Logo
শিরোনাম

যুব সমাজে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান

প্রকাশিত:বুধবার ৩০ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৪৬জন দেখেছেন
Image

দেশের বেকারত্ব দূর করতে যুব সমাজে আত্মর্মযাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভলান্টারি সার্ভিস ওভারসিজ (ভিএসও)।

বুধবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলে আয়োজিত একটি সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে যুবকদের কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু করে ভিএসও। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়ভাবে সম্ভবনাময় পেশার জন্য দক্ষ জনসম্পদ ও মর্যাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় যুবদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা। এছাড়া গ্রাম থেকে শহরমুখী প্রবণতা কমানো। ফলে জেলা ও বিভাগীয় শহরে প্রকল্পের আওতাধিন ৯৮ শতাংশ যুবকদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০১৬ সালে শুরু হওয়া যুব কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় যুব বান্ধব ও স্থানীয়ভাবে পেশা নিশ্চিত করতে একটি শ্রমবাজার বিষয়ক গবেষণা করা হয়। গবেষণাটি ২০১৮ সালে একজন ডাচ গবেষক রংপুর বিভাগে পরিচালনা করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ৮৬টি যুব সংগঠন তৈরি করা হয়েছে। যাতে ৪৪ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছে।

বক্তারা বলেন, ৭০টি যুব সংগঠন বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতায় নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮-৩৫ বছরের ৩ হাজার ১৭৪ জন স্থানীয় যুবক যুব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যারা পেশার মাধ্যমে নিজ বাড়ির কাছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

jagonews24

ভিএসও’র অ্যাক্টিং কান্ট্রি ডাইরেক্টর মো. খাবিরুল হক কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম।

তিনি বলেন, যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করার জন্য আত্মমর্যাদা সম্পন্ন কর্মসংস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকার কাজ করছে। আমাদের সবার উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে কোইকার কান্ট্রি ডাইরেক্টর ডো-ইয়ংআ, আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রোগাম অফিসার সাইফ মো. মইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভিএসও’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান। সভায় যুব কর্মসংস্থান প্রকল্পের মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন ইনডেপথের গবেষক এস এম ইমতিয়াজ ভূঁইয়া।


আরও খবর



এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৬

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৪৮টি। এর মধ্যে দেশের প্রধান সড়কগুলোতে ২৭ বাস দুর্ঘটনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৬ জন নিহত ও ৩৫৭ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত কয়েক মাসের তুলনায় এপ্রিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনাসহ হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও হয়রানি অনেকাংশে বেড়েছে, বেড়েছে কারা হেফাজতে মৃত্যু, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অপরদিকে গণপিটুনির মতো আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে।

একাধিক জাতীয় পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধর্ষণসহ নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন চিন্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করার মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে হতাহতের মতো ঘটনাও বন্ধ হয়নি। এছাড়া নানা অজুহাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছেই।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি ঘটনা স্থানীয় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্সদের মাধ্যমে তা ভেরিফাই করা হয়েছে। চলতি মাসের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদক তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ৩০ দিনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাতটি ঘটনা ঘটেছে। দু’টিতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নৌ-পুলিশের গুলিতে একজন ও র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়। এছাড়া একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় তিনজন নাগরিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কারা হেফাজতে একজন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে ৩৬৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৭১টি। এর মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৪টি, ধর্ষণ ও হত্যা দু’টি। এর মধ্যে ৯ জন প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরী ধষর্ণের শিকার হয়েছে। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সাত মামলায় দুইজন আইনজীবী, একজন সাংবাদিক, একজন বিরোধী দলীয় নেতার ভাই ও একজন প্রবাসীসহ মোট পাঁচজন গ্রেফতার করা হয়েছেন।

এছাড়া এ মাসে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ১২ জন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন, দুইজন সাংবাদিককে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, ৬ সাংবাদিককে হয়রানি করা হয়েছে, একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আক্রমণ ও সীতাকুণ্ডে এক সাংবাদিকের বাড়িঘর ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের গালাগালিসহ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ মাসে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ১১টি ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এ মাসে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল গণপিটুনিতে হতাহতের ঘটনা। এ মাসে গনপিটুণিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।


