وَ الۡهَدۡیَ مَعۡکُوۡفًا اَنۡ یَّبۡلُغَ مَحِلَّهٗ ؕ وَ لَوۡ لَا رِجَالٌ مُّؤۡمِنُوۡنَ وَ نِسَآءٌ مُّؤۡمِنٰتٌ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡهُمۡ اَنۡ تَطَـُٔوۡهُمۡ فَتُصِیۡبَکُمۡ مِّنۡهُمۡ مَّعَرَّۃٌۢ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ لِیُدۡخِلَ اللّٰهُ فِیۡ رَحۡمَتِهٖ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ لَوۡ تَزَیَّلُوۡا لَعَذَّبۡنَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡهُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿۲۵﴾

‘তারাইতো কুফরি করেছিল এবং তোমাদেরকে আল-মাসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল আর কোরবানির পশুগুলোকে কোরবানির স্থানে পৌঁছতে বাধা দিয়েছিল। যদি মুমিন পুরুষরা ও মুমিন নারীরা না থাকতো, যাদের সম্পর্কে তোমরা জান না যে, তোমরা অজ্ঞাতসারে তাদেরকে পদদলিত করবে, ফলে তাদের কারণে তোমরা দোষী হতে কিন্তু আমি তাদের উপর কর্তৃত্ব দিয়েছি যাতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন। যদি তারা পৃথক থাকতো, তাহলে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদেরকে আমি অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক আজাব দিতাম।’ (সুরা ফাতহ : আয়াত ২৫)

২. সাধারণ কোরবানি

যে কোরবানি হজ-ওমরার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং যার স্থানও নির্ধারিত নয়। তবে কোরবানির সময়টি নির্ধারিত। যে তারিখে হজ আদায়কারীগণ মিনা-মক্কায় কোরবানি করে থাকেন সে তারিখে অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখে এ কোরবানি দিতে হবে।

পৃথিবীর সব মুসলিম পরিবারের জন্য; বরং প্রত্যেক আকেল-বালেগ মুসলমানের জন্য এই কোরবানির বিধান এসেছে। তবে কারো জন্য তা ওয়াজিব, কারো জন্য নফল। কোরআনুল কারিমের একাধিক সুরা ও নবিজীর হাদিসে তা ওঠে এসেছে। তাহলো-

قُلْ اِنَّنِیْ هَدٰىنِیْ رَبِّیْۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۚ۬ دِیْنًا قِیَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ۚ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ۝۱۶۱ قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ۝۱۶۲ لَا شَرِیْكَ لَهٗ ۚ وَ بِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِیْنَ۝۱۶۳

‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক আমাকে পরিচালিত করেছেন সরল পথের দিকে-এক বিশুদ্ধ দ্বীনের দিকে, অর্থাৎ একনিষ্ঠ ইবরাহিমের মিল্লাতের (তরিকা) দিকে। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আপনি বলুন, নিঃসন্দেহে আমার নামাজ, আমার নুসুক (কোরবানি), আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবকিছুই রাববুল আলামীন আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই।  আমাকে এই আদেশই করা হয়েছে, সুতরাং আমি হলাম প্রথম আত্মসমর্পণ কারী।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬১-১৬৩)

এ আয়াতে ‘নুসুক’ শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এটি ‘নাসিকাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ, আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশু। আর কোরবানির স্থানকে আরবি ভাষায় এবং শরিয়তের পরিভাষায় ‘মানসাক’ বলা হয়। দুটো শব্দের মূল ধাতু অভিন্ন।

উপরোক্ত আয়াতের অর্থও পরিষ্কার। আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে যে বিশুদ্ধ তাওহিদ ও সরল পথের সন্ধান দিয়েছিলেন; তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিও নাজিল করেছেন এবং আদেশ করেছেন যে, বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সব আল্লাহ তাআলার জন্য।

হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন দুটি দুম্বা জবাই করেছেন। জবাইয়ের সময় সেগুলোকে কিবলামুখী করে বলেছেন-

اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ  اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ  لَا شَرِیْكَ لَهٗ ۚ وَ بِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِیْنَ ، بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبرُ، اَللّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَّأُمَّتِهِ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে খুজাইমা)

সুরা কাউসারের দ্বিতীয় আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-

اِنَّاۤ اَعْطَیْنٰكَ الْكَوْثَرَؕ۝۱ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْؕ۝۲ اِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْاَبْتَرُ۠۝۳