আরও খবর



দেশের রাজনীতিতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৪জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, কিছু কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যম ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট কতিপয় কথিত গবেষণা সংস্থা তাদের মনগড়া ও বাস্তবতা বিবর্জিত আষাঢ়ে গল্প পরিবেশন করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

শুক্রবার (১৩ মে) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সই করা বিবৃতি গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শ্রীলঙ্কায় চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থায় সৃষ্ট সেখানকার নাজুক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি চিহ্নিত মহল বাংলাদেশে উস্কানিমূলক মিথ্যাচার ও গুজব ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি জনগণের মাঝে আতঙ্ক ও ভীতি সঞ্চারে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি বিএনপি ও তাদের দোসররা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এক অপরাজনীতির ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সব প্রতিবন্ধকতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যতো দিন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হবে, তত দিন এদেশের জনগণের জীবন সুরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান হবে না।

আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব প্রতিদিন নির্লজ্জভাবে ক্রমাগত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। গণমাধ্যম তাদের দেওয়া দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য-বিবৃতি ও মিথ্যা মন্তব্যের কোনো রকম সত্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করে থাকে।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি রাজনীতিতে তাদের দ্বিচারিতার সাক্ষ্য দেয়। একসময় তাদের নেত্রীই বলেছিলেন, শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। রাজনীতিতে ভুল ট্রেনে ওঠা বিএনপি নেতারা এখন পরিত্যক্ত প্লাটফর্মের অন্ধকার বগীর দিশেহারা যাত্রীর মতো অসংলগ্ন প্রলাপ বকছেন। সাংবিধানিক বিধান মতে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতার রদবদল হয়। আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিএনপি নির্বাচন ও জনগণকে ভয় পায়। এজন্য তারা যে কৌশলই গ্রহণ করুক না কেন তাদের মূল লক্ষ্য থাকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি কখনোই গণ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।

হুঁশিয়ারি তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


আরও খবর



বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকটে সিলেটের ১৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৮জন দেখেছেন
Image

সিলেটের ১০টি উপজেলা ও মহানগর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এসব উপজেলার গ্রাম ও সিটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে ভুগছেন।

নগর ঘুরে দেখা গেছে, নগরের এক লাখের বেশি বাসা-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। নগরের ছড়ারপার, কলাপাড়া, ডহর, শামিমাবাদ আবাসিক এলাকা, গোটাটিকর, সাদাটিক, শাপরান, সিলেট সার্কিট হাউজ-তালতলা ভিআইপি রোডের তালতলা, কালিঘাট, বেতবাজার, তেরতন, শাহজালাল উপশরসহ প্রায় ৬৫টি এলাকায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় তিন লাখ নগরবাসী।

গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ ও সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাসহ পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

জকিগঞ্জ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার সাতটি স্থানে সুরমা নদীর ডাইক ভেঙে শনিবার (১৪ মে) থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কুশিয়ারার বিভিন্ন স্থানে ডাইকের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুরমা নদীর ডাইক ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

নিকপুর কাজলশার ও বারহাল ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। বুধবার শাহগলী বাজারে দুই থেকে তিন ফুট পানি দেখা গেছে। বালাই ও মইলাট হাওরের অন্তত সাতশ একর পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

কয়েকদিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বন্যায় উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে দরবস্ত, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম।

মঙ্গলবার (১৭ মে) দরবস্ত, ফতেপুর, চিকনাগুল ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ দেখা গেছে। বন্যাকবলিত গ্রামের মানুষ গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অঞ্চলের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকটে সিলেটের ১৩ লাখ মানুষ

বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন গ্রাম পানির নিচে চলে যাচ্ছে। সুরমাসহ প্রধান নদী-নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদ-নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন উপজেলায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও, মাহতাবপুর, মাধবপুর, শাহপুর, সাহেবনগর, শাখারীকোনা, মাখরগাঁও, আকিলপুর, রসুলপুর, তিলকপুর, বাওনপুর, মির্জারগাও, হাজারীগাঁও, খাজাঞ্চীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক এলাকার রাস্তায় হাঁটুপানি।