এখানে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এবং তাঁর মাধ্যমে গোটা উম্মতকে নামাজ ও ও নাহর তথা কোরবানির আদেশ দেওয়া হয়েছে। ‘নাহর’ শব্দের মূল অর্থ উট জবাই করা। তবে সাধারণ ব্যবহারে যেকোনো পশু জবাই করাকেই ‘নাহর’বলে। আয়াতে এমন জবাইয়ের উদ্দেশ্য; যা  ইবাদত হিসেবে করা হয়। সেটা হচ্ছে হজ ও ওমরার কোরবানি এবং ঈদুল আজহার সাধারণ কোরবানি।

এ কোরবানির সময় তিন দিন- জিলহজের দশ, এগারো ও বারো তারিখ। তবে উত্তম হল দশ তারিখ। সাধারণত এ তারিখেই অধিকাংশ কোরবানি হয়ে থাকে। এজন্য দশ জিলহজের ইসলামি নাম ‘ইয়াওমুন নাহর’। (বুখারি)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল আজহার দিন নামাজ পরবর্তী খুতবায় বলেছেন, এই দিনের প্রথম কাজ হলো (ঈদের) নামাজ আদায় করা এরপর নহর (কোরবানি) করা। যে নামাজ আদায়ের পর নুসুক (কোরবানি) করলো তার নুসুক পূর্ণ হলো এবং সে মুসলিমদের পথ অনুসরণ করলো। আর যে নামাজের আগে জবাই করলো সেটা তার গোশতের প্রয়োজন পূরণ করবে, কিন্তু ‘নুসুক’ হিসেবে গণ্য হবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, কোরআনের আলোকে কোরবানির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কোরআনের বিধানের আলোকে কোরবানি করা। কোরবানির মাধ্যমে নিজেদেরকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে উপস্থাপন করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের আলোকে উত্তমভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



ত্রাণ নিয়ে দ্বন্দ্ব: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার জিডি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

গুলি করে খুন ও গুম করাসহ ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস।

সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি এই জিডি করেন। জিডিতে কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশাসকে (৬৮) অভিযুক্ত করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে তারা দু’জন একই গোষ্ঠীর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘আমি আমার আসনের সংসদ সদস্যের অধীনে রাজনীতি করি। বন্যা দুর্গতদের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের নামে ত্রাণ বরাদ্দ আসে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস সেই ত্রাণ গ্রহণ করতে চাইলে আমি বাধা দিই। এ কারণে তিনি (চন্দন বিশ্বাস) গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যলয়ের সামনের রাস্তায় আমাকে ‘গুলি করে খুনের পর গুম করবেন’ বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় মারমুখী হলে উপস্থিত লোকজন আমাকে রক্ষা করেন।

এর আগেও দলীয় অফিসে তিনি (চন্দন বিশ্বাস) একাধিকবার মানুষকে গুলি করার হুমকি ধামকি দিয়েছেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন বলে জানান যুবলীগের এই নেতা।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস জানান, ‘তারে (পলাশ কান্তি বিশ্বাস) আমি কেন গুলি করতে যাব। বাটপারি করতে-করতে আর জায়গা পায় না। মিথ্যা ও বানোয়াট। সে কী মানুষটা, তারে গুলি করে আমার কী লাভ হবে। চড় থাপ্পড় খাইতে পারে।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আহাদ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জিডি গ্রহণ করে তা আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলে তদন্ত করা হবে।


আরও খবর



আমের চেয়ে এর খোসার পুষ্টিগুণই কি বেশি?

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

ফলের রাজা আম। এর স্বাদে মুগ্ধ ছোট-বড় সবাই। সবাই সাধারণত আমের খোসা ফেরেল দিয়ে ভেতরের রসালো অংশ খান। তবে অনেকেরই হয়তো অজানা আমের খোসাতেও আছে নানা পুষ্টিগুণ।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, আমের চেয়ে এর খোসায় বেশি পুষ্টি থাকে। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড স্কুল অব ফার্মেসির এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমের খোসা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কারণ তা ফ্যাট কোষের গঠন কমায়। কিছু গবেষণা ক্যানসার কোষ সারাতে এমনকি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

আমের খোসা যেভাবে শরীরের উপকার করে

>> আমের খোসায় উদ্ভিদ যৌগ, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পূর্ণ। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও বার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আমের চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, কে, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, কোলিন ও পটাশিয়াম আছে।

>> আমের খোসায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- ম্যাঙ্গিফেরিন, নোরাথাইরিওল ও রেসভেরাট্রল নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে।

>> পুরুষদের উপর পরিচালিত হার্ভার্ড গবেষণা অনুসারে, যারা নিয়মিত আমের খোসা খেয়েছেন তাদের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কম। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় আমের খোসা পাচনতন্ত্রের জন্যও ভালো।

>> ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে আমের খোসা। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত আমের খোসা খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা।

>> ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো আমের খোসা। শুকনো আমের খোসার গুঁড়া ত্বকের যত্নে দারুন কার্যকরী। এই গুঁড়ার সঙ্গে দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করলে ত্বকের বিভিন্ন দাগছোপসহ সানট্যানও দূর হবে।

>> এমনকি আমের খোসার গুঁড়া রোদের প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এজন্য আমের খোসার গুঁড়ার সঙ্গে ত্বকে কয়েক ফোঁটা লোশন মিশিয়ে তা মুখ, বাহু, পাসহ শরীরের খোলা অংশে ব্যবহার করুন। আমের খোসার ভিটামিন ই ও সি অ্যান্টি-ট্যানিং হিসেবে কাজ করে।

আমের খোসা খাবেন কীভাবে?

আম ভালো করে ধুয়ে খোসাসহ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। গিলে ফেলতে না পারলে আমের খোসা চিবিয়ে এর রস পান করুন। এছাড়া খোসাসহ আম ব্লেন্ড করেও পান করতে পারেন। চাইলে আমের খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে পান করতে পারেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আরও খবর



২৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া চাঁদপুর অরুন নন্দী সুইমিং পুলের

প্রকাশিত:শনিবার ১১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

খাল-বিল, নদী-নালার দেশে ভালোমানের সাঁতারু বের করে আনার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে সুইমিংপুল। যে সব সাঁতারুরা শুধুমাত্র এসএ গেমস নয়, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এশিয়ান গেমস, এমনকি অলিম্পিক গেমসেও।

শুধু সাঁতারু বের করে আনাই নয়, বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের শরীরচর্চার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেও খুব প্রয়োজন সাঁতার। সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখাটাও জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয়।

সবকিছুকে সামনে রেখে সারা দেশে অন্তত ২৩টি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর অধিকাংশ পুলই পড়ে রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। কোনো কোনো পুলে তো একদিনের জন্যও কেউ নামতে পারেনি। কোথাও পানি নেই, কোথাও পাম্প নষ্ট, কোথাও নোংরা পানি- নানা অব্যবস্থায় পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সুইমিংপুলগুলো।

অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত এসব সুইমিংপুল নিয়েই জাগোনিউজের ধারাবাহিক আয়োজন। পঞ্চম পর্বে আজ থাকছে চাঁদপুরের অরুন নন্দী সুইমিংপুলের চালচিত্র...

* ২০০৭ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উদ্বোধন জয় ২০০৮ সালে।
* আন্তর্জাতিক সাঁতারু এবং চাঁদপুরের কৃতি সন্তান অরুন নন্দীর নামে নামকরণ করা হয় সুইমিংপুলটির।
* ২০১৮ মালের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হওয়ার পর গত চারবছর বন্ধ হয়ে রয়েছে সুইমিংপুলটি।
* দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে সুইমিংপুলের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম।
* লের নিজস্ব ভবনটিও ব্যবহার হচ্ছে পাশ্ববর্তী নির্মাণাধীন ভবনের স্টোর রুম হিসেবে।
* চাঁদপুর পৌরসভার কাছে ২৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হওয়ায় পানির মোটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নানান জটিলতায় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুরের একমাত্র সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অরুন নন্দী সুইমিংপুল। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাঁতারু এবং চাঁদপুরের কৃতি সন্তান অরুন নন্দীর নামে নামকরণ করা হয়েছে।

Chandpur Swimmingpool

মূলতঃ এই সুইমিংপুলের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় মানের সাঁতারু তৈরি ও খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠনের উদ্দেশ্যেই পুলটি নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে সুইমিংপুলের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম।

বর্তমানে সুইমিংপুলের নিজস্ব ভবনটিও ব্যবহার হচ্ছে পাশ্ববর্তী নির্মাণাধীন ভবনের স্টোর রুম হিসেবে। শুধু তাই নয়, যার নামে পুলটির নামকরণ করা হয়েছে, পুরো সুইমিংপুলের ভবনের কোথাও তার কোন নেমপ্লেট পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হতাশ ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষণার্থী ও চাঁদপুরের সাধারণ মানুষ। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সুইমিংপুলটি চালু করার দাবি তাদের।

জানা যায়, চাঁদপুরে মানসম্পন্ন সাতারু সৃষ্টি এবং শিশু-কিশোরদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে ২০০৭ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যা ২০০৮ সালে কাজ শেষ হলে ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বোধন করা হয়।

প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্যালন পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই সুইমিংপুলটি। শুরু থেকে এখানে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকলেও ২০১৮ মালের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। যা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সুইমিংপুলের পানির মেশিনটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এবং নলকূপটি পুরোপুরি নষ্ট। নতুন নলকূপ স্থাপন ছাড়া এখন আর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়। এছাড়া পুলের ভবনও জরাজীর্ণ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