কোম্পানীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আউশ ধানের বীজতলা ও রাস্তাঘাট। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ও নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। বন্যাদুর্গতরা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা আরও বাড়ার শঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী।

সিলেট মহানগরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন জালাল আহমেদ। বুধবার দুপুরে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল রাতে শুকনা খাবার খেয়ে রয়েছি। এরপর এখন পর্যন্ত কোনো খাবার পাইনি।’

গোয়াইনঘাট উপজেলার দুর্গেশ সরকার জানান, বন্যার পানিতে তার বাড়ির টিউবওয়েল নিমজ্জিত হয়েছে। পানিতে ঘরের আসবাবপত্রের ব্যাপক হয়েছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঁচু জায়গায় অবস্থান করছেন।

বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকটে সিলেটের ১৩ লাখ মানুষ

গোলাপগঞ্জের বাঘা ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে এ দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন জনপদ। পানিবন্দি রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দুই উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি খুবই নাজুক।

মঙ্গলবার কানাইঘাট উপজেলায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। কানাইঘাট উপজেলা ও পৌরসভায় এরই মধ্যে ৩৯ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইয়িদ চৌধুরী বলেন, আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বৃষ্টিও কমছে না। তাই পাহাড়ি ঢল নামছে এবং আমাদের দেশেও পানি বাড়ছে।


আরও খবর



বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার অবদান

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

মো.হাবিবুর রহমান
বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সুখ্যাতি রয়েছে। এদেশে পদার্থবিজ্ঞান ও পরমাণুবিজ্ঞানের গবেষণায় তিনি আলোর দুত্যি ছড়িয়েছেন। শুধু বিজ্ঞানেই নয়, বহুগুণে গুণান্বিত ছিলেন তিনি।

ছাত্র জীবনে রাজনীতিতে সক্রিয়তা, একাডেমিক ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্যের পরিচয়, দেশে বিদেশে গবেষণা সেমিনারে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষণায় অবদান, কর্মক্ষেত্রে একজন সুদক্ষ প্রশাসক ও ভালো গবেষক, পরামাণুবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন এবং বই ও জার্নাল প্রকাশনা ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

ছাত্র জীবনে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে পিএইচ.ডি ডিগ্রি পর্যন্ত সব ডিগ্রি কৃতিত্বের সঙ্গে অর্জন করেছেন। তিনি বৃহত্তর রংপুর থেকে প্রাথমিক ও আইএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬২ সালে তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৪ সেশনে ইম্পারিয়েল কলেজ লন্ডন থেকে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ডারহাম ইউনিভার্সিটি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচ.ডি অর্জন করেন।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার পিএইচ.ডি গবেষণার বিষয় ছিল ‘দ্য বুটস্ট্রেপ হাইপোথেসিস ইন থিউরিটিক্যাল পার্টিকল ফিসিক্স’। তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিখ্যাত প্রফেসর অধ্যাপক ই. জে স্কয়ার। তার শিক্ষা জীবনের কৃতিত্ব ও পাণ্ডিত্য পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে।

শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার পাণ্ডিত্যের প্রখরতা প্রকাশি করেননি। তিনি ১৯৬০ সাল থেকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি থাকাবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্যে এসেছিলেন। ১৯৬১ সালে ছাত্রলীগে যোগদান করেন তিনি।

১৯৬২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও মিছিল পরিচালনা করার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে তিনি একনিষ্ঠ ছিলেন না, তিনি রাজনীতিতে একজন একনিষ্ঠ কর্মীর পরিচয় দিয়েছেন।

বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার উন্নতি ও বিকাশের ক্ষেত্রে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার অবদান অনন্য। নিজ দেশ এবং দেশের বাইরে তার গবেষণার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে অল্প সময়েই। তিনি বাংলাদেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। তার চিন্তা ও গবেষণা বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় ব্যাপক অবদান রেখেছিল।