Chandpur Swimmingpool

পুলে পানি না থাকার কারণে শুকিয়ে সেখানকার টাইলসগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার মেশিন বসানো হয়েছিল, যা বর্তমানে বিকল। এছাড়া চাঁদপুর পৌরসভার কাছে ২৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে। যে কারণে পানির মেশিনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা সজিব তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসলে প্রতিটি মানুষের সাঁতার শেখা অত্যান্ত জরুরি। আমি বেশ কয়েকদিন এই সুইমিংপুলে এসেছিলাম ছেলেকে সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করাতে। কিন্তু এসে দেখি সুইমিংপুলের কার্যক্রম বন্ধ। মূলতঃ আমাদের শহরের এখন যে অবস্থা, এখানে বাচ্চাদের সাঁতার শিখানোর জন্য এখন আর তেমন কোন পুকুর নেই। বেশির ভাগ পুকুরই ভরাট হয়ে গেছে। আর খালের যে অবস্থা, তাতে এখন আর পানি থাকে না। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সাঁতার শেখানোর জন্য এখানে আসতে হয়। সুইমিংপুলটি চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি আমি।’

শহরের নাজির পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাকিব হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাসার আসেপাশে সাঁতার শেখার মতো ওইরকম ভালো জায়গা নেই। তাছাড়া শহরে এমন অনেকেই আছে, যারা সাঁতার জানে না। কিন্তু এত কাছে সুইমিংপুল থাকলেও আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারছি না। পাশাপাশি এভাবে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে সুইমিংপুলের সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে; কিন্তু এমন ভালো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এর সুফল পাচ্ছি না। তাই আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব সুইমিংপুলটি সংস্কার করে যেন ব্যবহার উপযোগী করা হয়।’

এ সময় অরুন নন্দী সুইমিংপুলে প্রশিক্ষণ নেয়া এক প্রশিক্ষণার্থী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘৫ বছর আগে এখানে সাঁতার শিখেছি। এখন আমি পুরোপুরি সাঁতার পারি। এখানে সাঁতার শিখে আমি নদীতেও সাঁতার কেটেছি। এরপর থেকেই আমার কাছে নদীতে বা পুকুরে নামতে ভয় লাগে না।’

শাহজাহান মিয়া নামে আরো একজন বলেন, ‘মূলতঃ প্রতিযোগিতা ছাড়া কখনোই প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনা সম্ভব নয়। আমাদের চাঁদপুরে এত সুন্দর একটি সুইমিংপুল থাকলেও তার সদ্ব্যবহার করতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।’

Chandpur Swimmingpool

এ বিষয়ে আলাপকালে অরুন নন্দী সুইমিংপুলের প্রশিক্ষক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সানাউল্লাহ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুইমিংপুলটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বিভিন্ন একাডেমির মাধ্যমে সাঁতার প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হতো। তবে ২০১৮ সালে আমাদের এখানের বিদ্যুত বিল বকেয়ার একটি বিষয় এবং নলকূপটি নষ্ট হয়ে যায়। মূলতঃ এরপর থেকেই এখানকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যদি আমাকে একটি গভীর নলকূপ, মটর ও বিদ্যুত বিলের সমস্যা সমাধান করে দেয়া হয়। তাহলে আমি আবার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে পারবো।’

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু জাগো নিউজকে বলেন, ‘অরুন নন্দী সুইমিংপুলটি চালু করার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সুইমিংপুলের নলকূপটি অত্যন্ত পুরোনো। তাই আমাদেরকে নতুন একটি নলকূপ স্থাপন করতে হবে। তাছাড়া বিদ্যুত বিল নিয়ে পৌরসভার সাথে একটি বিষয় রয়েছে।’

‘ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আমাদের একটি সভা হয়েছে এবং সভায় কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি নিজে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ স্যারের নির্দেশে পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের সাথে দুই তিনবার কথা বলেছি। অচিরেই মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে বসে যদি একটি সমাধান কর দেন, তাহলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই আমরা সুইমিংপুলটি পুনরায় চালু করতে পারবো ইন্সাল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে সুইমিংপুলটি অত্যাধুনিক করণীর বিষয়ে একটি প্রকল্প আসছে। যা এখন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। সেখানে এই সুইমিংপুলের চারদিকে একটি গ্যালারি হবে। ভবনের যে রুমগুলো আছে তার আধুনিকায়ন হবে। নতুনভাবে পুলটির কার্যক্রম চালু হবে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে।’


আরও খবর