১৯৬৯ সালে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে ইতালির ট্রি-স্টেটের ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিউরিটিক্যাল ফিসিক্স’ এ একজন অ্যাসোসিয়েটশীপ হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। ফলশ্রুতিতে, তিনি যথাক্রমে ১৯৬৯, ১৯৭৩, এবং ১৯৮৩ সালে প্রতি ৬ মাস অন্তর সক্রিয়ভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-এর ডারেসবোরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে একজন পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার উন্নতি সাধন করেন।

পাকিস্তান শাসনামলে ছাত্র রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলাদেশের অভূদ্যয়ের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় ইত্যাদি ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিভিন্ন লেখায় তুলে ধরেছেন। সামাজিক বিজ্ঞান, রাজনীতি, বিজ্ঞান, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে তার আটটি গবেষণা প্রবন্ধ ও প্রকাশনা রয়েছে। তার এ সকল প্রকাশনা এবং লেখা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিখ্যাত গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশ সরকার ও রাজনীতি নিয়ে তার দুইটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই দুইটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ (ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ঢাকা-১০০০, এপ্রিল, ২০০০) এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র। একাডেমিক ক্ষেত্রে তার দুইটি বই গবেষক, লেখক, শিক্ষার্থীদের জন্যে মূল প্রবন্ধ হিসেবে স্বীকৃত।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফান্ডামেন্টালস অব ইলেকট্রোম্যাগনেট্সিক (১৯৮২), ফান্ডামেন্টালস অব থার্মোডাইনামিক্স (১৯৮৮) পদার্থবিজ্ঞান, এ্যাপ্লাইড ফিসিক্স, রসায়ন এবং প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের জন্য তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বই হিসেবে স্বীকৃত।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল সুধা মিয়া। ড. ওয়াজেদ মিয়ার পিতা আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতা ময়েজুন্নেসা। তার পরিবারের সদস্যগণ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন।

১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সামাজিক ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা। অন্যদিকে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ এবং দ্য সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন এর ভাইস-চেয়ারপার্সন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের পাশে ছিলেন এবং সুষ্ঠুভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। তিনি ২০০৯ সালে আজকের এই দিনে ঢাকায় ইহলোক ত্যাগ করেন। তাকে নিজ গ্রামে ফতেহপুরে সমাহিত করা হয়।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া সব ক্ষেত্রেই অবসান রেখেছন। তার অবদান রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পাবনা জেলার পদ্মা নদীর সন্নিকটে ঈশ্বরদীর পাশে রূপপুরে এ প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে পুরাদমে শুরু হয়েছে। গত দশক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও পরমাণুশক্তি অর্জনের জন্যে ক্রমান্বয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

এছাড়াও সরকার পাবনাতে রূপপুর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে ত্বরান্বিত করার জন্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। মূলত এ প্রকল্পটি ১৯৬১ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্যে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এ প্রকল্পের গ্রাউন্ডওয়ার্ক করেছিলেন। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ পরমাণুশক্তিতে উদীয়মান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার স্বপ্ন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হলে তার দর্শন ও গ্রন্থের অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। তার সমসমায়িক ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের নাম তার নামে নামকরণ করা প্রয়োজন। তার নামে এরই মধ্যে দেশের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইন্সটিটিউট নামকরণ করা হয়েছে।

তার মৃত্যুর পর এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যিালয় ২০০৯ সালের ৩০ মে ‘ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স রিসার্চ সেন্টার’ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববদ্যিালয়, রংপুর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি গবেষকেরা সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়াবলী নিয়ে গবেষণাকার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পদার্থবিজ্ঞান ও পরমাণুবিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণায় ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। পরমাণুবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণায় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়াও তার নামে যে সব গবেষণা ও ইন্সটিটিউট রয়েছে, সে সব প্রতিষ্ঠানে ফেলোশীপের ফান্ড বৃদ্ধি ও মেধাবৃত্তি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এতে দেশের সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার উন্নয়ন সাধিত হবে।

৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার উপর জোর দিতে হবে। এছাড়াও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় গতিশীলতা আনয়নের জন্যে পর্যাপ্ত ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। দেশে কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাব না থাকায় গবেষকরা যে কোনো বিষয়ে গবেষণা করতে পারছেন না।

গবেষণা প্রস্তাবনার সময় গবেষকের চিন্তা থাকে, তিনি যে বিষয়ে গবেষণা করতে মনস্থ করছেন তা সম্পন্ন করতে পারবেন কি না! সুতরাং প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। তাহলেই ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং পরমাণুবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় নিত্য নতুন বিষয় উদ্ভাবন হবে।

লেখক: কলামিস্ট, কবি


আরও খবর



ডিজিটাল যুগে কাগজ বলে কিছু থাকবে না: মন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল যুগে প্রচলিত ব্যবসা-বাণিজ্য অনিবার্য কারণেই ডিজিটাল বাণিজ্যে রূপান্তরিত হবে। ডিজিটাল যুগ হবে ক্যাশল্যাস সোস্যাইটির যুগ। এরই ধারাবাহিকতায় কাগজের সভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। সামনের দিনে প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত কারণে কাগজ বলে কিছু থাকবে না।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ই-ক্যাব আয়োজিত বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে এক ঈদ আড্ডায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথায বলেন।

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্সকে বাণিজ্যখাত হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতাই বলে যে কোনো খাত গড়ে তুলতে বাণিজ্যিক সংগঠন অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। দেশে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিকাশের বৈপ্লবিক পরিবর্তনে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর উদ্যোগ তুলে ধরেন বিসিএস-এর সাবেক এ সভাপতি।

তিনি বলেন, মাত্র ৩৬ সদস্যের বিসিএস-এর মাধ্যমে ১৯৯৮-৯৯ সালে কম্পিউটারের ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের মাধ্যমে কম্পিউটার জনগণের কাছে সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা বিসিএস’র সমন্বিত উদ্যোগের ফসল। বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ই-ক্যাবকেও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ই-ক্যাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও উপদেষ্টা মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাণিজ্যতো দূরের কথা ই-কমার্স বোঝার লোকও ছিল না একসময়। কিন্তু করোনাকালে আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন গরুর হাট পর্যন্ত অনলাইনে হতে পারে।

ই-ক্যাবকে দেশ ডিজিটাল কমার্সে রূপান্তরের অগ্রণী সৈনিক হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকরা যেন কোনোভাবেই প্রতারিত না হন, সেদিকে ই-ক্যাবকে আরও সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি বলেন, সুযোগ যেখানে থাকবে অপরাধীরা সেখানে অপরাধ করবে- সেটা প্রতিটি ক্ষেত্রেই। এটা বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কাজেই ডিজিটাল অপরাধ ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। যে যত বেশি ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হবে সে তত বেশি ব্যবসায় সফল হবে।

মন্ত্রী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণে ই-ক্যাবকে কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে ই-ক্যাবকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন কোনো বাণিজ্য সংগঠন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক একটি কেন্দ্রীয় কমিটি করে সেই খাতকে দেশব্যাপী ছড়াতে পারবে না। বিসিএস প্রমাণ করেছে শাখা কমিটি কতো প্রয়োজনীয়। এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসাতো কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক নয়- তাই দেশব্যাপী ট্রেড বডির সংগঠন থাকতে হবে।

তিনি ই-ক্যাবকে বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যন্ত সাংগঠনিক কাটামো গড়ে তোলার ও তাদের সক্রিয় করার আহ্বান জানান।

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া নানা কর্মসূচি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্সের বিকাশে ডাকঘরের বিশাল নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে এরইমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডাক বিভাগ হবে ডিজিটাল কমার্স প্রসারের ডিজিটাল মহাসড়ক।

ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব তমালের সঞ্চালনায় ই-ক্যাবের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন। তারা ই-ক্যাব ও ডিজিটাল বাণিজ্য বিষয়ক নানা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

শমী কায়সার করোনাকালে ডিজিটাল কমার্সের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে ডিজিটাল কমার্সকে শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


আরও খবর